ঢাকা ০১:৫০ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৯ এপ্রিল ২০২৬

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ১৮ লাখ টন ডিজেল কিনছে সরকার, দাম নিয়ে উদ্বেগ

দেশে চলমান তীব্র জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করার লক্ষ্যে সরকার অবশেষে স্পট মার্কেট থেকে উচ্চমূল্যে জ্বালানি তেল কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) প্রাথমিকভাবে ১৮ লাখ টন ডিজেল কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। এর পাশাপাশি স্বল্প পরিমাণে অকটেন ও পেট্রোলও কেনা হবে।

বিপিসি ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে। দুটি আমেরিকান এবং একটি হংকং-এর নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তেল কেনার চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

তবে, গত এক মাসে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের উত্থান-পতন লক্ষ্য করা গেছে। ফেব্রুয়ারির শেষদিকে প্রতি ব্যারেল ডিজেলের দাম ছিল প্রায় ৮৫ ডলারের কাছাকাছি। মাত্র ২৪ দিনের ব্যবধানে স্পট মার্কেটে সেই ডিজেলের দাম বেড়ে ২২০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধের ঘোষণার পর তেলের দাম কিছুটা কমলেও, বর্তমানে প্রতি ব্যারেল ডিজেল ২১৩ ডলার ৪২ সেন্টে বিক্রি হচ্ছে, যা গত মাসের তুলনায় প্রায় আড়াই গুণ বেশি।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে আলোচনা শুরু হলে তেলের দামে বড় ধরনের পতন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই স্পট মার্কেট থেকে তেল কেনার প্রক্রিয়া শুরু করলেও, সরকার সংশ্লিষ্ট শীর্ষ ব্যক্তিরা কিছুটা সতর্কতার সঙ্গে এগোতে চাইছেন। তবে, এই স্পর্শকাতর বিষয়ে কেউ সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিপিসির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে সরকার ও বিপিসি উভয়ই দ্বিধা-দ্বন্দ্বে রয়েছে। প্রায় আড়াই গুণ বেশি দামে জ্বালানি কিনলেও, দেশের বাজারে এই মুহূর্তে দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। ফলে, বিপুল পরিমাণ ভর্তুকির অর্থের জোগান কোথা থেকে আসবে, তা নিয়েও সরকার চিন্তিত।

এছাড়াও, সংকটের সুযোগে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তেলের মান নিয়ন্ত্রণে শিথিলতা আনার অলিখিত শর্ত জুড়ে দিয়েছে। এর ফলে, অপেক্ষাকৃত বেশি সালফারযুক্ত নিম্নমানের ডিজেল সরবরাহ করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এই বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে, সরকারের হাতে খুব বেশি সময় নেই, কারণ মজুতের পরিমাণ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নেতানিয়াহুর পদত্যাগ ও জবাবদিহির দাবিতে উত্তাল ইসরায়েল: তেল আবিবে বিশাল বিক্ষোভ

জ্বালানি সংকট মোকাবিলায় ১৮ লাখ টন ডিজেল কিনছে সরকার, দাম নিয়ে উদ্বেগ

আপডেট সময় : ১১:২২:০২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ২৫ মার্চ ২০২৬

দেশে চলমান তীব্র জ্বালানি সংকট মোকাবিলা করার লক্ষ্যে সরকার অবশেষে স্পট মার্কেট থেকে উচ্চমূল্যে জ্বালানি তেল কেনার প্রক্রিয়া শুরু করেছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) প্রাথমিকভাবে ১৮ লাখ টন ডিজেল কেনার উদ্যোগ নিয়েছে। এর পাশাপাশি স্বল্প পরিমাণে অকটেন ও পেট্রোলও কেনা হবে।

বিপিসি ইতোমধ্যে বেশ কয়েকটি আন্তর্জাতিক সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এ বিষয়ে আলোচনা শুরু করেছে। দুটি আমেরিকান এবং একটি হংকং-এর নিবন্ধিত প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে তেল কেনার চুক্তি চূড়ান্ত হওয়ার পথে। সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, বর্তমান আন্তর্জাতিক বাজার মূল্যের সঙ্গে সামঞ্জস্য রেখে এই ক্রয় প্রক্রিয়া সম্পন্ন করা হবে।

তবে, গত এক মাসে বিশ্ব বাজারে জ্বালানি তেলের দামে বড় ধরনের উত্থান-পতন লক্ষ্য করা গেছে। ফেব্রুয়ারির শেষদিকে প্রতি ব্যারেল ডিজেলের দাম ছিল প্রায় ৮৫ ডলারের কাছাকাছি। মাত্র ২৪ দিনের ব্যবধানে স্পট মার্কেটে সেই ডিজেলের দাম বেড়ে ২২০ ডলারের কাছাকাছি পৌঁছেছে। সাম্প্রতিক সময়ে ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় হামলা বন্ধের ঘোষণার পর তেলের দাম কিছুটা কমলেও, বর্তমানে প্রতি ব্যারেল ডিজেল ২১৩ ডলার ৪২ সেন্টে বিক্রি হচ্ছে, যা গত মাসের তুলনায় প্রায় আড়াই গুণ বেশি।

আন্তর্জাতিক অঙ্গনে আমেরিকা ও ইরানের মধ্যে আলোচনা শুরু হলে তেলের দামে বড় ধরনের পতন হতে পারে বলে ধারণা করা হচ্ছে। তাই স্পট মার্কেট থেকে তেল কেনার প্রক্রিয়া শুরু করলেও, সরকার সংশ্লিষ্ট শীর্ষ ব্যক্তিরা কিছুটা সতর্কতার সঙ্গে এগোতে চাইছেন। তবে, এই স্পর্শকাতর বিষয়ে কেউ সরাসরি মন্তব্য করতে রাজি হননি।

নাম প্রকাশ না করার শর্তে বিপিসির একজন কর্মকর্তা জানিয়েছেন, জ্বালানি তেলের দাম নিয়ে সরকার ও বিপিসি উভয়ই দ্বিধা-দ্বন্দ্বে রয়েছে। প্রায় আড়াই গুণ বেশি দামে জ্বালানি কিনলেও, দেশের বাজারে এই মুহূর্তে দাম বাড়ানোর কোনো পরিকল্পনা সরকারের নেই। ফলে, বিপুল পরিমাণ ভর্তুকির অর্থের জোগান কোথা থেকে আসবে, তা নিয়েও সরকার চিন্তিত।

এছাড়াও, সংকটের সুযোগে সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানগুলো তেলের মান নিয়ন্ত্রণে শিথিলতা আনার অলিখিত শর্ত জুড়ে দিয়েছে। এর ফলে, অপেক্ষাকৃত বেশি সালফারযুক্ত নিম্নমানের ডিজেল সরবরাহ করার প্রবণতা দেখা যাচ্ছে। এই বিষয়গুলো গুরুত্বের সঙ্গে পর্যালোচনা করা হচ্ছে। তবে, সরকারের হাতে খুব বেশি সময় নেই, কারণ মজুতের পরিমাণ দ্রুত ফুরিয়ে আসছে।