ঢাকা ০১:৫২ অপরাহ্ন, সোমবার, ২০ এপ্রিল ২০২৬

লোহাগাড়ায় বনাঞ্চল উজাড়: বন বিভাগের নীরবতা, নির্বিচারে কাটা হচ্ছে পাহাড়-টিলা

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের প্রায় শতাধিক পাহাড় ও টিলা ধ্বংস করে মাটি বিক্রি এবং গাছ কেটে বনভূমি উজাড়ের প্রতিযোগিতা চলছে। বাড়ি নির্মাণের জন্যও নির্বিচারে পাহাড় কাটা হচ্ছে। বন বিভাগ এই অপরাধীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করলেও মাঠ পর্যায়ে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চুনতি রেঞ্জের সাতগড় বিটের আওতাধীন ইসহাক মিয়া সড়কসংলগ্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চল, বাইতুল মামুর জামে মসজিদ এলাকা, রাজারঘোনা, নলবনিয়া, দক্ষিণ সাতগড় বড় ঘোনা এবং চুনতি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাগান পাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ও টিলা কেটে মাটি বিক্রি, বাড়ি নির্মাণ এবং অবৈধভাবে গাছ কেটে পাহাড়ে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। এমনকি সাতগড় বিট অফিসের পাশেই প্রায় ১০টি মাছের প্রজেক্ট তৈরি করে মাছ চাষ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চুনতি রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা আবির হোসেন তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে রেঞ্জ কার্যালয় ত্যাগের কিছুক্ষণ পর সাতগড় বিট কর্মকর্তা মহসিন ফোন করে জানান, ‘স্যার বলেছেন ঈদের সময় এসে চলে গেলেন, দেখতে খারাপ দেখায়, সম্পর্ক থাকল, আপনারা আসলেন, ঈদের কিছু খচরাপাতি নিয়ে গেলেন। নিউজ করলে তো সম্পর্ক থাকলো না। আসেন, ঈদ খরচ নিয়ে যান।’

বনভূমি উজাড় এবং গভীর বনাঞ্চলে বাসস্থান তৈরির কারণে বন্যহাতিসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণী তীব্র খাদ্য সংকটে পড়ে লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এতে কৃষকের ফসল ও ঘর-বাড়ি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে।

বন ও বন্যপ্রাণী প্রেমীদের অভিযোগ, সংরক্ষিত বনাঞ্চল দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ ও পাহাড় কাটার ফলে বনাঞ্চলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, চুনতি রেঞ্জ কর্মকর্তা আবির হোসেন এবং বিট কর্মকর্তা মহসিন ভূমিদস্যুদের সঙ্গে আঁতাত করায় বনাঞ্চল দখল বন্ধ হচ্ছে না। বন বিভাগের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে পাহাড়-টিলা কেটে মাটি বিক্রি, গাছ কেটে বনশূন্য করা এবং বাড়ি নির্মাণের মতো ঘটনা ঘটছে। এই বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বন বিভাগ লোক দেখানো অভিযান ও মামলা দিয়ে দায় সারছে। অন্যদিকে, অবৈধ দখলদাররা তাদের দখল স্থায়ী করতে নানামুখী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নগর বাউলের লাইনআপে পরিবর্তন: রানা বিদায় নিলেন, যোগ দিলেন এলিন

লোহাগাড়ায় বনাঞ্চল উজাড়: বন বিভাগের নীরবতা, নির্বিচারে কাটা হচ্ছে পাহাড়-টিলা

আপডেট সময় : ০৬:৫৭:৪৩ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

চট্টগ্রামের লোহাগাড়া উপজেলায় সংরক্ষিত বনাঞ্চলের প্রায় শতাধিক পাহাড় ও টিলা ধ্বংস করে মাটি বিক্রি এবং গাছ কেটে বনভূমি উজাড়ের প্রতিযোগিতা চলছে। বাড়ি নির্মাণের জন্যও নির্বিচারে পাহাড় কাটা হচ্ছে। বন বিভাগ এই অপরাধীদের বিরুদ্ধে ‘জিরো টলারেন্স’ নীতি ঘোষণা করলেও মাঠ পর্যায়ে তার কোনো প্রতিফলন দেখা যাচ্ছে না।

সরেজমিনে দেখা গেছে, চুনতি রেঞ্জের সাতগড় বিটের আওতাধীন ইসহাক মিয়া সড়কসংলগ্ন সংরক্ষিত বনাঞ্চল, বাইতুল মামুর জামে মসজিদ এলাকা, রাজারঘোনা, নলবনিয়া, দক্ষিণ সাতগড় বড় ঘোনা এবং চুনতি ইউনিয়নের ৬ নম্বর ওয়ার্ডের বাগান পাড়াসহ বিভিন্ন স্থানে পাহাড় ও টিলা কেটে মাটি বিক্রি, বাড়ি নির্মাণ এবং অবৈধভাবে গাছ কেটে পাহাড়ে আগুন দেওয়ার ঘটনা ঘটছে। এমনকি সাতগড় বিট অফিসের পাশেই প্রায় ১০টি মাছের প্রজেক্ট তৈরি করে মাছ চাষ করা হচ্ছে।

এ বিষয়ে জানতে চাইলে চুনতি রেঞ্জের রেঞ্জ কর্মকর্তা আবির হোসেন তথ্য দিতে অপারগতা প্রকাশ করেন। পরে রেঞ্জ কার্যালয় ত্যাগের কিছুক্ষণ পর সাতগড় বিট কর্মকর্তা মহসিন ফোন করে জানান, ‘স্যার বলেছেন ঈদের সময় এসে চলে গেলেন, দেখতে খারাপ দেখায়, সম্পর্ক থাকল, আপনারা আসলেন, ঈদের কিছু খচরাপাতি নিয়ে গেলেন। নিউজ করলে তো সম্পর্ক থাকলো না। আসেন, ঈদ খরচ নিয়ে যান।’

বনভূমি উজাড় এবং গভীর বনাঞ্চলে বাসস্থান তৈরির কারণে বন্যহাতিসহ অন্যান্য বন্যপ্রাণী তীব্র খাদ্য সংকটে পড়ে লোকালয়ে প্রবেশ করছে। এতে কৃষকের ফসল ও ঘর-বাড়ি নষ্ট হওয়ার পাশাপাশি প্রাণহানির ঘটনাও ঘটছে।

বন ও বন্যপ্রাণী প্রেমীদের অভিযোগ, সংরক্ষিত বনাঞ্চল দখল করে বিভিন্ন স্থাপনা নির্মাণ ও পাহাড় কাটার ফলে বনাঞ্চলের ব্যাপক ক্ষতি হচ্ছে। স্থানীয় সচেতন মহলের অভিযোগ, চুনতি রেঞ্জ কর্মকর্তা আবির হোসেন এবং বিট কর্মকর্তা মহসিন ভূমিদস্যুদের সঙ্গে আঁতাত করায় বনাঞ্চল দখল বন্ধ হচ্ছে না। বন বিভাগের সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে পাহাড়-টিলা কেটে মাটি বিক্রি, গাছ কেটে বনশূন্য করা এবং বাড়ি নির্মাণের মতো ঘটনা ঘটছে। এই বিষয়ে গণমাধ্যমে সংবাদ প্রকাশিত হলে বন বিভাগ লোক দেখানো অভিযান ও মামলা দিয়ে দায় সারছে। অন্যদিকে, অবৈধ দখলদাররা তাদের দখল স্থায়ী করতে নানামুখী তৎপরতা চালিয়ে যাচ্ছে।