ঢাকা ০৩:২৬ অপরাহ্ন, সোমবার, ১২ জানুয়ারী ২০২৬

নতুন সাক্ষাৎকারে নিরাপত্তা বাহিনীর ‘ভুল’ স্বীকার, নিজের দায় অস্বীকার’- শেখ হাসিনা

ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ১৪ শতাধিক মানুষ নিহতের ঘটনায় অবশেষে মুখ খুললেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে আগের সাক্ষাৎকারের মতো এবারও তিনি কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করেননি, বরং এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের দায় চাপিয়েছেন নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু সদস্যের ভুলের’ ওপর।

ভারতীয় সংবাদপত্র ‘দ্য হিন্দু’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন, যা গতকাল প্রকাশিত হয়। তিনি স্বীকার করেন, ‘মাঠ পর্যায়ে আমাদের নিরাপত্তা কর্মীরা দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং সহিংস পরিস্থিতির মোকাবিলা করছিল… সহিংসতা মোকাবিলায় নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু সদস্যের সাড়া দেওয়ার পদ্ধতিতে অবশ্যই ভুল হয়েছিল।’

তবে একই সঙ্গে তিনি ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোকে জোরালোভাবে সমর্থন করেছেন। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্তগুলো ছিল ‘পরিস্থিতি অনুযায়ী যথাযথ, সরল বিশ্বাসে গৃহীত এবং প্রাণহানি কমানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া।’

জুলাই অভ্যুত্থান, যা শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি ও দেশত্যাগে রূপ নেয়, সেই সময়ে আন্দোলনকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনী নির্বিচারে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করেছিল। ফ্যাক্ট-চেকারদের দ্বারা যাচাইকৃত অডিও রেকর্ডে শোনা যায়, শেখ হাসিনা নিজেই ছাত্র-জনতার সেই নজিরবিহীন আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের নির্দেশ দিচ্ছেন। অথচ, এই সাক্ষাৎকারে তিনি আবারও আন্দোলন দমনে নিজের ভূমিকার কথা সম্পূর্ণ এড়িয়ে গেছেন এবং নিহতদের জন্য একবারও অনুশোচনা প্রকাশ করেননি।

📰ভোট বর্জন নিয়ে সুর বদল

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা তাঁর আগের অবস্থান থেকে সরে এসে দাবি করেছেন যে তিনি কখনও সমর্থকদের নির্বাচন বর্জন করতে বলেননি।

তিনি বলেন, ‘আমি বিষয়টি পরিষ্কার করতে চাই: আমি নির্বাচন বর্জনের ডাক দিইনি।’ তাঁর ব্যাখ্যা, ‘আমি যা বোঝাতে চেয়েছিলাম তা হলো, লাখ লাখ আওয়ামী লীগ ভোটার যদি তাদের পছন্দের প্রার্থীকে সমর্থন করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়, তাহলে তারা ভোটই দেবে না।’

এছাড়া, তিনি দেশবাসীকে শান্তিপূর্ণ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘যা-ই ঘটুক না কেন, আমাদের প্রচারণা শান্তিপূর্ণ হবে। বাংলাদেশের এখন আর কোনো সহিংস বিশৃঙ্খলা কাম্য নয়।’

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

জামায়াত আমিরের সঙ্গে ইইউ প্রতিনিধিদলের সাক্ষাৎ: সুষ্ঠু নির্বাচন ও গণতান্ত্রিক প্রতিষ্ঠান শক্তিশালীকরণে গুরুত্বারোপ

নতুন সাক্ষাৎকারে নিরাপত্তা বাহিনীর ‘ভুল’ স্বীকার, নিজের দায় অস্বীকার’- শেখ হাসিনা

আপডেট সময় : ০১:৩৩:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ৯ নভেম্বর ২০২৫

ক্ষমতাচ্যুত হওয়ার আগে জুলাই অভ্যুত্থানের সময় পুলিশ ও নিরাপত্তা বাহিনীর হাতে ১৪ শতাধিক মানুষ নিহতের ঘটনায় অবশেষে মুখ খুললেন সাবেক প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। তবে আগের সাক্ষাৎকারের মতো এবারও তিনি কোনো অনুশোচনা প্রকাশ করেননি, বরং এই নির্মম হত্যাকাণ্ডের দায় চাপিয়েছেন নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু সদস্যের ভুলের’ ওপর।

ভারতীয় সংবাদপত্র ‘দ্য হিন্দু’কে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে তিনি এ মন্তব্য করেন, যা গতকাল প্রকাশিত হয়। তিনি স্বীকার করেন, ‘মাঠ পর্যায়ে আমাদের নিরাপত্তা কর্মীরা দ্রুত পরিবর্তনশীল এবং সহিংস পরিস্থিতির মোকাবিলা করছিল… সহিংসতা মোকাবিলায় নিরাপত্তা বাহিনীর কিছু সদস্যের সাড়া দেওয়ার পদ্ধতিতে অবশ্যই ভুল হয়েছিল।’

তবে একই সঙ্গে তিনি ঊর্ধ্বতন সরকারি কর্মকর্তাদের নেওয়া সিদ্ধান্তগুলোকে জোরালোভাবে সমর্থন করেছেন। তাঁর দাবি, এই সিদ্ধান্তগুলো ছিল ‘পরিস্থিতি অনুযায়ী যথাযথ, সরল বিশ্বাসে গৃহীত এবং প্রাণহানি কমানোর উদ্দেশ্যে নেওয়া।’

জুলাই অভ্যুত্থান, যা শেষ পর্যন্ত শেখ হাসিনার ক্ষমতাচ্যুতি ও দেশত্যাগে রূপ নেয়, সেই সময়ে আন্দোলনকারীদের ওপর নিরাপত্তা বাহিনী নির্বিচারে প্রাণঘাতী অস্ত্র ব্যবহার করেছিল। ফ্যাক্ট-চেকারদের দ্বারা যাচাইকৃত অডিও রেকর্ডে শোনা যায়, শেখ হাসিনা নিজেই ছাত্র-জনতার সেই নজিরবিহীন আন্দোলন দমনে প্রাণঘাতী শক্তি ব্যবহারের নির্দেশ দিচ্ছেন। অথচ, এই সাক্ষাৎকারে তিনি আবারও আন্দোলন দমনে নিজের ভূমিকার কথা সম্পূর্ণ এড়িয়ে গেছেন এবং নিহতদের জন্য একবারও অনুশোচনা প্রকাশ করেননি।

📰ভোট বর্জন নিয়ে সুর বদল

আসন্ন জাতীয় নির্বাচন প্রসঙ্গে শেখ হাসিনা তাঁর আগের অবস্থান থেকে সরে এসে দাবি করেছেন যে তিনি কখনও সমর্থকদের নির্বাচন বর্জন করতে বলেননি।

তিনি বলেন, ‘আমি বিষয়টি পরিষ্কার করতে চাই: আমি নির্বাচন বর্জনের ডাক দিইনি।’ তাঁর ব্যাখ্যা, ‘আমি যা বোঝাতে চেয়েছিলাম তা হলো, লাখ লাখ আওয়ামী লীগ ভোটার যদি তাদের পছন্দের প্রার্থীকে সমর্থন করার সুযোগ থেকে বঞ্চিত হয়, তাহলে তারা ভোটই দেবে না।’

এছাড়া, তিনি দেশবাসীকে শান্তিপূর্ণ থাকার আহ্বান জানিয়ে বলেন, ‘যা-ই ঘটুক না কেন, আমাদের প্রচারণা শান্তিপূর্ণ হবে। বাংলাদেশের এখন আর কোনো সহিংস বিশৃঙ্খলা কাম্য নয়।’