ঢাকা ০৪:৩০ অপরাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৪ এপ্রিল ২০২৬

ঈদুল ফিতরের লম্বা ছুটিতেও সচল চট্টগ্রাম বন্দর: ৭ দিনে ৫৫ হাজার কনটেইনার হ্যান্ডলিং

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬
  • ৯ বার পড়া হয়েছে

ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিতেও দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে সচল ছিল। আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে পণ্য খালাস ও জাহাজীকরণ কার্যক্রম চালু রাখায় গত ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত সাত দিনের ছুটিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রায় ২৫ লাখ মেট্রিক টন কার্গো এবং প্রায় ৫৫ হাজার টিইইউ’স (২০ ফুট দৈর্ঘ্যের একক) কনটেইনার হ্যান্ডলিং সম্পন্ন করেছে। বুধবার চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফাত হামিম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সাফল্যের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঈদের ছুটির মধ্যেও বন্দর তার পূর্ণ অপারেশনাল সক্ষমতা বজায় রাখতে পেরেছে এবং আগে থেকে গৃহীত নানামুখী প্রশাসনিক ও কারিগরি সিদ্ধান্তের সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমেই এই সফলতা অর্জিত হয়েছে।

বন্দর সচিব আরও জানান, রমজান ও ঈদ ছুটিকালীন সময়ে জ্বালানি তেলের সাপ্লাই চেইন সচল রাখা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। এই টাস্কফোর্সের মাধ্যমে বন্দরের জেটি সাইড এবং বহির্নোঙরে পণ্য খালাস কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি ও পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের সংকট মোকাবিলায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বার্থিং এবং নেভিগেশনাল সাপোর্ট দেওয়ার মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বন্দরের দেওয়া আনুষ্ঠানিক তথ্যানুযায়ী, ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত সাত দিনে মোট ২৫ লাখ ৮ হাজার ৬১৪ মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে, যার মধ্যে ২৩ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৬ মেট্রিক টন ছিল আমদানি পণ্য এবং ১ লাখ ৪৬ হাজার ৮২৮ মেট্রিক টন ছিল রপ্তানি পণ্য। গত ১৮ মার্চ এক দিনেই সর্বোচ্চ ৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৩৪ মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং করার রেকর্ড তৈরি হয়েছে।

একই সময়সীমার মধ্যে বন্দরে মোট ৫৪ হাজার ৮৯৮ টিইইউ’স কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছে। এর মধ্যে আমদানি করা কনটেইনারের সংখ্যা ছিল ২৮ হাজার ৯৬১ টিইইউ’স এবং রপ্তানি কনটেইনার ছিল ২৫ হাজার ৯৩৭ টিইইউ’স। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৮ মার্চ সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৮৬১ টিইইউ’স কনটেইনার প্রসেস করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এই সাত দিনে মোট ৬৪টি জাহাজ বন্দরে বার্থিং ও হ্যান্ডলিং করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৯ মার্চ এক দিনেই সর্বোচ্চ ১৪টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করা হয় এবং ২৩ মার্চ পুনরায় ১২টি জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের কাজ সম্পন্ন হয়। সর্বশেষ ২৪ মার্চের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে ৪৩ হাজার ২০০ টিইইউ’স কনটেইনার মজুদ রয়েছে, যার মধ্যে ৩৬ হাজার ২৫৩টি এফসিএল (পূর্ণ ভর্তি) কনটেইনার, ২ হাজার ৬৫৪টি ডিপো কনটেইনার এবং ১ হাজার ৬৫২টি খালি কনটেইনার।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

ভূমধ্যসাগরে মৃত্যুঝুঁকি ও লিবিয়ার ‘গেম ঘরে’ বন্দি বাংলাদেশিরা

ঈদুল ফিতরের লম্বা ছুটিতেও সচল চট্টগ্রাম বন্দর: ৭ দিনে ৫৫ হাজার কনটেইনার হ্যান্ডলিং

আপডেট সময় : ১১:০৪:৪৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ মার্চ ২০২৬

ঈদুল ফিতরের দীর্ঘ ছুটিতেও দেশের প্রধান সমুদ্রবন্দর চট্টগ্রাম বন্দরের অপারেশনাল কার্যক্রম নিরবচ্ছিন্নভাবে সচল ছিল। আমদানি-রপ্তানি প্রক্রিয়া স্বাভাবিক রাখার স্বার্থে পণ্য খালাস ও জাহাজীকরণ কার্যক্রম চালু রাখায় গত ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত সাত দিনের ছুটিতে বন্দর কর্তৃপক্ষ প্রায় ২৫ লাখ মেট্রিক টন কার্গো এবং প্রায় ৫৫ হাজার টিইইউ’স (২০ ফুট দৈর্ঘ্যের একক) কনটেইনার হ্যান্ডলিং সম্পন্ন করেছে। বুধবার চট্টগ্রাম বন্দরের সচিব সৈয়দ রেফাত হামিম এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই সাফল্যের তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, ঈদের ছুটির মধ্যেও বন্দর তার পূর্ণ অপারেশনাল সক্ষমতা বজায় রাখতে পেরেছে এবং আগে থেকে গৃহীত নানামুখী প্রশাসনিক ও কারিগরি সিদ্ধান্তের সঠিক বাস্তবায়নের মাধ্যমেই এই সফলতা অর্জিত হয়েছে।

বন্দর সচিব আরও জানান, রমজান ও ঈদ ছুটিকালীন সময়ে জ্বালানি তেলের সাপ্লাই চেইন সচল রাখা এবং নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যসামগ্রীর সরবরাহ নিশ্চিত করার লক্ষ্যে একটি বিশেষ টাস্কফোর্স গঠন করা হয়। এই টাস্কফোর্সের মাধ্যমে বন্দরের জেটি সাইড এবং বহির্নোঙরে পণ্য খালাস কার্যক্রম নিবিড়ভাবে তদারকি ও পর্যবেক্ষণ করা হয়েছে। বিশেষ করে জ্বালানি তেলের সংকট মোকাবিলায় অগ্রাধিকার ভিত্তিতে বার্থিং এবং নেভিগেশনাল সাপোর্ট দেওয়ার মাধ্যমে চট্টগ্রাম বন্দর জাতীয় অর্থনীতিতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। বন্দরের দেওয়া আনুষ্ঠানিক তথ্যানুযায়ী, ১৭ থেকে ২৩ মার্চ পর্যন্ত সাত দিনে মোট ২৫ লাখ ৮ হাজার ৬১৪ মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং হয়েছে, যার মধ্যে ২৩ লাখ ৬১ হাজার ৭৮৬ মেট্রিক টন ছিল আমদানি পণ্য এবং ১ লাখ ৪৬ হাজার ৮২৮ মেট্রিক টন ছিল রপ্তানি পণ্য। গত ১৮ মার্চ এক দিনেই সর্বোচ্চ ৪ লাখ ৩৪ হাজার ৪৩৪ মেট্রিক টন কার্গো হ্যান্ডলিং করার রেকর্ড তৈরি হয়েছে।

একই সময়সীমার মধ্যে বন্দরে মোট ৫৪ হাজার ৮৯৮ টিইইউ’স কনটেইনার হ্যান্ডলিং করা হয়েছে। এর মধ্যে আমদানি করা কনটেইনারের সংখ্যা ছিল ২৮ হাজার ৯৬১ টিইইউ’স এবং রপ্তানি কনটেইনার ছিল ২৫ হাজার ৯৩৭ টিইইউ’স। পরিসংখ্যানে দেখা যায়, ১৮ মার্চ সর্বোচ্চ ১১ হাজার ৮৬১ টিইইউ’স কনটেইনার প্রসেস করা হয়েছে। উল্লেখ্য, এই সাত দিনে মোট ৬৪টি জাহাজ বন্দরে বার্থিং ও হ্যান্ডলিং করা হয়েছে, যার মধ্যে ১৯ মার্চ এক দিনেই সর্বোচ্চ ১৪টি জাহাজ হ্যান্ডলিং করা হয় এবং ২৩ মার্চ পুনরায় ১২টি জাহাজ হ্যান্ডলিংয়ের কাজ সম্পন্ন হয়। সর্বশেষ ২৪ মার্চের তথ্য অনুযায়ী, চট্টগ্রাম বন্দরে বর্তমানে ৪৩ হাজার ২০০ টিইইউ’স কনটেইনার মজুদ রয়েছে, যার মধ্যে ৩৬ হাজার ২৫৩টি এফসিএল (পূর্ণ ভর্তি) কনটেইনার, ২ হাজার ৬৫৪টি ডিপো কনটেইনার এবং ১ হাজার ৬৫২টি খালি কনটেইনার।