ঢাকা ০৪:৩৪ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

ঈদের ছুটিতে মুখরিত সুন্দরবন: পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়

ঈদুল ফিতরের লম্বা ছুটি উপলক্ষে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ সুন্দরবন পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। বিশ্বের বৃহত্তম এই ম্যানগ্রোভ বন এবং এর সংলগ্ন মোংলার বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে মোংলার শিশু পার্ক ও মেরিন ড্রাইভ এলাকা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লোকে লোকারণ্য থাকছে, যা ঈদ উদযাপনের এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।

রমজান মাস জুড়ে পর্যটকদের আনাগোনা প্রায় শূন্য থাকলেও ঈদের ছুটিতে চিত্র সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। মোংলার অধিকাংশ হোটেল ও রিসোর্টের কক্ষগুলো সপ্তাহখানেক আগেই আগাম বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটন সংশ্লিষ্টদের ধারণা, আগামী সপ্তাহ অর্থাৎ ২২ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকদের চাপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকবে। এই বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগমন স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন করে প্রাণ সঞ্চার করেছে, যা দীর্ঘদিনের মন্দা কাটিয়ে ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।

পর্যটকদের নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রশাসন যৌথভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এছাড়া, পর্যটকদের আনন্দ দিতে বিশেষ বিনোদনমূলক আয়োজন এবং বিভিন্ন সেবার মান উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে আসা পর্যটকরা সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নদী, বন এবং বন্যপ্রাণীর অপার সম্ভারে মুগ্ধ হয়ে সময় কাটাচ্ছেন। তারা এই মনোমুগ্ধকর অভিজ্ঞতা নিয়ে দারুণ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

ঢাকা থেকে আগত পর্যটক সালমান খান বলেন, “ঈদের ছুটির জন্য সুন্দরবনে আসা এক দারুণ অভিজ্ঞতা। এখানকার পরিবেশ সত্যিই অসাধারণ। যাতায়াতের রাস্তাও বেশ ভালো। প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্য উপভোগ করা এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত।”

করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির জানান, “ঈদের এই ছুটিতে প্রতিদিন অন্তত হাজারো পর্যটক সুন্দরবনে অবস্থান করবেন বলে আশা করছি। এটি পর্যটন খাতের প্রসারে বড় ভূমিকা রাখবে এবং ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে।” পর্যটন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের এই বিপুল আগমন পুরো পর্যটন খাতকে আরও চাঙা করবে। পর্যটকদের সুবিধার জন্য হোটেল ও জলযান কর্তৃপক্ষ বিশেষ প্যাকেজ ও ছাড়ের ব্যবস্থাও করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ওমান সাগরে ইরানি জাহাজ জব্দের মার্কিন চেষ্টা নস্যাৎ করার দাবি

ঈদের ছুটিতে মুখরিত সুন্দরবন: পর্যটকদের উপচে পড়া ভিড়

আপডেট সময় : ১০:০৫:০১ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

ঈদুল ফিতরের লম্বা ছুটি উপলক্ষে বাংলাদেশের অন্যতম প্রধান আকর্ষণ সুন্দরবন পর্যটকদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে। বিশ্বের বৃহত্তম এই ম্যানগ্রোভ বন এবং এর সংলগ্ন মোংলার বিভিন্ন পর্যটন কেন্দ্রগুলোতে দর্শনার্থীদের উপচে পড়া ভিড় লক্ষ্য করা গেছে। বিশেষ করে মোংলার শিশু পার্ক ও মেরিন ড্রাইভ এলাকা সকাল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত লোকে লোকারণ্য থাকছে, যা ঈদ উদযাপনের এক ভিন্ন মাত্রা যোগ করেছে।

রমজান মাস জুড়ে পর্যটকদের আনাগোনা প্রায় শূন্য থাকলেও ঈদের ছুটিতে চিত্র সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। মোংলার অধিকাংশ হোটেল ও রিসোর্টের কক্ষগুলো সপ্তাহখানেক আগেই আগাম বুকিং হয়ে গেছে। পর্যটন সংশ্লিষ্টদের ধারণা, আগামী সপ্তাহ অর্থাৎ ২২ থেকে ২৪ মার্চ পর্যন্ত পর্যটকদের চাপ সর্বোচ্চ পর্যায়ে থাকবে। এই বিপুল সংখ্যক পর্যটকের আগমন স্থানীয় অর্থনীতিতে নতুন করে প্রাণ সঞ্চার করেছে, যা দীর্ঘদিনের মন্দা কাটিয়ে ব্যবসায়ীদের মুখে হাসি ফুটিয়েছে।

পর্যটকদের নির্বিঘ্ন ভ্রমণ নিশ্চিত করতে স্থানীয় ব্যবসায়ী ও প্রশাসন যৌথভাবে নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। এছাড়া, পর্যটকদের আনন্দ দিতে বিশেষ বিনোদনমূলক আয়োজন এবং বিভিন্ন সেবার মান উন্নত করার উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। দূর-দূরান্ত থেকে পরিবার-পরিজন নিয়ে আসা পর্যটকরা সুন্দরবনের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য, নদী, বন এবং বন্যপ্রাণীর অপার সম্ভারে মুগ্ধ হয়ে সময় কাটাচ্ছেন। তারা এই মনোমুগ্ধকর অভিজ্ঞতা নিয়ে দারুণ সন্তুষ্টি প্রকাশ করেছেন।

ঢাকা থেকে আগত পর্যটক সালমান খান বলেন, “ঈদের ছুটির জন্য সুন্দরবনে আসা এক দারুণ অভিজ্ঞতা। এখানকার পরিবেশ সত্যিই অসাধারণ। যাতায়াতের রাস্তাও বেশ ভালো। প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্য উপভোগ করা এবং পরিবারের সঙ্গে সময় কাটানো এক অবিস্মরণীয় মুহূর্ত।”

করমজল বন্যপ্রাণী প্রজনন কেন্দ্রের ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা আজাদ কবির জানান, “ঈদের এই ছুটিতে প্রতিদিন অন্তত হাজারো পর্যটক সুন্দরবনে অবস্থান করবেন বলে আশা করছি। এটি পর্যটন খাতের প্রসারে বড় ভূমিকা রাখবে এবং ধারাবাহিকতা বজায় থাকলে রাজস্ব আয়ও বৃদ্ধি পাবে।” পর্যটন সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ আশা করছে, ঈদের ছুটিতে পর্যটকদের এই বিপুল আগমন পুরো পর্যটন খাতকে আরও চাঙা করবে। পর্যটকদের সুবিধার জন্য হোটেল ও জলযান কর্তৃপক্ষ বিশেষ প্যাকেজ ও ছাড়ের ব্যবস্থাও করেছে।