ঢাকা ০১:৩১ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধের পদক্ষেপ চরম সীমা অতিক্রম করেছে: জিসিসি মহাসচিব

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৬:২০:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) মহাসচিব জাসেম মোহামেদ আল বুদাইওয়ি ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর সরাসরি হামলা চালানোর মাধ্যমে ইরান সকল প্রকার সীমারেখা অতিক্রম করেছে। জিসিসি মহাসচিব এই কর্মকাণ্ডকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত জিসিসির এক বৈঠকে আল বুদাইওয়ি বলেন, ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়ে সেখানে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর শুল্ক আরোপ করেছে। এটি জিসিসি দেশগুলোর ওপর সরাসরি আগ্রাসন এবং সমুদ্র আইন সংক্রান্ত জাতিসংঘ চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই সংকটের কারণে বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজ অপহরণ ও হামলার শিকার হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

জিসিসি মহাসচিব জিসিসি দেশগুলোর বৈশ্বিক গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, এই দেশগুলো বিশ্বের ‘অর্থনৈতিক ফুসফুস’ হিসেবে পরিচিত। তারা প্রতিদিন ১৬ বিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করে, যা বিশ্বের মোট উৎপাদনের ২২ শতাংশ। এছাড়া, এই দেশগুলো বিশ্ববাজারে দৈনিক প্রায় ১১.৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল রপ্তানি করে, যা বিশ্ব অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ ব্যবস্থা। ইরানের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড এই গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

জিসিসি মনে করে, ইরানের এই হামলাগুলো কেবল আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধিই করছে না, বরং জিসিসি ও ইরানের মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের বাঁক বদল ঘটিয়েছে। আল বুদাইওয়ি অভিযোগ করেন যে, ইরান উদ্দেশ্যমূলকভাবে জিসিসি দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে এবং সরাসরি বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সাধারণ নাগরিক ও বাসিন্দারা প্রাণ হারাচ্ছেন বলে তিনি জানান।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানির ‘জ্বালা’: সংকট ও লুণ্ঠনমূলক কাঠামোর প্রভাব

ইরানের হরমুজ প্রণালি বন্ধের পদক্ষেপ চরম সীমা অতিক্রম করেছে: জিসিসি মহাসচিব

আপডেট সময় : ০৬:২০:৪২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

উপসাগরীয় সহযোগিতা পরিষদের (জিসিসি) মহাসচিব জাসেম মোহামেদ আল বুদাইওয়ি ইরানের বিরুদ্ধে কঠোর মন্তব্য করেছেন। তিনি বলেন, হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়া এবং প্রতিবেশী দেশগুলোর ওপর সরাসরি হামলা চালানোর মাধ্যমে ইরান সকল প্রকার সীমারেখা অতিক্রম করেছে। জিসিসি মহাসচিব এই কর্মকাণ্ডকে আন্তর্জাতিক আইনের চরম লঙ্ঘন হিসেবে অভিহিত করেছেন।

সৌদি আরবের রিয়াদে অনুষ্ঠিত জিসিসির এক বৈঠকে আল বুদাইওয়ি বলেন, ইরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দিয়ে সেখানে চলাচলকারী জাহাজগুলোর ওপর শুল্ক আরোপ করেছে। এটি জিসিসি দেশগুলোর ওপর সরাসরি আগ্রাসন এবং সমুদ্র আইন সংক্রান্ত জাতিসংঘ চুক্তির স্পষ্ট লঙ্ঘন। তিনি আরও উল্লেখ করেন যে, এই সংকটের কারণে বেশ কয়েকটি বাণিজ্যিক জাহাজ অপহরণ ও হামলার শিকার হয়েছে, যা আন্তর্জাতিক নৌ-চলাচল ব্যবস্থাকে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত করেছে।

জিসিসি মহাসচিব জিসিসি দেশগুলোর বৈশ্বিক গুরুত্বের ওপর জোর দিয়ে বলেন, এই দেশগুলো বিশ্বের ‘অর্থনৈতিক ফুসফুস’ হিসেবে পরিচিত। তারা প্রতিদিন ১৬ বিলিয়ন ব্যারেল অপরিশোধিত তেল উৎপাদন করে, যা বিশ্বের মোট উৎপাদনের ২২ শতাংশ। এছাড়া, এই দেশগুলো বিশ্ববাজারে দৈনিক প্রায় ১১.৫ বিলিয়ন ব্যারেল তেল রপ্তানি করে, যা বিশ্ব অর্থনীতির একটি গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ ব্যবস্থা। ইরানের উসকানিমূলক কর্মকাণ্ড এই গুরুত্বপূর্ণ সরবরাহ ব্যবস্থাকে ঝুঁকির মুখে ফেলেছে।

জিসিসি মনে করে, ইরানের এই হামলাগুলো কেবল আঞ্চলিক উত্তেজনা বৃদ্ধিই করছে না, বরং জিসিসি ও ইরানের মধ্যকার সম্পর্কের ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের বাঁক বদল ঘটিয়েছে। আল বুদাইওয়ি অভিযোগ করেন যে, ইরান উদ্দেশ্যমূলকভাবে জিসিসি দেশগুলোকে লক্ষ্যবস্তু বানাচ্ছে এবং সরাসরি বেসামরিক স্থাপনায় হামলা চালাচ্ছে। ইরানের ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলায় সাধারণ নাগরিক ও বাসিন্দারা প্রাণ হারাচ্ছেন বলে তিনি জানান।