এবারের ঈদে নাড়ির টানে বাড়ি ফেরা মানুষের আনন্দের পথে বড় বাধা হয়ে দাঁড়িয়েছে বিদ্যুতের অস্বাভাবিক আসা-যাওয়া। বিশেষ করে পল্লী বিদ্যুৎ এলাকায় গ্রাহকরা চরম বিড়ম্বনার শিকার হচ্ছেন। তবে আশ্চর্যজনক বিষয় হলো, বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (পিডিবি) তথ্যমতে দেশে বর্তমানে বিদ্যুতের কোনো উৎপাদন ঘাটতি নেই। বৃষ্টি ও আবহাওয়া শীতল থাকায় গত কয়েক দিনে বিদ্যুতের চাহিদা ৬ থেকে ৭ হাজার মেগাওয়াটে নেমে এসেছে, যা শীতকালীন চাহিদার মতো কম। পিডিবি সচিব মুহ. রাশেদুল হক প্রধান স্পষ্ট জানিয়েছেন যে, উৎপাদন ও বিতরণে কোনো কেন্দ্রীয় সংকট নেই। বরং পর্যাপ্ত বিদ্যুৎ থাকায় বেশ কিছু কেন্দ্র বর্তমানে বন্ধ রাখা হচ্ছে।
তাহলে গ্রামে বিদ্যুতের এই ‘ভেলকি’ কেন? এর প্রধান কারণ হিসেবে উঠে এসেছে দেশের গ্রামাঞ্চলের অত্যন্ত দুর্বল এবং অসুরক্ষিত বিতরণ ব্যবস্থা। বাংলাদেশ পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের (আরইবি) সদস্য মো. আব্দুর রহিম মল্লিক জানান, কালবৈশাখী মৌসুম হওয়ায় ঝড়-বৃষ্টিতে সঞ্চালন লাইনের ওপর গাছপালা ভেঙে পড়ছে। গ্রামীণ বিদ্যুতায়ন নেটওয়ার্ক প্রায়ই ঘন গাছপালার ভেতর দিয়ে বিস্তৃত থাকায় সামান্য বাতাসেই লাইনে বিভ্রাট দেখা দেয়। কুমিল্লা, শরীয়তপুর, বরিশাল ও ময়মনসিংহের মতো জেলাগুলোতে এই সমস্যা প্রকট আকার ধারণ করেছে। অনেক ক্ষেত্রে ঈদের ছুটির কারণে মেরামত কর্মী পেতে দেরি হওয়াতেও ভোগান্তি দীর্ঘায়িত হয়েছে।
জ্বালানি বিশ্লেষক শফিকুল আলমের মতে, বর্তমান পরিস্থিতি গ্রামীণ বিতরণ নেটওয়ার্ক এবং জাতীয় গ্রিড আধুনিকায়নের প্রয়োজনীয়তাকে পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে। পিডিবি ও আরইবি কর্মকর্তাদের দাবি অনুযায়ী, লোডশেডিংয়ের বদলে ‘কারিগরি ত্রুটি’ ও ‘প্রাকৃতিক দুর্যোগ’ই এই সংকটের মূলে। যদিও ঢাকাসহ বড় শহরগুলোতে বিদ্যুৎ পরিস্থিতি তুলনামূলক স্বাভাবিক, তবে গ্রামের এই বৈষম্যমূলক চিত্র নিয়ে সাধারণ মানুষের ক্ষোভ বেড়েই চলেছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, শুধু উৎপাদন সক্ষমতা বাড়ালেই হবে না, আধুনিক ও নিরাপদ সঞ্চালন ব্যবস্থা নিশ্চিত করা ছাড়া গ্রামের মানুষকে নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ দেওয়া সম্ভব নয়।
রিপোর্টারের নাম 

























