ঢাকা ১১:২২ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

‘মীমাংসিত বিষয়’ নিয়ে বিতর্ক উসকালে জনগণ রাজপথে নামবে: নাহিদ ইসলাম

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০৮:৫২:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬
  • ১ বার পড়া হয়েছে

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশ হত্যার বিচারের মতো ‘মীমাংসিত বিষয়’ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করা হলে জনগণ রাজপথে নামতে বাধ্য হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে এনসিপির ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। একইসাথে তিনি বর্তমান সরকারকে ‘নতুন স্বৈরাচার’ হিসেবে আখ্যায়িত করে সংসদকে সংস্কার পরিষদে পরিণত করার দাবি জানান, অন্যথায় রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দেন।

পুলিশ হত্যা মামলার তদন্ত নতুন করে শুরুর যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, সে প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সেই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যদি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হয়, তবে সবার আগে জুলাই যোদ্ধাদের—যারা আহত হয়েছেন, শহীদ হয়েছেন—তাদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি স্পষ্ট করেন, “এই অপরাধের জন্য আমরা সমগ্র পুলিশ বাহিনীকে কাঠগড়ায় দাঁড়াইনি। আমরা বলেছি, শুধুমাত্র অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা হবে। বাকি পুলিশ বাহিনী যাতে সংস্কারের মধ্য দিয়ে জনগণের পক্ষের বাহিনী হিসেবে কাজ করে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এই মীমাংসিত বিষয় নিয়ে যদি আবার বিতর্ক তৈরি করা হয়, তাহলে জনগণ বাধ্য হবে রাজপথে নামতে।”

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের মতোই আচরণ করছে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে নতুন কোনো স্বৈরতন্ত্রের উত্থান আমরা ঘটতে দেব না। এমন কিছু ঘটলে তা আমাদের জীবনের ওপর দিয়ে হতে হবে।” এনসিপি আহ্বায়ক সংস্কার প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “যদি সংসদে সংস্কার না হয়, সেই লড়াই রাজপথে গড়াবে। আমরা সেই লড়াই রাজপথে গড়াতে চাই না।” তিনি জানান, “মানুষ ভোট দিয়েছে, ফলাফল যেমনই হোক, আমরা আপাতকালীন তা মেনে সংসদে গিয়েছি। সংসদে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আমরা এগুলোর সমাধান করব। কিন্তু সংসদ অবশ্যই সংস্কার পরিষদ হতে হবে। যদি সংসদ সংস্কার পরিষদ না হয়, সংসদে যদি কথা বলার জায়গা না থাকে, তাহলে সেই লড়াই রাজপথে গড়াবে।”

এনসিপি রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে জানিয়ে দলটির প্রধান বলেন, “আমরা খুবই স্পষ্টভাবে বলব, ট্রাইব্যুনালে যাতে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করা হয়। ট্রাইব্যুনাল যাতে নিরপেক্ষভাবে সুষ্ঠু বিচারের পথে চলে।” তিনি ভুক্তভোগী ও সাক্ষ্যদানকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ করে তিনি বলেন, “তারা (সরকার) বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করেছে। কোনো কারণ বা অভিযোগ ছাড়াই ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটরকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিচারের ক্ষেত্রে নানা ধরনের হস্তক্ষেপের কথা আমরা শুনতে পাচ্ছি। যারা ভুক্তভোগী ছিলেন, যারা সাক্ষ্য দিয়েছেন, তাদেরকে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে, তারা নানা হুমকির মুখে আছেন।” নাহিদ ইসলাম আশঙ্কা প্রকাশ করেন, “এই সরকারের আমলে বিচার প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে হবে কিনা, তা নিয়ে আমাদের মনে, জনগণের মনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।”

ছাত্রদের দাবির তোয়াক্কা না করে সরকার জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে অভিযোগ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমাদের যে দাবিগুলো ছিল—সংস্কার, বিচার, অর্থনৈতিক লুটপাটের বিচার, ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের কবর রচনা করা—সেই সবকিছুকে তোয়াক্কা না করে যারা সরকারে রয়েছেন, তারা জনগণের বিরুদ্ধে আবার অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছেন।” তিনি আরও বলেন, “শপথের প্রথম দিন আমরা দেখলাম, বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন না। সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে তারা শপথ গ্রহণ না করে গণরায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেন।”

দেশের সংকটে বারবার ছাত্ররা এগিয়ে এলেও তারা প্রতারিত হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ যখনই সংকটে পড়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার ছাত্ররা দেশের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু বারবার ছাত্রদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।” তিনি নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের উদাহরণ টেনে বলেন, “ছাত্ররাই স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছিল, কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছিল। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানেও আমরা একই জিনিস দেখছি—ছাত্ররা আন্দোলন করেছে, সাধারণ মানুষ জীবন দিয়েছে, কিন্তু এখন তার ফল ভোগ করছে নানান রাজনৈতিক শক্তি।”

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, ‘মব’ তৈরি করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে নির্লজ্জভাবে, অগণতান্ত্রিকভাবে সরিয়ে দিয়ে একজন ঋণখেলাপীকে সেই পদে বসানো হয়েছে।

জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাদের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যাতে আবারও স্বৈরতন্ত্রের আঁতুড়ঘরে পরিণত না হয়, হলগুলো যাতে গণরুম, গেস্টরুমে পরিণত হতে না পারে, সেটার দায়িত্ব জাতীয় ছাত্রশক্তির।” তিনি জোর দেন, “জাতীয় ছাত্রশক্তি গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে বাংলাদেশের শিক্ষার্থী সমাজের পাশে, তাদের অধিকারের পক্ষে থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে যাতে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও কথা বলার অধিকার থাকে, সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব জাতীয় ছাত্রশক্তির।”

এর আগে বিকেলে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শুরু হয়। সংগঠনের সভাপতি জাহিদ আহসান এতে সভাপতিত্ব করেন এবং সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ এনসিপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

সংসদে সংস্কার না হলে রাজপথে তীব্র আন্দোলনের হুঁশিয়ারি বিরোধী দলের

‘মীমাংসিত বিষয়’ নিয়ে বিতর্ক উসকালে জনগণ রাজপথে নামবে: নাহিদ ইসলাম

আপডেট সময় : ০৮:৫২:০৮ অপরাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ২৬ ফেব্রুয়ারী ২০২৬

জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সময় পুলিশ হত্যার বিচারের মতো ‘মীমাংসিত বিষয়’ নিয়ে নতুন করে বিতর্ক সৃষ্টি করা হলে জনগণ রাজপথে নামতে বাধ্য হবে বলে কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন জাতীয় নাগরিক পার্টির (এনসিপি) আহ্বায়ক ও বিরোধীদলীয় চিফ হুইপ নাহিদ ইসলাম। বৃহস্পতিবার বিকেলে রাজধানীর কৃষিবিদ ইনস্টিটিউটে এনসিপির ছাত্র সংগঠন জাতীয় ছাত্রশক্তির প্রথম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠানে তিনি এই মন্তব্য করেন। একইসাথে তিনি বর্তমান সরকারকে ‘নতুন স্বৈরাচার’ হিসেবে আখ্যায়িত করে সংসদকে সংস্কার পরিষদে পরিণত করার দাবি জানান, অন্যথায় রাজপথে আন্দোলন গড়ে তোলার ঘোষণা দেন।

পুলিশ হত্যা মামলার তদন্ত নতুন করে শুরুর যে গুঞ্জন শোনা যাচ্ছে, সে প্রসঙ্গে নাহিদ ইসলাম বলেন, “জুলাই গণঅভ্যুত্থানের সেই যুদ্ধ পরিস্থিতিতে যদি ন্যায়বিচার নিশ্চিত করতে হয়, তবে সবার আগে জুলাই যোদ্ধাদের—যারা আহত হয়েছেন, শহীদ হয়েছেন—তাদের বিচার নিশ্চিত করতে হবে।” তিনি স্পষ্ট করেন, “এই অপরাধের জন্য আমরা সমগ্র পুলিশ বাহিনীকে কাঠগড়ায় দাঁড়াইনি। আমরা বলেছি, শুধুমাত্র অভিযুক্ত ব্যক্তিদের বিচারের আওতায় আনা হবে। বাকি পুলিশ বাহিনী যাতে সংস্কারের মধ্য দিয়ে জনগণের পক্ষের বাহিনী হিসেবে কাজ করে।” তিনি জোর দিয়ে বলেন, “এই মীমাংসিত বিষয় নিয়ে যদি আবার বিতর্ক তৈরি করা হয়, তাহলে জনগণ বাধ্য হবে রাজপথে নামতে।”

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, ভোট ইঞ্জিনিয়ারিংসহ বিভিন্ন ক্ষেত্রে বর্তমান সরকার পূর্ববর্তী আওয়ামী লীগ সরকারের মতোই আচরণ করছে। তিনি বলেন, “বাংলাদেশে নতুন কোনো স্বৈরতন্ত্রের উত্থান আমরা ঘটতে দেব না। এমন কিছু ঘটলে তা আমাদের জীবনের ওপর দিয়ে হতে হবে।” এনসিপি আহ্বায়ক সংস্কার প্রক্রিয়া বাস্তবায়নের ওপর জোর দিয়ে বলেন, “যদি সংসদে সংস্কার না হয়, সেই লড়াই রাজপথে গড়াবে। আমরা সেই লড়াই রাজপথে গড়াতে চাই না।” তিনি জানান, “মানুষ ভোট দিয়েছে, ফলাফল যেমনই হোক, আমরা আপাতকালীন তা মেনে সংসদে গিয়েছি। সংসদে আলাপ-আলোচনার মাধ্যমে আমরা এগুলোর সমাধান করব। কিন্তু সংসদ অবশ্যই সংস্কার পরিষদ হতে হবে। যদি সংসদ সংস্কার পরিষদ না হয়, সংসদে যদি কথা বলার জায়গা না থাকে, তাহলে সেই লড়াই রাজপথে গড়াবে।”

এনসিপি রাজপথে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছে জানিয়ে দলটির প্রধান বলেন, “আমরা খুবই স্পষ্টভাবে বলব, ট্রাইব্যুনালে যাতে কোনো ধরনের হস্তক্ষেপ না করা হয়। ট্রাইব্যুনাল যাতে নিরপেক্ষভাবে সুষ্ঠু বিচারের পথে চলে।” তিনি ভুক্তভোগী ও সাক্ষ্যদানকারীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। আন্তর্জাতিক অপরাধ ট্রাইব্যুনালের বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপের অভিযোগ করে তিনি বলেন, “তারা (সরকার) বিচার প্রক্রিয়ায় হস্তক্ষেপ করেছে। কোনো কারণ বা অভিযোগ ছাড়াই ট্রাইব্যুনালের প্রধান প্রসিকিউটরকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছে। বিচারের ক্ষেত্রে নানা ধরনের হস্তক্ষেপের কথা আমরা শুনতে পাচ্ছি। যারা ভুক্তভোগী ছিলেন, যারা সাক্ষ্য দিয়েছেন, তাদেরকে নানাভাবে চাপ প্রয়োগ করা হচ্ছে, তারা নানা হুমকির মুখে আছেন।” নাহিদ ইসলাম আশঙ্কা প্রকাশ করেন, “এই সরকারের আমলে বিচার প্রক্রিয়া সুষ্ঠুভাবে হবে কিনা, তা নিয়ে আমাদের মনে, জনগণের মনে সন্দেহ তৈরি হয়েছে।”

ছাত্রদের দাবির তোয়াক্কা না করে সরকার জনগণের বিরুদ্ধে অবস্থান নিচ্ছে অভিযোগ করে নাহিদ ইসলাম বলেন, “আমাদের যে দাবিগুলো ছিল—সংস্কার, বিচার, অর্থনৈতিক লুটপাটের বিচার, ফ্যাসিবাদ ও আধিপত্যবাদের কবর রচনা করা—সেই সবকিছুকে তোয়াক্কা না করে যারা সরকারে রয়েছেন, তারা জনগণের বিরুদ্ধে আবার অবস্থান নেওয়ার চেষ্টা করছেন।” তিনি আরও বলেন, “শপথের প্রথম দিন আমরা দেখলাম, বিএনপি সংবিধান সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে শপথ গ্রহণ করলেন না। সংস্কার পরিষদের সদস্য হিসেবে তারা শপথ গ্রহণ না করে গণরায়ের বিরুদ্ধে অবস্থান নিলেন।”

দেশের সংকটে বারবার ছাত্ররা এগিয়ে এলেও তারা প্রতারিত হয়েছে মন্তব্য করে তিনি বলেন, “বাংলাদেশ যখনই সংকটে পড়েছে, বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্ররা, স্কুল-কলেজ-মাদ্রাসার ছাত্ররা দেশের পক্ষে দাঁড়িয়েছে। কিন্তু বারবার ছাত্রদের সঙ্গে প্রতারণা করা হয়েছে।” তিনি নব্বইয়ের গণঅভ্যুত্থানের উদাহরণ টেনে বলেন, “ছাত্ররাই স্বৈরাচারের পতন ঘটিয়েছিল, কিন্তু রাজনৈতিক দলগুলো তাদের সঙ্গে প্রতারণা করেছিল। চব্বিশের গণঅভ্যুত্থানেও আমরা একই জিনিস দেখছি—ছাত্ররা আন্দোলন করেছে, সাধারণ মানুষ জীবন দিয়েছে, কিন্তু এখন তার ফল ভোগ করছে নানান রাজনৈতিক শক্তি।”

নাহিদ ইসলাম অভিযোগ করেন, ‘মব’ তৈরি করে বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নরকে নির্লজ্জভাবে, অগণতান্ত্রিকভাবে সরিয়ে দিয়ে একজন ঋণখেলাপীকে সেই পদে বসানো হয়েছে।

জাতীয় ছাত্রশক্তির নেতাদের উদ্দেশে নাহিদ ইসলাম বলেন, “বিশ্ববিদ্যালয়গুলো যাতে আবারও স্বৈরতন্ত্রের আঁতুড়ঘরে পরিণত না হয়, হলগুলো যাতে গণরুম, গেস্টরুমে পরিণত হতে না পারে, সেটার দায়িত্ব জাতীয় ছাত্রশক্তির।” তিনি জোর দেন, “জাতীয় ছাত্রশক্তি গণঅভ্যুত্থানের আকাঙ্ক্ষাকে ধারণ করে বাংলাদেশের শিক্ষার্থী সমাজের পাশে, তাদের অধিকারের পক্ষে থাকবে। বিশ্ববিদ্যালয় ও কলেজগুলোতে যাতে গণতান্ত্রিক পরিবেশ ও কথা বলার অধিকার থাকে, সেটা নিশ্চিত করার দায়িত্ব জাতীয় ছাত্রশক্তির।”

এর আগে বিকেলে পবিত্র কোরআন তেলাওয়াত ও জাতীয় সংগীতের মধ্য দিয়ে জাতীয় ছাত্রশক্তির প্রতিষ্ঠাবার্ষিকীর অনুষ্ঠান শুরু হয়। সংগঠনের সভাপতি জাহিদ আহসান এতে সভাপতিত্ব করেন এবং সাধারণ সম্পাদক আবু বাকের মজুমদার অনুষ্ঠান সঞ্চালনা করেন। অনুষ্ঠানে আরও বক্তব্য দেন এনসিপির সদস্য সচিব আখতার হোসেন, উত্তরাঞ্চলের মুখ্য সংগঠক সারজিস আলমসহ এনসিপি ও এর অঙ্গ-সহযোগী সংগঠনগুলোর বিভিন্ন পর্যায়ের নেতারা।