ঢাকা ০৮:৪৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

ইরান-ইসরায়েল সংঘাত: হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে পড়বে ভারত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৯:৩২:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র অক্ষশক্তির মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। যদিও ভারত এই দ্বন্দ্বে সরাসরি কোনো পক্ষ নেয়নি, তবে হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে ভারতের মতো উদীয়মান অর্থনীতিগুলো চরম ক্ষতির মুখে পড়বে। বিশেষ করে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ হিসেবে ভারতের জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সরাসরি এই নৌপথের ওপর নির্ভরশীল। বিশ্বের মোট সমুদ্রজাত তেলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই সংকীর্ণ পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, যার ওপর ভারতের নির্ভরতা অপরিসীম।

ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই আমদানি করে। প্রতিদিন প্রায় ২৫ লাখ ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে ভারতে পৌঁছায়। বিশ্লেষকদের মতে, এই পথ বন্ধ হলে কেবল জ্বালানি সংকটই নয়, বরং ভারতের কৃষি খাতও বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। ভারত বছরে ৯০ লাখ টনের বেশি ইউরিয়া আমদানি করে, যার অর্ধেকই আসে ওমান ও সৌদি আরবের মতো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে।

ভারতের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সার, যেমন ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) এবং পটাশের বড় অংশই এই পথ দিয়ে আসে। বিকল্প উৎস খুঁজলেও দেশের অভ্যন্তরে সার উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করা ভারতের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ পরিস্থিতি ভারতের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও জাতীয় অর্থনীতিতে এক দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পারমাণবিক ইস্যু অজুহাত, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইরান

ইরান-ইসরায়েল সংঘাত: হরমুজ প্রণালি বন্ধ হলে বড় ধরনের অর্থনৈতিক ঝুঁকিতে পড়বে ভারত

আপডেট সময় : ০৯:৩২:২৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২৭ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যে ইরান ও ইসরায়েল-যুক্তরাষ্ট্র অক্ষশক্তির মধ্যে ক্রমবর্ধমান উত্তেজনা বিশ্ব অর্থনীতিতে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে। যদিও ভারত এই দ্বন্দ্বে সরাসরি কোনো পক্ষ নেয়নি, তবে হরমুজ প্রণালি দীর্ঘ সময় বন্ধ থাকলে ভারতের মতো উদীয়মান অর্থনীতিগুলো চরম ক্ষতির মুখে পড়বে। বিশেষ করে বিশ্বের সবচেয়ে জনবহুল দেশ হিসেবে ভারতের জ্বালানি ও খাদ্য নিরাপত্তা সরাসরি এই নৌপথের ওপর নির্ভরশীল। বিশ্বের মোট সমুদ্রজাত তেলের প্রায় এক-তৃতীয়াংশ এই সংকীর্ণ পথ দিয়ে পরিবাহিত হয়, যার ওপর ভারতের নির্ভরতা অপরিসীম।

ভারত তার প্রয়োজনীয় অপরিশোধিত তেলের প্রায় ৯০ শতাংশই আমদানি করে। প্রতিদিন প্রায় ২৫ লাখ ব্যারেল তেল হরমুজ প্রণালি দিয়ে ভারতে পৌঁছায়। বিশ্লেষকদের মতে, এই পথ বন্ধ হলে কেবল জ্বালানি সংকটই নয়, বরং ভারতের কৃষি খাতও বড় বিপর্যয়ের মুখে পড়বে। ভারত বছরে ৯০ লাখ টনের বেশি ইউরিয়া আমদানি করে, যার অর্ধেকই আসে ওমান ও সৌদি আরবের মতো মধ্যপ্রাচ্যের দেশগুলো থেকে।

ভারতের খাদ্য নিরাপত্তার জন্য প্রয়োজনীয় রাসায়নিক সার, যেমন ডাই অ্যামোনিয়াম ফসফেট (ডিএপি) এবং পটাশের বড় অংশই এই পথ দিয়ে আসে। বিকল্প উৎস খুঁজলেও দেশের অভ্যন্তরে সার উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয় প্রাকৃতিক গ্যাসের সরবরাহ নিশ্চিত করা ভারতের জন্য কঠিন হয়ে পড়বে। ফলে মধ্যপ্রাচ্যের এই যুদ্ধ পরিস্থিতি ভারতের সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রা ও জাতীয় অর্থনীতিতে এক দীর্ঘমেয়াদী নেতিবাচক প্রভাব ফেলতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।