ঢাকা ১২:৩৮ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

দেশজুড়ে হামের প্রকোপ: পহেলা বৈশাখের জনসমাগমে সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকি

বর্তমানে বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, যা আসন্ন পহেলা বৈশাখের ব্যাপক জনসমাগমকে কেন্দ্র করে আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত দেশজুড়ে ১৮ হাজারেরও বেশি মানুষ হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রাণ হারিয়েছেন ১৮৯ জন। অত্যন্ত ছোঁয়াচে এই বায়ুবাহিত রোগের এমন অস্বাভাবিক বিস্তারকে জনস্বাস্থ্যবিদরা বড় ধরনের ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে বর্ষবরণের উৎসবে মেলা ও শোভাযাত্রার মতো জমায়েতগুলোতে আক্রান্ত ব্যক্তি বা শিশুর মাধ্যমে দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, একজন হাম আক্রান্ত ব্যক্তি অনায়াসেই ১৬ থেকে ১৮ জন সুস্থ মানুষকে সংক্রমিত করতে সক্ষম।

হামের লক্ষণ হিসেবে জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে র‍্যাশ দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, র‍্যাশ ওঠার আগের কয়েকদিনও রোগী অত্যন্ত সংক্রামক থাকে। এই পরিস্থিতিতে হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. লেলিন চৌধুরী এবং আইইডিসিআর-এর উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন পরামর্শ দিয়েছেন যে, যাদের শরীরে সামান্য জ্বর বা সর্দি-কাশির উপসর্গ রয়েছে, তারা যেন কোনোভাবেই বৈশাখী উৎসবে না যান। বিশেষ করে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অসুস্থ শিশুদের ভিড়ের মধ্যে নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে এবং জনসমাগমস্থলে মাস্ক ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, উৎসবের আনন্দ যেন বিষাদে পরিণত না হয়, সেজন্য ব্যক্তিগত সচেতনতা এখন সবচেয়ে জরুরি। পহেলা বৈশাখের মতো বড় উৎসবে হামের উচ্চ প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে আক্রান্তদের আইসোলেশন বা আলাদা রাখা এবং সাধারণ মানুষকে ভিড় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান এই সংকটাপন্ন স্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে সরকারি ও সামাজিক পর্যায়ে ব্যাপক সচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া সংক্রমণের এই চেইন ভাঙা অত্যন্ত কঠিন হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পরিবারের সদস্যদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রধানমন্ত্রীর নতুন বাসভবন: মাটির নিচে অত্যাধুনিক বাংকার ও টানেল নির্মাণের পরিকল্পনা

দেশজুড়ে হামের প্রকোপ: পহেলা বৈশাখের জনসমাগমে সংক্রমণের উচ্চ ঝুঁকি

আপডেট সময় : ১০:৫৮:০১ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

বর্তমানে বাংলাদেশে হামের প্রাদুর্ভাব ভয়াবহ রূপ নিয়েছে, যা আসন্ন পহেলা বৈশাখের ব্যাপক জনসমাগমকে কেন্দ্র করে আরও উদ্বেগজনক হয়ে উঠেছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের তথ্যানুযায়ী, গত ১৫ মার্চ থেকে ১২ এপ্রিল পর্যন্ত দেশজুড়ে ১৮ হাজারেরও বেশি মানুষ হাম ও এর উপসর্গে আক্রান্ত হয়েছেন এবং প্রাণ হারিয়েছেন ১৮৯ জন। অত্যন্ত ছোঁয়াচে এই বায়ুবাহিত রোগের এমন অস্বাভাবিক বিস্তারকে জনস্বাস্থ্যবিদরা বড় ধরনের ঝুঁকি হিসেবে দেখছেন। বিশেষ করে বর্ষবরণের উৎসবে মেলা ও শোভাযাত্রার মতো জমায়েতগুলোতে আক্রান্ত ব্যক্তি বা শিশুর মাধ্যমে দ্রুত সংক্রমণ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। চিকিৎসকদের মতে, একজন হাম আক্রান্ত ব্যক্তি অনায়াসেই ১৬ থেকে ১৮ জন সুস্থ মানুষকে সংক্রমিত করতে সক্ষম।

হামের লক্ষণ হিসেবে জ্বর, কাশি, চোখ লাল হওয়া এবং শরীরে লালচে র‍্যাশ দেখা দেয়। বিশেষজ্ঞরা সতর্ক করেছেন যে, র‍্যাশ ওঠার আগের কয়েকদিনও রোগী অত্যন্ত সংক্রামক থাকে। এই পরিস্থিতিতে হেলথ অ্যান্ড হোপ হাসপাতালের চেয়ারম্যান ডা. লেলিন চৌধুরী এবং আইইডিসিআর-এর উপদেষ্টা ডা. মুশতাক হোসেন পরামর্শ দিয়েছেন যে, যাদের শরীরে সামান্য জ্বর বা সর্দি-কাশির উপসর্গ রয়েছে, তারা যেন কোনোভাবেই বৈশাখী উৎসবে না যান। বিশেষ করে শিশুদের সুরক্ষা নিশ্চিত করতে অসুস্থ শিশুদের ভিড়ের মধ্যে নেওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে এবং জনসমাগমস্থলে মাস্ক ব্যবহারের ওপর গুরুত্বারোপ করেছেন তারা।

জনস্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা মনে করেন, উৎসবের আনন্দ যেন বিষাদে পরিণত না হয়, সেজন্য ব্যক্তিগত সচেতনতা এখন সবচেয়ে জরুরি। পহেলা বৈশাখের মতো বড় উৎসবে হামের উচ্চ প্রাদুর্ভাব নিয়ন্ত্রণে রাখতে হলে আক্রান্তদের আইসোলেশন বা আলাদা রাখা এবং সাধারণ মানুষকে ভিড় এড়িয়ে চলার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে। বর্তমান এই সংকটাপন্ন স্বাস্থ্য পরিস্থিতিতে সরকারি ও সামাজিক পর্যায়ে ব্যাপক সচেতনতা বৃদ্ধি ছাড়া সংক্রমণের এই চেইন ভাঙা অত্যন্ত কঠিন হবে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। শিশুদের স্বাস্থ্য সুরক্ষায় পরিবারের সদস্যদের বাড়তি সতর্কতা অবলম্বনের তাগিদ দিয়েছেন সংশ্লিষ্টরা।