ঢাকা ০৫:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

স্কুলে ভর্তিতে ফিরছে পরীক্ষা: মেধা যাচাই বনাম লটারি বিতর্ক

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:১৩:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬
  • ৬ বার পড়া হয়েছে

দীর্ঘ আট বছর পর দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা পদ্ধতি ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ২০ মার্চ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, এখন থেকে মেধা যাচাইয়ের ভিত্তিতেই শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হবে।

তবে পরীক্ষার সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি কী হবে, তা শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখনো স্পষ্ট করেনি। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিভাবক মহলে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে; তাদের একটি বড় অংশ প্রাথমিক স্তরে (প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি) লটারি পদ্ধতি বহাল রেখে মাধ্যমিক স্তর থেকে (ষষ্ঠ শ্রেণি) পরীক্ষা পদ্ধতি চালুর দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, অল্প বয়সে শিশুদের ওপর ভর্তি পরীক্ষার চাপ দেওয়া অযৌক্তিক, তবে বড় ক্লাসে মেধাবীদের পছন্দের স্কুলে পড়ার সুযোগ পাওয়া তাদের অধিকার।

অন্যদিকে, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদরা সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী এই পদক্ষেপকে শিক্ষা খাতের জন্য ‘বিপর্যয়’ বা ‘ডিজাস্টার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, ভর্তি পরীক্ষা মানেই তদবির ও বাণিজ্যের পথ খুলে দেওয়া। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুনও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তাঁদের মতে, পরীক্ষা পদ্ধতি ফিরলে কোচিং বাণিজ্য তুঙ্গে উঠবে এবং শিশু শিক্ষার্থীরা মানসিক চাপের মুখে পড়বে। এছাড়া, নামী স্কুলগুলোতে কেবল বিত্তবানদের সন্তানদের আধিপত্য তৈরি হবে, যা সমাজে শিক্ষা বৈষম্য আরও বাড়িয়ে তুলবে। শিক্ষকরাও এ নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত; এক পক্ষ মনে করছেন লটারির মাধ্যমে সব মেধার শিক্ষার্থীর মিশ্রণ ঘটে, অন্য পক্ষ মনে করছেন একাডেমিক শৃঙ্খলা রক্ষায় যাচাই পদ্ধতি জরুরি।

এই বিতর্কের প্রেক্ষাপটে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন আশ্বস্ত করেছেন যে, পরীক্ষা পদ্ধতি ফিরলেও কোনো ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি বা কোচিং বাণিজ্য হতে দেওয়া হবে না। তিনি লটারি বা অটোপাসের মতো নিয়মকে মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থার পরিপন্থী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মন্ত্রী জানান, মেধা যাচাইয়ের জন্য খুব সহজ, সাবলীল ও স্বচ্ছ একটি পদ্ধতি অবলম্বন করা হবে যাতে অভিভাবক বা শিক্ষার্থীদের উদ্বিগ্ন হতে না হয়। উল্লেখ্য, ২০১১ সালে প্রথম শ্রেণিতে এবং ২০২০ সালে করোনা মহামারির কারণে সব শ্রেণিতে লটারি পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে, যা নিয়ে আগামী দিনে আরও বিস্তারিত নীতিমালা আসার অপেক্ষায় রয়েছে দেশবাসী।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ইরানকে দমানোর সক্ষমতা নিয়ে ভুল ধারণা পোষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র’

স্কুলে ভর্তিতে ফিরছে পরীক্ষা: মেধা যাচাই বনাম লটারি বিতর্ক

আপডেট সময় : ১১:১৩:১৪ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

দীর্ঘ আট বছর পর দেশের সরকারি ও বেসরকারি বিদ্যালয়ে প্রথম থেকে নবম শ্রেণি পর্যন্ত ভর্তিতে লটারি পদ্ধতি বাতিল করে পুনরায় পরীক্ষা পদ্ধতি ফিরিয়ে আনার সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকার। ২০ মার্চ প্রকাশিত এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে যে, এখন থেকে মেধা যাচাইয়ের ভিত্তিতেই শিক্ষার্থীদের ভর্তি করা হবে।

তবে পরীক্ষার সুনির্দিষ্ট পদ্ধতি কী হবে, তা শিক্ষা মন্ত্রণালয় এখনো স্পষ্ট করেনি। এই সিদ্ধান্ত নিয়ে দেশজুড়ে ব্যাপক আলোচনা ও সমালোচনার সৃষ্টি হয়েছে। অভিভাবক মহলে এ নিয়ে মিশ্র প্রতিক্রিয়া দেখা গেছে; তাদের একটি বড় অংশ প্রাথমিক স্তরে (প্রথম থেকে পঞ্চম শ্রেণি) লটারি পদ্ধতি বহাল রেখে মাধ্যমিক স্তর থেকে (ষষ্ঠ শ্রেণি) পরীক্ষা পদ্ধতি চালুর দাবি জানিয়েছেন। তাঁদের মতে, অল্প বয়সে শিশুদের ওপর ভর্তি পরীক্ষার চাপ দেওয়া অযৌক্তিক, তবে বড় ক্লাসে মেধাবীদের পছন্দের স্কুলে পড়ার সুযোগ পাওয়া তাদের অধিকার।

অন্যদিকে, বিশিষ্ট শিক্ষাবিদরা সরকারের এই সিদ্ধান্তের তীব্র সমালোচনা করেছেন। গণসাক্ষরতা অভিযানের নির্বাহী পরিচালক রাশেদা কে চৌধূরী এই পদক্ষেপকে শিক্ষা খাতের জন্য ‘বিপর্যয়’ বা ‘ডিজাস্টার’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। তাঁর মতে, ভর্তি পরীক্ষা মানেই তদবির ও বাণিজ্যের পথ খুলে দেওয়া। ব্র্যাক বিশ্ববিদ্যালয়ের ইমেরিটাস অধ্যাপক মনজুর আহমদ এবং ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক কামরুল হাসান মামুনও উদ্বেগ প্রকাশ করেছেন।

তাঁদের মতে, পরীক্ষা পদ্ধতি ফিরলে কোচিং বাণিজ্য তুঙ্গে উঠবে এবং শিশু শিক্ষার্থীরা মানসিক চাপের মুখে পড়বে। এছাড়া, নামী স্কুলগুলোতে কেবল বিত্তবানদের সন্তানদের আধিপত্য তৈরি হবে, যা সমাজে শিক্ষা বৈষম্য আরও বাড়িয়ে তুলবে। শিক্ষকরাও এ নিয়ে দ্বিধাবিভক্ত; এক পক্ষ মনে করছেন লটারির মাধ্যমে সব মেধার শিক্ষার্থীর মিশ্রণ ঘটে, অন্য পক্ষ মনে করছেন একাডেমিক শৃঙ্খলা রক্ষায় যাচাই পদ্ধতি জরুরি।

এই বিতর্কের প্রেক্ষাপটে শিক্ষামন্ত্রী এহছানুল হক মিলন আশ্বস্ত করেছেন যে, পরীক্ষা পদ্ধতি ফিরলেও কোনো ধরনের অনিয়ম-দুর্নীতি বা কোচিং বাণিজ্য হতে দেওয়া হবে না। তিনি লটারি বা অটোপাসের মতো নিয়মকে মানসম্মত শিক্ষা ব্যবস্থার পরিপন্থী হিসেবে উল্লেখ করেছেন। মন্ত্রী জানান, মেধা যাচাইয়ের জন্য খুব সহজ, সাবলীল ও স্বচ্ছ একটি পদ্ধতি অবলম্বন করা হবে যাতে অভিভাবক বা শিক্ষার্থীদের উদ্বিগ্ন হতে না হয়। উল্লেখ্য, ২০১১ সালে প্রথম শ্রেণিতে এবং ২০২০ সালে করোনা মহামারির কারণে সব শ্রেণিতে লটারি পদ্ধতি বাধ্যতামূলক করা হয়েছিল। সরকারের এই নতুন সিদ্ধান্তের ফলে শিক্ষা ব্যবস্থায় বড় ধরনের পরিবর্তনের আভাস পাওয়া যাচ্ছে, যা নিয়ে আগামী দিনে আরও বিস্তারিত নীতিমালা আসার অপেক্ষায় রয়েছে দেশবাসী।