ঢাকা ১০:০৩ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

একাত্তরের অগ্নিঝরা ২৩ মার্চ: পাকিস্তান দিবসের বদলে প্রতিরোধ ও স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৪১:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

প্রতি বছর ২৩ মার্চ দিনটি ‘পাকিস্তান দিবস’ হিসেবে পালিত হলেও, ১৯৭১ সালের এই দিনে তা পরিণত হয়েছিল এক অগ্নিঝরা প্রতিরোধ দিবসে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া অসহযোগ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় সেদিন স্বাধীনতাকামী বাঙালিরা পাকিস্তান দিবসের পরিবর্তে প্রতিরোধ দিবস পালন করে।

প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ভোর ৬টায় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে এক প্রভাতফেরি বের হয়। ছাত্র-জনতা আজিমপুর কবরস্থানে গিয়ে ভাষা শহীদ, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হকসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদদের কবর জিয়ারত করেন। এরপর কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতারা শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।

সেদিন ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই রাজধানীজুড়ে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখা যায়। সচিবালয়, হাইকোর্ট, বিচারপতিদের বাসভবন, কূটনৈতিক মিশন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাজারবাগ পুলিশ লাইনসসহ বিভিন্ন সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পাকিস্তানের জাতীয় পতাকার পরিবর্তে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। একইসাথে বিভিন্ন ভবনে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকার পাশাপাশি কালো পতাকাও উড়তে দেখা যায়, যা ছিল প্রতিরোধের এক নীরব ভাষা।

কেবল প্রেসিডেন্ট ভবন, গভর্নর হাউস, ক্যান্টনমেন্ট, মার্কিন কনস্যুলেট এবং তেজগাঁও বিমানবন্দরেই কড়া নিরাপত্তার মধ্যে পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। বাকি সবখানে ছিল স্বাধীন বাংলার জয়গান।

সকাল ৯টায় আউটার স্টেডিয়ামে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে ‘জয় বাংলা বাহিনী’র আনুষ্ঠানিক কুচকাওয়াজ ও যুদ্ধের মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে পল্টন ময়দানে লাখো জনতার উপস্থিতিতে স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ পূর্ণ সামরিক কায়দায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে। ‘জয় বাংলা বাহিনী’র প্রধান কামরুল আলম খান খসরুর রাইফেলের প্রকাশ্য গান ফায়ারের পর উপ-প্রধান হাসানুল হক ইনু স্বাধীন বাংলাদেশের এই পতাকা উত্তোলন করেন।

এ সময় ‘জয় বাংলা বাহিনী’র নারী কন্টিজেন্টের সদস্যরা রোকেয়া হলের ভিপি মমতাজ বেগমের নেতৃত্বে ডামি রাইফেল নিয়ে মার্চ পাস্ট করে পতাকার প্রতি সামরিক কায়দায় অভিবাদন জানান। স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের চার নেতা আ স ম আবদুর রব, আবদুল কুদ্দুস মাখন, নূরে আলম সিদ্দিকী ও শাজাহান সিরাজ এই অভিবাদন গ্রহণ করেন। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে মাইকে বেজে ওঠে বাঙালির প্রাণের জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা’।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পারমাণবিক ইস্যু অজুহাত, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইরান

একাত্তরের অগ্নিঝরা ২৩ মার্চ: পাকিস্তান দিবসের বদলে প্রতিরোধ ও স্বাধীন বাংলার পতাকা উত্তোলন

আপডেট সময় : ০২:৪১:২৪ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

প্রতি বছর ২৩ মার্চ দিনটি ‘পাকিস্তান দিবস’ হিসেবে পালিত হলেও, ১৯৭১ সালের এই দিনে তা পরিণত হয়েছিল এক অগ্নিঝরা প্রতিরোধ দিবসে। জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের আহ্বানে ২ মার্চ থেকে শুরু হওয়া অসহযোগ আন্দোলনের ধারাবাহিকতায় সেদিন স্বাধীনতাকামী বাঙালিরা পাকিস্তান দিবসের পরিবর্তে প্রতিরোধ দিবস পালন করে।

প্রতিরোধ দিবস উপলক্ষে ভোর ৬টায় কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে এক প্রভাতফেরি বের হয়। ছাত্র-জনতা আজিমপুর কবরস্থানে গিয়ে ভাষা শহীদ, শহীদ সার্জেন্ট জহুরুল হকসহ বিভিন্ন গণতান্ত্রিক আন্দোলনে শহীদদের কবর জিয়ারত করেন। এরপর কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের নেতারা শহীদ মিনারে পুষ্পমাল্য অর্পণ করেন।

সেদিন ভোরের আলো ফোটার সাথে সাথেই রাজধানীজুড়ে এক অভূতপূর্ব দৃশ্য দেখা যায়। সচিবালয়, হাইকোর্ট, বিচারপতিদের বাসভবন, কূটনৈতিক মিশন, শিক্ষাপ্রতিষ্ঠান, রাজারবাগ পুলিশ লাইনসসহ বিভিন্ন সরকারি, আধা-সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠানে পাকিস্তানের জাতীয় পতাকার পরিবর্তে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করা হয়। একইসাথে বিভিন্ন ভবনে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকার পাশাপাশি কালো পতাকাও উড়তে দেখা যায়, যা ছিল প্রতিরোধের এক নীরব ভাষা।

কেবল প্রেসিডেন্ট ভবন, গভর্নর হাউস, ক্যান্টনমেন্ট, মার্কিন কনস্যুলেট এবং তেজগাঁও বিমানবন্দরেই কড়া নিরাপত্তার মধ্যে পাকিস্তানের জাতীয় পতাকা উত্তোলন করা হয়েছিল। বাকি সবখানে ছিল স্বাধীন বাংলার জয়গান।

সকাল ৯টায় আউটার স্টেডিয়ামে কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের উদ্যোগে ‘জয় বাংলা বাহিনী’র আনুষ্ঠানিক কুচকাওয়াজ ও যুদ্ধের মহড়া অনুষ্ঠিত হয়। পরবর্তীতে পল্টন ময়দানে লাখো জনতার উপস্থিতিতে স্বাধীন বাংলা কেন্দ্রীয় ছাত্র সংগ্রাম পরিষদ পূর্ণ সামরিক কায়দায় আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাধীন বাংলাদেশের পতাকা উত্তোলন করে। ‘জয় বাংলা বাহিনী’র প্রধান কামরুল আলম খান খসরুর রাইফেলের প্রকাশ্য গান ফায়ারের পর উপ-প্রধান হাসানুল হক ইনু স্বাধীন বাংলাদেশের এই পতাকা উত্তোলন করেন।

এ সময় ‘জয় বাংলা বাহিনী’র নারী কন্টিজেন্টের সদস্যরা রোকেয়া হলের ভিপি মমতাজ বেগমের নেতৃত্বে ডামি রাইফেল নিয়ে মার্চ পাস্ট করে পতাকার প্রতি সামরিক কায়দায় অভিবাদন জানান। স্বাধীন বাংলা ছাত্র সংগ্রাম পরিষদের চার নেতা আ স ম আবদুর রব, আবদুল কুদ্দুস মাখন, নূরে আলম সিদ্দিকী ও শাজাহান সিরাজ এই অভিবাদন গ্রহণ করেন। এই ঐতিহাসিক মুহূর্তে মাইকে বেজে ওঠে বাঙালির প্রাণের জাতীয় সংগীত ‘আমার সোনার বাংলা’।