২০২৪ সালের ৫ আগস্টের পটপরিবর্তনের পর থেকে রাষ্ট্রপতির পদ নিয়ে শুরু হওয়া দীর্ঘ নাটকীয়তার অবসান হতে যাচ্ছে বলে রাজনৈতিক মহলে গুঞ্জন শুরু হয়েছে। যদিও অন্তর্বর্তী সরকার এবং তৎকালীন রাজপথের প্রধান শক্তি বিএনপি সাংবিধানিক স্থিতিশীলতার স্বার্থে রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনকে অপসারণে সায় দেয়নি, তবে বর্তমান প্রেক্ষাপটে তার পূর্ণ মেয়াদ শেষ করা নিয়ে প্রবল সংশয় রয়েছে। চলতি বছরের ১২ ফেব্রুয়ারি বিএনপি দুই-তৃতীয়াংশ সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে সরকার গঠনের পর থেকেই পরবর্তী রাষ্ট্রপতি হিসেবে দলের চার বর্ষীয়ান নেতার নাম জোরালোভাবে আলোচনায় এসেছে।
পরবর্তী রাষ্ট্রপতির আলোচনায় যারা রয়েছেন
বিএনপি দলীয় এবং রাজনৈতিক সূত্রগুলোর মতে, দলের বাইরে থেকে কাউকে রাষ্ট্রপতি করার সম্ভাবনা নেই বললেই চলে। বর্তমানে চারজন সিনিয়র নেতাকে ঘিরে সবচেয়ে বেশি আলোচনা চলছে:
- মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর: বিএনপির দীর্ঘদিনের মহাসচিব এবং বর্তমান সরকারের স্থানীয় সরকার মন্ত্রী। আন্দোলন-সংগ্রামে তার ত্যাগ ও ‘ক্লিন ইমেজ’-এর কারণে তিনি হাইকমান্ডের পছন্দের তালিকায় শীর্ষে রয়েছেন। তবে রাষ্ট্রপতি হওয়ার আকাঙ্ক্ষা নিয়ে করা এক প্রশ্নে তিনি এটিকে ভাগ্যের ওপর ছেড়ে দিয়েছেন।
- ব্যারিস্টার জমিরউদ্দিন সরকার: সাবেক স্পিকার এবং দলের স্থায়ী কমিটির সদস্য। ২০০১-২০০৬ মেয়াদে তিনি অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেছেন। আইন ও সংসদীয় বিষয়ে তার অগাধ পাণ্ডিত্য তাকে এই পদের জন্য একজন শক্তিশালী প্রার্থী করে তুলেছে।
- ড. খন্দকার মোশাররফ হোসেন: বিএনপির স্থায়ী কমিটির এই জ্যেষ্ঠ সদস্য একাধিকবার মন্ত্রিসভায় গুরুত্বপূর্ণ দায়িত্ব পালন করেছেন। বর্তমান সরকারের কোনো পদে তাকে না রাখাটা অনেকের মতে বড় কোনো পদের (রাষ্ট্রপতি) জন্য তাকে ‘রিজার্ভ’ রাখার ইঙ্গিত।
- ড. আব্দুল মঈন খান: দলের পরিচ্ছন্ন ভাবমূর্তির এই নেতা আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে সুপরিচিত। তিনিও বর্তমান সরকারের কোনো প্রশাসনিক দায়িত্বে নেই, যা তার রাষ্ট্রপতি হওয়ার সম্ভাবনাকে বাড়িয়ে দিয়েছে।
বর্তমান রাষ্ট্রপতির অবস্থান ও আইনি প্রক্রিয়া
সংবিধান অনুযায়ী রাষ্ট্রপতির স্বাভাবিক মেয়াদ ৫ বছর। মো. সাহাবুদ্দিন ২০২৩ সালের এপ্রিলে দায়িত্ব নিয়েছেন, সে হিসেবে ২০২৮ সাল পর্যন্ত তার মেয়াদ থাকলেও তিনি ব্যক্তিগতভাবে ‘অপদস্থ’ বোধ করায় সরে যেতে পারেন বলে গুঞ্জন আছে।
- নির্বাচন পদ্ধতি: সংসদীয় পদ্ধতিতে রাষ্ট্রপতি সংসদ সদস্যদের পরোক্ষ ভোটে নির্বাচিত হন। বর্তমানে বিএনপি নিরঙ্কুশ সংখ্যাগরিষ্ঠতায় থাকায় তারা যাকে মনোনয়ন দেবে, তিনিই হবেন পরবর্তী রাষ্ট্রপতি।
- পদ শূন্য হওয়ার শর্ত: মৃত্যু, পদত্যাগ বা অভিশংসনের মাধ্যমে পদ শূন্য হলে নির্বাচন কমিশন ৬০ থেকে ৯০ দিনের মধ্যে নতুন নির্বাচনের আয়োজন করে। পদ শূন্য থাকা অবস্থায় স্পিকার অস্থায়ী রাষ্ট্রপতির দায়িত্ব পালন করেন।
বিএনপির কৌশল
বিএনপির নীতিনির্ধারকদের মতে, বর্তমান রাষ্ট্রপতিকে এখনই জোরপূর্বক অপসারণের চেয়ে সাংবিধানিক প্রক্রিয়ায় পরিবর্তনের দিকেই সরকারের নজর বেশি। তবে দলের তৃণমূল এবং রাজপথের একটি বড় অংশ মনে করে, বিগত সরকারের নিয়োগপ্রাপ্ত রাষ্ট্রপতির অধীনে দীর্ঘ সময় কাজ করা অস্বস্তিকর। তাই সুবিধাজনক সময়ে মো. সাহাবুদ্দিন পদত্যাগ করলে উল্লিখিত চার নেতার মধ্য থেকেই একজনকে বঙ্গভবনের জন্য বেছে নেওয়া হতে পারে। আপাতত সরকার ও রাষ্ট্রপতি মো. সাহাবুদ্দিনের মধ্যে সম্পর্ক স্বাভাবিক দেখা গেলেও, পর্দার অন্তরালে নতুন রাষ্ট্রপ্রধান নির্বাচনের প্রস্তুতি চলছে বলে রাজনৈতিক বিশ্লেষকরা মনে করছেন।
রিপোর্টারের নাম 





















