ঢাকা ০৪:২২ পূর্বাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

ঈদের ছুটিতে মহাস্থানগড়ে দর্শনার্থীদের ঢল: ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক আকর্ষণে মুগ্ধ পর্যটকরা

পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন থেকেই দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসু মানুষ এখানে ছুটে আসছেন, ফলে সৃষ্টি হয়েছে উপচে পড়া ভিড়।

প্রতি শুক্রবার হযরত শাহ সুলতান বলখী (র:) এর মাজার জিয়ারত করতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মুসল্লিরা আসেন। ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে সেই ভিড় কয়েকগুণ বেড়ে গেছে, যা এই স্থানটির আধ্যাত্মিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্বেরই প্রতিফলন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বৃষ্টির কারণে কিছুটা বিরতি এলেও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মহাস্থানগড়ের মানকালি, জিয়ৎকুন্ড, জাদুঘর এলাকা এবং জাহাজঘাটা-তে হাজার হাজার দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। বিশেষ করে মহাস্থান জাদুঘর প্রাঙ্গণ দর্শকদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে, যেখানে তারা প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী হচ্ছেন।

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা আব্দুল মোমিন খন্দকার জানান, ঈদের ছুটিতে প্রশান্তির খোঁজে তিনি মহাস্থানগড়ে এসেছেন। এখানে এসে প্রাচীন ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত হতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।

প্রায় আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন এই নগরীটি একসময় পুন্ড্রবর্ধন বা পুন্ড্রনগর নামে পরিচিত ছিল এবং এটি প্রাচীন বাংলার রাজধানী ছিল। মহাস্থানগড়ের ভেতরে রয়েছে গোকুল মেধ (বেহুলা-লখিন্দরের বাসরঘর নামে পরিচিত), ভাসুবিহার, রাজা পশুরামের রাজপ্রাসাদ, জিয়ৎকুন্ড, শীলাদেবীর ঘাট, গোবিন্দ ভিটা, সিংহদ্বারসহ নানা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, যা পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

এছাড়া করতোয়া নদী সংলগ্ন মনোরম পরিবেশেও দর্শনার্থীরা তাদের সময় কাটাচ্ছেন। বিকেলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভ্রমণকারীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করছে এবং মুগ্ধ করে তুলছে।

মহাস্থান জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান রাজিয়া সুলতানা জানান, ঈদের দিন থেকেই দর্শনার্থীদের চাপ বেড়েছে। শিক্ষার্থীরাও এখানে এসে প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানার সুযোগ পাচ্ছে, যা তাদের জ্ঞান অর্জনে সহায়ক হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় থানা পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি, যা একটি স্বস্তিদায়ক বিষয়।

ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপূর্ব মেলবন্ধনে মহাস্থানগড় দিন দিন দেশি পর্যটকদের কাছে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এবং এটি বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ওমান সাগরে ইরানি জাহাজ জব্দের মার্কিন চেষ্টা নস্যাৎ করার দাবি

ঈদের ছুটিতে মহাস্থানগড়ে দর্শনার্থীদের ঢল: ঐতিহাসিক ও প্রাকৃতিক আকর্ষণে মুগ্ধ পর্যটকরা

আপডেট সময় : ০৯:০০:৩২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

পবিত্র ঈদুল ফিতরের দিন থেকেই দর্শনার্থীদের পদচারণায় মুখরিত হয়ে উঠেছে বগুড়ার শিবগঞ্জ উপজেলার ঐতিহাসিক মহাস্থানগড়। পরিবার-পরিজন নিয়ে ঈদের আনন্দ উপভোগ করতে দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে ভ্রমণপিপাসু মানুষ এখানে ছুটে আসছেন, ফলে সৃষ্টি হয়েছে উপচে পড়া ভিড়।

প্রতি শুক্রবার হযরত শাহ সুলতান বলখী (র:) এর মাজার জিয়ারত করতে দেশের বিভিন্ন জেলা থেকে মুসল্লিরা আসেন। ঈদের ছুটিকে কেন্দ্র করে সেই ভিড় কয়েকগুণ বেড়ে গেছে, যা এই স্থানটির আধ্যাত্মিক ও ঐতিহাসিক গুরুত্বেরই প্রতিফলন।

সরেজমিনে দেখা গেছে, বৃষ্টির কারণে কিছুটা বিরতি এলেও আবহাওয়া অনুকূলে থাকায় মহাস্থানগড়ের মানকালি, জিয়ৎকুন্ড, জাদুঘর এলাকা এবং জাহাজঘাটা-তে হাজার হাজার দর্শনার্থীর সমাগম ঘটে। বিশেষ করে মহাস্থান জাদুঘর প্রাঙ্গণ দর্শকদের পদচারণায় মুখর হয়ে ওঠে, যেখানে তারা প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্যের সাক্ষী হচ্ছেন।

ঢাকা থেকে পরিবার নিয়ে ঘুরতে আসা আব্দুল মোমিন খন্দকার জানান, ঈদের ছুটিতে প্রশান্তির খোঁজে তিনি মহাস্থানগড়ে এসেছেন। এখানে এসে প্রাচীন ইতিহাসের সঙ্গে পরিচিত হতে পেরে তিনি অত্যন্ত আনন্দিত।

প্রায় আড়াই হাজার বছরের প্রাচীন এই নগরীটি একসময় পুন্ড্রবর্ধন বা পুন্ড্রনগর নামে পরিচিত ছিল এবং এটি প্রাচীন বাংলার রাজধানী ছিল। মহাস্থানগড়ের ভেতরে রয়েছে গোকুল মেধ (বেহুলা-লখিন্দরের বাসরঘর নামে পরিচিত), ভাসুবিহার, রাজা পশুরামের রাজপ্রাসাদ, জিয়ৎকুন্ড, শীলাদেবীর ঘাট, গোবিন্দ ভিটা, সিংহদ্বারসহ নানা প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, যা পর্যটকদের মুগ্ধ করে।

এছাড়া করতোয়া নদী সংলগ্ন মনোরম পরিবেশেও দর্শনার্থীরা তাদের সময় কাটাচ্ছেন। বিকেলের প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ভ্রমণকারীদের বিশেষভাবে আকৃষ্ট করছে এবং মুগ্ধ করে তুলছে।

মহাস্থান জাদুঘরের কাস্টোডিয়ান রাজিয়া সুলতানা জানান, ঈদের দিন থেকেই দর্শনার্থীদের চাপ বেড়েছে। শিক্ষার্থীরাও এখানে এসে প্রাচীন ইতিহাস ও ঐতিহ্য সম্পর্কে জানার সুযোগ পাচ্ছে, যা তাদের জ্ঞান অর্জনে সহায়ক হচ্ছে।

তিনি আরও জানান, দর্শনার্থীদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার জন্য স্থানীয় থানা পুলিশ, ট্যুরিস্ট পুলিশ এবং প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তর সতর্ক অবস্থানে রয়েছে। এখন পর্যন্ত কোনো অনাকাঙ্ক্ষিত ঘটনা ঘটেনি, যা একটি স্বস্তিদায়ক বিষয়।

ঐতিহাসিক গুরুত্ব এবং প্রাকৃতিক সৌন্দর্যের এক অপূর্ব মেলবন্ধনে মহাস্থানগড় দিন দিন দেশি পর্যটকদের কাছে আরও জনপ্রিয় হয়ে উঠছে এবং এটি বাংলাদেশের একটি অন্যতম প্রধান পর্যটন কেন্দ্র হিসেবে পরিচিতি লাভ করছে।