ঢাকা ০৯:৫৯ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

ইরানকে সামরিক ড্রোন, খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহ করছে রাশিয়া: পশ্চিমা বিশ্বে উদ্বেগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৭:৪১:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানকে সামরিক ড্রোন, খাদ্য ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করছে রাশিয়া। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে, যা পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মাস থেকেই মস্কো ইরানকে ড্রোনের চালান পাঠানো শুরু করেছে এবং মাসের শেষ নাগাদ এই সরঞ্জামগুলির পর্যায়ক্রমিক সরবরাহ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটিই তেহরানের কাছে রাশিয়ার পাঠানো প্রথম প্রাণঘাতী অস্ত্রের চালান। এর আগে ক্রেমলিন তাদের এই মিত্রদেশটিকে গোয়েন্দা তথ্য এবং স্যাটেলাইট ইমেজের মাধ্যমে সহায়তা প্রদান করে আসছিল।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৩ সাল থেকে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য ইরানি নকশার ড্রোন তৈরি করে আসলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা পাল্টা ড্রোন সরবরাহ করে ইরানকে সহায়তা করছে। এই সামরিক সরঞ্জামগুলো মূলত ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে এবং যুদ্ধের ময়দানে তেহরানের অবস্থান সুসংহত করতে ব্যবহৃত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় ক্রেমলিনের একজন মুখপাত্র সরাসরি ড্রোন সরবরাহের বিষয়টি স্বীকার করেননি। তিনি জানান, বর্তমানে অনেক ধরনের ‘ভুয়া খবর’ ছড়িয়ে পড়ছে, তবে ইরানি নেতৃত্বের সঙ্গে রাশিয়ার সংলাপ অব্যাহত রয়েছে। তার এই বক্তব্য মস্কো ও তেহরানের মধ্যকার কৌশলগত সম্পর্কের গভীরতাকেই ইঙ্গিত করে।

সাম্প্রতিক সময়ে কাস্পিয়ান সাগরে ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েল যে হামলা চালিয়েছে, তার মূল উদ্দেশ্য ছিল রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে এই ধরনের সামরিক ও লজিস্টিক সরঞ্জাম আদান-প্রদান ব্যাহত করা। গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, কাস্পিয়ান সাগরের রুটটি এই দুই দেশের মধ্যে পণ্য ও অস্ত্র স্থানান্তরের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ইসরায়েলি বাহিনী মনে করছে যে, রাশিয়ার এই ড্রোন ও অন্যান্য কারিগরি সহায়তা ইরানকে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে টিকে থাকতে সাহায্য করবে, যা পুরো অঞ্চলের যুদ্ধের সমীকরণ বদলে দিতে পারে। মস্কো ইরানকে কেবল অস্ত্রই নয়, বরং দেশটির ক্রমবর্ধমান মানবিক সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় খাদ্য ও জরুরি ওষুধও পাঠাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানকে সামরিক ড্রোন, খাদ্য ও ওষুধ সরবরাহ করছে রাশিয়া: পশ্চিমা বিশ্বে উদ্বেগ

আপডেট সময় : ০৭:৪১:৫১ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েলের সঙ্গে চলমান উত্তেজনার মধ্যে ইরানকে সামরিক ড্রোন, খাদ্য ও ক্ষেপণাস্ত্র দিয়ে সহযোগিতা করছে রাশিয়া। ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম ফিন্যান্সিয়াল টাইমস-এর এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে, যা পশ্চিমা দেশগুলোর মধ্যে নতুন উদ্বেগের সৃষ্টি করেছে।

প্রতিবেদন অনুযায়ী, চলতি মাস থেকেই মস্কো ইরানকে ড্রোনের চালান পাঠানো শুরু করেছে এবং মাসের শেষ নাগাদ এই সরঞ্জামগুলির পর্যায়ক্রমিক সরবরাহ সম্পন্ন হবে বলে আশা করা হচ্ছে। গত ২৮ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেন যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর এটিই তেহরানের কাছে রাশিয়ার পাঠানো প্রথম প্রাণঘাতী অস্ত্রের চালান। এর আগে ক্রেমলিন তাদের এই মিত্রদেশটিকে গোয়েন্দা তথ্য এবং স্যাটেলাইট ইমেজের মাধ্যমে সহায়তা প্রদান করে আসছিল।

ফিন্যান্সিয়াল টাইমসের প্রতিবেদনে আরও উল্লেখ করা হয়েছে যে, ২০২৩ সাল থেকে রাশিয়া ইউক্রেন যুদ্ধের জন্য ইরানি নকশার ড্রোন তৈরি করে আসলেও, বর্তমান পরিস্থিতিতে তারা পাল্টা ড্রোন সরবরাহ করে ইরানকে সহায়তা করছে। এই সামরিক সরঞ্জামগুলো মূলত ইরানের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা শক্তিশালী করতে এবং যুদ্ধের ময়দানে তেহরানের অবস্থান সুসংহত করতে ব্যবহৃত হবে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এই প্রতিবেদনের প্রতিক্রিয়ায় ক্রেমলিনের একজন মুখপাত্র সরাসরি ড্রোন সরবরাহের বিষয়টি স্বীকার করেননি। তিনি জানান, বর্তমানে অনেক ধরনের ‘ভুয়া খবর’ ছড়িয়ে পড়ছে, তবে ইরানি নেতৃত্বের সঙ্গে রাশিয়ার সংলাপ অব্যাহত রয়েছে। তার এই বক্তব্য মস্কো ও তেহরানের মধ্যকার কৌশলগত সম্পর্কের গভীরতাকেই ইঙ্গিত করে।

সাম্প্রতিক সময়ে কাস্পিয়ান সাগরে ইরানি লক্ষ্যবস্তুতে ইসরায়েল যে হামলা চালিয়েছে, তার মূল উদ্দেশ্য ছিল রাশিয়া ও ইরানের মধ্যে এই ধরনের সামরিক ও লজিস্টিক সরঞ্জাম আদান-প্রদান ব্যাহত করা। গোয়েন্দা তথ্যানুযায়ী, কাস্পিয়ান সাগরের রুটটি এই দুই দেশের মধ্যে পণ্য ও অস্ত্র স্থানান্তরের প্রধান মাধ্যম হিসেবে ব্যবহৃত হচ্ছে। ইসরায়েলি বাহিনী মনে করছে যে, রাশিয়ার এই ড্রোন ও অন্যান্য কারিগরি সহায়তা ইরানকে দীর্ঘমেয়াদী যুদ্ধে টিকে থাকতে সাহায্য করবে, যা পুরো অঞ্চলের যুদ্ধের সমীকরণ বদলে দিতে পারে। মস্কো ইরানকে কেবল অস্ত্রই নয়, বরং দেশটির ক্রমবর্ধমান মানবিক সংকট মোকাবিলায় প্রয়োজনীয় খাদ্য ও জরুরি ওষুধও পাঠাচ্ছে বলে প্রতিবেদনে দাবি করা হয়েছে।