রমজান মাস কেবল সংযম ও সাধনারই নয়, এটি নেক আমলের এক সুবর্ণ সুযোগ। এই পবিত্র মাসব্যাপী সিয়াম সাধনার পর আসে শাওয়াল মাসের প্রথম দিন, যা আমাদের জন্য বয়ে আনে আনন্দ ও ত্যাগের মহোৎসব ঈদুল ফিতর। ঈদ কেবল আনন্দেরই দিন নয়, এটি আল্লাহর অশেষ নিয়ামতের প্রাপ্তি এবং ক্ষমা লাভের এক বিশেষ উপলক্ষ।
ঈদের দিন সকালে ঘুম থেকে ওঠা এবং জামাতের সঙ্গে ঈদের নামাজ আদায় করা একটি গুরুত্বপূর্ণ সুন্নত। দীর্ঘ এক মাস রোজা রাখার পর এই আনন্দময় দিনে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ঘুম থেকে উঠে ঈদগাহে যাওয়া উচিত।
ঈদের দিন গোসল করে পবিত্র হয়ে ঈদগাহে যাওয়া মুস্তাহাব। সাহাবায়ে কেরামও এই নিয়ম মেনে চলতেন। হযরত আবদুল্লাহ ইবনে উমর (রা.) ঈদুল ফিতরে ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বে গোসল করে নিতেন বলে বর্ণিত আছে।
ঈদুল ফিতরের নামাজে যাওয়ার আগে কিছু মিষ্টি জাতীয় খাবার গ্রহণ করা সুন্নত। হজরত আনাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) ঈদুল ফিতরের দিন খেজুর না খেয়ে ঈদগাহে যেতেন না এবং তিনি বেজোড় সংখ্যক খেজুর খেতেন।
বড়দের পক্ষ থেকে ছোটদের ঈদ সালামি দেওয়া একটি সুন্দর সামাজিক রীতি, যা শিশুদের আনন্দকে বহুগুণ বাড়িয়ে দেয়। ইসলামের দৃষ্টিতে এর কোনো বাধা নেই। এটি স্নেহ, মমতা ও ভালোবাসার বহিঃপ্রকাশ, যা ঈদের আনন্দকে আরও বাড়িয়ে তোলে। ঈদের দিন সকালে ছোটদের এই সালামি দেওয়া যেতে পারে।
সদকাতুল ফিতর আদায় করাও ঈদের দিনের একটি অপরিহার্য আমল। রোজার মাধ্যমে আমরা যেমন অভাবীদের কষ্ট কিছুটা উপলব্ধি করতে পারি, তেমনি রোজায় আমাদের অনিচ্ছাকৃত ত্রুটি-বিচ্যুতি থেকেও পবিত্র হওয়ার সুযোগ পাই। তাই বিত্তবানদের উপর সদাকাতুল ফিতর ওয়াজিব। হযরত ইবনে আব্বাস (রা.) থেকে বর্ণিত, রাসুল (সা.) সদাকাতুল ফিতর আদায়কে রোজাদারকে অশ্লীলতা ও অনর্থক কথা থেকে পবিত্র করার এবং অভাবীদের খাবারের ব্যবস্থা করার উপায় হিসেবে নির্ধারণ করেছেন। ঈদের নামাজের পূর্বে এটি আদায় করলে তা কবুল হয়, আর নামাজের পর আদায় করলে তা সাধারণ সদকার ন্যায় গণ্য হয়। তাই ঈদগাহে যাওয়ার পূর্বেই সদাকাতুল ফিতর আদায় করে দেওয়া উত্তম।
ঈদগাহে যাওয়ার পথে উচ্চস্বরে তাকবির দেওয়াও একটি সুন্নত আমল। তাকবির হল, ‘আল্লাহু আকবার…’ এই আমলগুলো পালনের মাধ্যমে ঈদের দিনটি আমাদের জন্য আরও আনন্দময় ও পবিত্র হয়ে ওঠে।
রিপোর্টারের নাম 

























