ঢাকা ০১:৩২ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ: এশিয়ার জ্বালানি সংকট ও জনজীবনে প্রভাব

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৫:১৭:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
  • ৩ বার পড়া হয়েছে

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলোতে এর প্রভাব পড়েছে সুদূরপ্রসারী, যা সেখানকার দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হয়। এই জলপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে এবং শেয়ারবাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। কবে নাগাদ ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি খুলে দেবে, সেই দিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব। বর্তমানে সীমিত সংখ্যক জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচল করছে। এছাড়াও, এই অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলার কারণে জ্বালানির দাম আরও বাড়ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে এশিয়ায়। কারণ এশিয়ার দেশগুলো তাদের মোট অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের ৯০ শতাংশই হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে আমদানি করে।

এই সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের সরকার কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) অনুমতি দিচ্ছে, কর্মসপ্তাহ কমানো হচ্ছে, জাতীয় ছুটি ঘোষণা করা হচ্ছে এবং অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি চীনের মতো দেশ, যাদের তিন মাসের আমদানিThe amount of fuel reserves is believed to be available, also facing challenges in managing the situation. The 20% increase in fuel prices has directly impacted Chinese citizens.

যুদ্ধ হাজার হাজার মাইল দূরে সংঘটিত হলেও এর বাস্তব প্রভাব যে এশিয়ার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে পড়ছে, তা বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অনেকেই জানিয়েছেন।

ভারত: মধ্যপ্রাচ্যে গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া সংঘাতের প্রভাব ভারতেও বিশেষভাবে অনুভূত হচ্ছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে বসবাসকারী প্রায় এক কোটি ভারতীয় এই যুদ্ধের পরিণতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তবে তাদের নিজ দেশেও এর প্রভাব স্পষ্ট। তেল ও গ্যাসের ঘাটতি একদিকে যেমন ঘরে ঘরে, তেমনই ব্যবসার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করেছে।

ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য গুজরাটের সিরামিক শিল্প এই সংকটে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই মাসের বেশিরভাগ সময় ধরে কারখানাগুলো বন্ধ রাখতে হয়েছে, যার মূল কারণ তেলের অভাব নয়, বরং গ্যাসের ঘাটতি। ইরানে যুদ্ধের প্রভাব এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত প্রায় চার লক্ষ মানুষের ওপর পড়েছে। পেশায় পরিযায়ী শ্রমিক শচীন পরাশর এক স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “আমি যদি এখানে কাজ ছাড়াই থাকি তাহলে আমাকে না খেয়ে থাকতে হবে।” যারা এই পরিস্থিতিতেও গুজরাটে থেকে গেছেন, তারা এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি হচ্ছেন। টাইলস তৈরির কারখানায় কর্মরত আরেক পরিযায়ী শ্রমিক ভূমি কুমার বলছিলেন, “মালিক আমা…” (বাক্যটি অসম্পূর্ণ)

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

জ্বালানির ‘জ্বালা’: সংকট ও লুণ্ঠনমূলক কাঠামোর প্রভাব

ইরান-ইসরাইল যুদ্ধ: এশিয়ার জ্বালানি সংকট ও জনজীবনে প্রভাব

আপডেট সময় : ০৫:১৭:১৭ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরাইলের সঙ্গে ইরানের যুদ্ধ শুরু হওয়ার পর তেহরান হরমুজ প্রণালি বন্ধ করে দেওয়ার ঘোষণা দিলে বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট তীব্র আকার ধারণ করেছে। বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলোতে এর প্রভাব পড়েছে সুদূরপ্রসারী, যা সেখানকার দৈনন্দিন জীবনযাত্রাকে বিপর্যস্ত করে তুলেছে।

হরমুজ প্রণালি দিয়ে বিশ্বের প্রায় ২০ শতাংশ অপরিশোধিত তেল পরিবহন করা হয়। এই জলপথ বন্ধ হয়ে যাওয়ায় তেলের দাম আকাশচুম্বী হয়েছে এবং শেয়ারবাজারে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে। কবে নাগাদ ইরান এই গুরুত্বপূর্ণ নৌপথটি খুলে দেবে, সেই দিকেই তাকিয়ে আছে বিশ্ব। বর্তমানে সীমিত সংখ্যক জাহাজ এই পথ দিয়ে চলাচল করছে। এছাড়াও, এই অঞ্চলের জ্বালানি অবকাঠামোর ওপর হামলার কারণে জ্বালানির দাম আরও বাড়ছে, যার নেতিবাচক প্রভাব সবচেয়ে বেশি অনুভূত হচ্ছে এশিয়ায়। কারণ এশিয়ার দেশগুলো তাদের মোট অপরিশোধিত তেল ও গ্যাসের ৯০ শতাংশই হরমুজ প্রণালির মাধ্যমে আমদানি করে।

এই সংকট মোকাবিলায় বিভিন্ন দেশের সরকার কর্মীদের বাড়ি থেকে কাজ করার (ওয়ার্ক ফ্রম হোম) অনুমতি দিচ্ছে, কর্মসপ্তাহ কমানো হচ্ছে, জাতীয় ছুটি ঘোষণা করা হচ্ছে এবং অনেক বিশ্ববিদ্যালয়ও বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। এমনকি চীনের মতো দেশ, যাদের তিন মাসের আমদানিThe amount of fuel reserves is believed to be available, also facing challenges in managing the situation. The 20% increase in fuel prices has directly impacted Chinese citizens.

যুদ্ধ হাজার হাজার মাইল দূরে সংঘটিত হলেও এর বাস্তব প্রভাব যে এশিয়ার সাধারণ মানুষের দৈনন্দিন জীবনে পড়ছে, তা বিবিসিকে দেওয়া সাক্ষাৎকারে অনেকেই জানিয়েছেন।

ভারত: মধ্যপ্রাচ্যে গত ফেব্রুয়ারির শেষ দিকে শুরু হওয়া সংঘাতের প্রভাব ভারতেও বিশেষভাবে অনুভূত হচ্ছে। উপসাগরীয় অঞ্চলে বসবাসকারী প্রায় এক কোটি ভারতীয় এই যুদ্ধের পরিণতির সঙ্গে সরাসরি জড়িত। তবে তাদের নিজ দেশেও এর প্রভাব স্পষ্ট। তেল ও গ্যাসের ঘাটতি একদিকে যেমন ঘরে ঘরে, তেমনই ব্যবসার ক্ষেত্রেও বড় ধরনের সমস্যা তৈরি করেছে।

ভারতের পশ্চিমাঞ্চলীয় রাজ্য গুজরাটের সিরামিক শিল্প এই সংকটে মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। এই মাসের বেশিরভাগ সময় ধরে কারখানাগুলো বন্ধ রাখতে হয়েছে, যার মূল কারণ তেলের অভাব নয়, বরং গ্যাসের ঘাটতি। ইরানে যুদ্ধের প্রভাব এই শিল্পের সঙ্গে জড়িত প্রায় চার লক্ষ মানুষের ওপর পড়েছে। পেশায় পরিযায়ী শ্রমিক শচীন পরাশর এক স্থানীয় সংবাদমাধ্যমকে জানিয়েছেন, “আমি যদি এখানে কাজ ছাড়াই থাকি তাহলে আমাকে না খেয়ে থাকতে হবে।” যারা এই পরিস্থিতিতেও গুজরাটে থেকে গেছেন, তারা এক অনিশ্চিত ভবিষ্যতের মুখোমুখি হচ্ছেন। টাইলস তৈরির কারখানায় কর্মরত আরেক পরিযায়ী শ্রমিক ভূমি কুমার বলছিলেন, “মালিক আমা…” (বাক্যটি অসম্পূর্ণ)