ঢাকা ১০:২২ অপরাহ্ন, রবিবার, ১২ এপ্রিল ২০২৬

শাওয়ালের ছয় রোজা: সারা বছর রোজার সওয়াব লাভের সুবর্ণ সুযোগ

দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনা, আত্মসংযম ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের পর মুসলিম উম্মাহর জন্য আসে ঈদের আনন্দ। হিজরি নবম মাস রমজানের পর দশম মাস শাওয়াল। এই মাস ইসলামি জীবনধারায় এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। ‘শাওয়াল’ শব্দের অর্থ হলো উন্নত হওয়া, পরিপূর্ণতা লাভ করা বা বিজয় অর্জন করা। রমজানের রোজা বান্দার আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে এবং ঈমানকে সুদৃঢ় করে, যা শাওয়াল মাসে আরও বিকশিত হয়।

শাওয়াল মাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত আমল হলো ছয়টি নফল রোজা রাখা। হাদিসে এ বিষয়ে বিশেষ ফজিলতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজানের রোজা পালনের পর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখবে, সে যেন সারা বছর রোজা রাখার সওয়াব লাভ করবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৮১৫; সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৭৫৯)।

ইসলামে প্রতিটি নেক আমলের প্রতিদান কমপক্ষে দশগুণ দেওয়া হয়। সে হিসেবে রমজানের ৩০টি রোজা এবং শাওয়ালের ৬টি রোজা মিলে মোট ৩৬টি রোজা হয়। প্রতিটি রোজার প্রতিদান ১০ গুণ ধরলে তা ৩৬০ দিনের সমান হয়, যা একটি পূর্ণ বছরের দিনসংখ্যার সমতুল্য। এই হিসাব থেকেই শাওয়ালের ছয় রোজার বিশাল ফজিলত অনুধাবন করা যায়।

এই ছয়টি রোজা একটানা বা ভেঙে ভেঙে যেকোনো দিন রাখা যেতে পারে। ইসলাম মানুষের জন্য সহজতা পছন্দ করে। তাই সুবিধামতো আদায় করাই উত্তম। তবে, যদি কারও রমজানের রোজা কাজা থেকে থাকে, তাহলে প্রথমে সেই কাজা রোজা আদায় করে নেওয়া অধিক সওয়াবের কাজ। অনেক আলেমদের মতে, কাজা রোজা শাওয়ালের রোজার আগেও আদায় করা যেতে পারে, যেমনটি হজরত আয়েশা (রা.) রমজানের কাজা রোজা শাবান মাসে আদায় করতেন (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯৫০; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১ A৪৬)।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

পারমাণবিক ইস্যু অজুহাত, যুক্তরাষ্ট্রের বৃহত্তর উদ্দেশ্য নিয়ে প্রশ্ন তুলেছে ইরান

শাওয়ালের ছয় রোজা: সারা বছর রোজার সওয়াব লাভের সুবর্ণ সুযোগ

আপডেট সময় : ০৩:২৩:৪২ অপরাহ্ন, রবিবার, ২২ মার্চ ২০২৬

দীর্ঘ এক মাস সিয়াম সাধনা, আত্মসংযম ও আল্লাহর নৈকট্য লাভের পর মুসলিম উম্মাহর জন্য আসে ঈদের আনন্দ। হিজরি নবম মাস রমজানের পর দশম মাস শাওয়াল। এই মাস ইসলামি জীবনধারায় এক বিশেষ তাৎপর্য বহন করে। ‘শাওয়াল’ শব্দের অর্থ হলো উন্নত হওয়া, পরিপূর্ণতা লাভ করা বা বিজয় অর্জন করা। রমজানের রোজা বান্দার আত্মাকে পরিশুদ্ধ করে এবং ঈমানকে সুদৃঢ় করে, যা শাওয়াল মাসে আরও বিকশিত হয়।

শাওয়াল মাসের অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত আমল হলো ছয়টি নফল রোজা রাখা। হাদিসে এ বিষয়ে বিশেষ ফজিলতের কথা উল্লেখ করা হয়েছে। স্বয়ং রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেছেন, ‘যে ব্যক্তি রমজানের রোজা পালনের পর শাওয়াল মাসে ছয়টি রোজা রাখবে, সে যেন সারা বছর রোজা রাখার সওয়াব লাভ করবে।’ (সহিহ মুসলিম, হাদিস: ২৮১৫; সুনানে তিরমিজি, হাদিস: ৭৫৯)।

ইসলামে প্রতিটি নেক আমলের প্রতিদান কমপক্ষে দশগুণ দেওয়া হয়। সে হিসেবে রমজানের ৩০টি রোজা এবং শাওয়ালের ৬টি রোজা মিলে মোট ৩৬টি রোজা হয়। প্রতিটি রোজার প্রতিদান ১০ গুণ ধরলে তা ৩৬০ দিনের সমান হয়, যা একটি পূর্ণ বছরের দিনসংখ্যার সমতুল্য। এই হিসাব থেকেই শাওয়ালের ছয় রোজার বিশাল ফজিলত অনুধাবন করা যায়।

এই ছয়টি রোজা একটানা বা ভেঙে ভেঙে যেকোনো দিন রাখা যেতে পারে। ইসলাম মানুষের জন্য সহজতা পছন্দ করে। তাই সুবিধামতো আদায় করাই উত্তম। তবে, যদি কারও রমজানের রোজা কাজা থেকে থাকে, তাহলে প্রথমে সেই কাজা রোজা আদায় করে নেওয়া অধিক সওয়াবের কাজ। অনেক আলেমদের মতে, কাজা রোজা শাওয়ালের রোজার আগেও আদায় করা যেতে পারে, যেমনটি হজরত আয়েশা (রা.) রমজানের কাজা রোজা শাবান মাসে আদায় করতেন (সহিহ বুখারি, হাদিস: ১৯৫০; সহিহ মুসলিম, হাদিস: ১১ A৪৬)।