সামরিক ইতিহাসের পাতায় সাধারণত বীরত্ব ও রণকৌশলের মহাকাব্য স্থান পায়, তবে ১৯৬২ সালের ভারত-চীন যুদ্ধ এক করুণ ও ভিন্নধর্মী অধ্যায়ের সাক্ষী। এটি কেবল দুই দেশের সীমান্ত সংঘাত ছিল না, বরং এটি ছিল পেশাদারত্বের পরিবর্তে ব্যক্তিগত আনুগত্য ও রাজনৈতিক তোষণকে প্রাধান্য দেওয়ার এক চরম ব্যর্থতার দলিল। যখন কোনো রাষ্ট্রের শীর্ষ নেতৃত্ব মেধার চেয়ে আত্মীয়তা ও চাটুকারিতাকে সামরিক উচ্চপদে বসানোর মানদণ্ড হিসেবে বেছে নেয়, তখন তার ফল কেবল যুদ্ধক্ষেত্রে পরাজয় নয়, বরং জাতীয় মর্যাদার অবক্ষয় ঘটায়। হিমালয়ের সেই বিপর্যয় বর্তমান সময়ের উদীয়মান রাষ্ট্রগুলোর সামরিক ও রাজনৈতিক কাঠামোর জন্য এক কালজয়ী সতর্কবার্তা হয়ে আছে।
তৎকালীন ভারতীয় প্রধানমন্ত্রী জওহরলাল নেহেরু চীনের বিরুদ্ধে ‘ফরোয়ার্ড পলিসি’ বা সম্মুখ অগ্রসর নীতির পথে হাঁটার সিদ্ধান্ত নেন। তবে অভিজ্ঞ জেনারেলদের বাস্তবসম্মত পরামর্শ উপেক্ষা করে তিনি সামরিক জ্যেষ্ঠতার নিয়ম লঙ্ঘন করেন। নেহেরু তার ঘনিষ্ঠ আত্মীয় লে. জেনারেল বিএম কাউলকে গুরুত্বপূর্ণ কমান্ডের দায়িত্ব দেন, যা সামরিক ইতিহাসে এক বিস্ময়কর ও বিতর্কিত ঘটনা হিসেবে চিহ্নিত। তৎকালীন সেনাপ্রধান জেনারেল পিএন থাপর এই নিয়োগের তীব্র বিরোধিতা করলেও রাজনৈতিক প্রভাবে কাউল তার পদে আসীন থাকেন।
জেনারেল কাউলের পুরো ক্যারিয়ারে কোনো সম্মুখ যুদ্ধ বা লড়াইরত ইউনিট পরিচালনার অভিজ্ঞতা ছিল না। অথচ রণক্ষেত্রের অভিজ্ঞতা ছাড়াই তিনি কেবল রাজনৈতিক আনুকূল্যে সর্বোচ্চ সম্মাননা ও পদমর্যাদা লাভ করেন। ঐতিহাসিকদের মতে, তার মৌলিক রণকৌশলগত জ্ঞানের অভাব ভারতকে এক জাতীয় নিরাপত্তা বিপর্যয়ের দিকে ঠেলে দিয়েছিল। পেশাদারত্বের অবমাননা ও স্বজনপ্রীতির এই সংস্কৃতি শেষ পর্যন্ত ভারতকে এক ঐতিহাসিক পরাজয়ের গ্লানি উপহার দেয়।
রিপোর্টারের নাম 

























