১৯৭১ সালে মহান মুক্তিযুদ্ধ চলাকালীন পাকিস্তানি হানাদার বাহিনীর চালানো বর্বরোচিত গণহত্যার বিচার দাবিতে বাংলাদেশের দীর্ঘদিনের অনড় অবস্থানকে আনুষ্ঠানিক সমর্থন জানিয়েছে ভারত। শুক্রবার (২৭ মার্চ) ভারতের রাজধানী নয়াদিল্লিতে আয়োজিত এক বিশেষ ব্রিফিংয়ে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র রণধীর জয়সওয়াল স্পষ্ট ভাষায় জানান যে, একাত্তরের সেই ভয়াবহ ঘটনাগুলোকে কোনোভাবেই উপেক্ষা করার সুযোগ নেই। ১৯৭১ সালের ২৫শে মার্চের কালরাত ও ‘অপারেশন সার্চলাইট’-এর নারকীয়তা স্মরণ করে তিনি বলেন, পাকিস্তান সেনাবাহিনী যে নৃশংসতা চালিয়েছিল তা সম্পর্কে গোটা বিশ্ব আজ অবগত।
তিনি উল্লেখ করেন যে, ওই অভিযানে বাংলাদেশে লাখো নিরীহ মানুষকে হত্যা করা হয়েছে, নারীদের ওপর চালানো হয়েছে ব্যাপক যৌন সহিংসতা এবং প্রায় এক কোটি মানুষকে শরণার্থী হিসেবে ভারতে আশ্রয় নিতে বাধ্য করা হয়েছিল।
জয়সওয়াল গভীর আক্ষেপ প্রকাশ করে বলেন, “এই নৃশংসতা বিশ্ব বিবেককে নাড়িয়ে দিয়েছিল, কিন্তু অত্যন্ত দুর্ভাগ্যজনক যে পাকিস্তান আজও তাদের সেই অপরাধগুলো অস্বীকার করে যাচ্ছে। ন্যায়বিচারের আকাঙ্ক্ষায় ভারত সবসময় বাংলাদেশের পাশে আছে।” ঐতিহাসিক প্রেক্ষাপট টেনে প্রতিবেদনে বলা হয়, একাত্তরের ২৫শে মার্চ রাতে পাকিস্তানি বাহিনী ট্যাংক ও সাঁজোয়া বহর নিয়ে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়, রাজারবাগ পুলিশ লাইনস ও পিলখানাসহ বিভিন্ন স্থানে যে গণহত্যা চালিয়েছিল, তা ছিল পৃথিবীর ইতিহাসের অন্যতম ভয়াবহতম ঘটনা।
সেই রাতেই বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানকে গ্রেপ্তার করার আগে তিনি স্বাধীনতার ঘোষণা দিয়ে যান। ৯ মাসের রক্তক্ষয়ী যুদ্ধে ৩০ লাখ শহীদের আত্মদান এবং আড়াই লাখ মা-বোনের সম্ভ্রমহানির বিনিময়ে অর্জিত হয় চূড়ান্ত বিজয়। তৎকালীন আন্তর্জাতিক সংবাদমাধ্যমগুলোতেও পাকিস্তানি বাহিনীর এই ‘ঠাণ্ডা মাথার নিষ্ঠুরতা’র চিত্র ফুটে উঠেছিল।
এ বছর ‘গণহত্যা দিবস’ উপলক্ষে দেওয়া এক বাণীতে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান ২৫শে মার্চের ঘটনাকে একটি সুপরিকল্পিত হত্যাযজ্ঞ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তিনি তাঁর বাণীতে উল্লেখ করেন যে, তৎকালীন রাজনৈতিক নেতৃত্বের পক্ষ থেকে কেন এই হত্যাযজ্ঞ প্রতিরোধে দৃশ্যমান ভূমিকা নেওয়া গেল না, তা আজও ইতিহাসের গবেষণার বিষয়। এদিকে ভারতের পররাষ্ট্র দপ্তরের ব্রিফিংয়ে রণধীর জয়সওয়াল বাংলাদেশ-ভারত দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের ভবিষ্যৎ নিয়েও আশাবাদ ব্যক্ত করেন।
তিনি জানান, বাংলাদেশে গঠিত নতুন সরকারের সঙ্গে ভারত তাদের বহুমাত্রিক সম্পর্ক বজায় রাখার পাশাপাশি তা আরও শক্তিশালী ও সম্প্রসারিত করতে চায়। তিনি উল্লেখ করেন যে, ভারতের লোকসভার স্পিকার বাংলাদেশের নতুন সরকারের শপথ অনুষ্ঠানে অংশ নিয়েছেন এবং ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদী অভিনন্দনপত্রের মাধ্যমে দুই দেশের সম্পর্ক এগিয়ে নেওয়ার দৃষ্টিভঙ্গি তুলে ধরেছেন। বর্তমানে উভয় পক্ষের মধ্যে এ বিষয়ে গঠনমূলক আলোচনা চলছে।
রিপোর্টারের নাম 

























