ঢাকা ০৫:২০ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

উত্তরের ঈদযাত্রায় যমুনা সেতু কেন যানজটের ‘মরনফাঁদ’?

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে প্রতি বছর ঈদুল ফিতর উপলক্ষে উত্তরবঙ্গগামী লাখ লাখ মানুষের যে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়, তার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে যমুনা সেতুর অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও ক্রমবর্ধমান যানবাহনের চাপকে দায়ী করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তারা। মহাসড়কটি এলেঙ্গা পর্যন্ত চার লেনের প্রশস্ততা নিয়ে এগোলেও যমুনা সেতুটি মূলত দুই লেনের এবং এর কারিগরি মান সাধারণ লেনের চেয়ে প্রায় এক মিটার কম হওয়ায় এটি বিশাল সংখ্যক যানবাহনের ভার সইতে পারছে না।

ঈদযাত্রায় যখন ঢাকা থেকে হাজার হাজার যানবাহন একসাথে যমুনা সেতুর টোল প্লাজায় পৌঁছায়, তখন সেতুর মাত্র একটি সরু লেন দিয়ে এই বিপুল পরিমাণ গাড়ি পার হতে পারে না। ফলে টোল প্লাজা অতিক্রম করার পরপরই যানবাহনের গতি অত্যন্ত মন্থর হয়ে যায় এবং এর নেতিবাচক প্রভাব পেছনে চন্দ্রা ত্রিমোড় পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটে রূপ নেয়। যমুনা সেতুর সাইট অফিসের তথ্য অনুযায়ী, একটি আদর্শ লেনের মানদণ্ড ৭.৩ মিটার হলেও এই সেতুর লেনের প্রস্থ মাত্র ৬.৩ মিটার, যার ফলে দুটি গাড়ি পাশাপাশি চলার কোনো সুযোগ নেই এবং সেতুর ওপর একটি গাড়ি বিকল হলে পুরো লেনের চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে।

অতিরিক্ত যানবাহনের অস্বাভাবিক চাপ এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ি বিকল হওয়া এই সংকটকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতু দিয়ে রেকর্ড ৫১ হাজার ৫৮৪টি যানবাহন পারাপার হয়েছে এবং এই সময়ের মধ্যে সেতুর ওপর অন্তত ১৫টি গাড়ি বিকল হয়ে পড়েছিল। সরু সেতু থেকে এসব বিকল যানবাহন সরিয়ে নিতে দীর্ঘ সময় লাগায় মুহূর্তের মধ্যেই যানজট মাইলের পর মাইল ছড়িয়ে পড়ে। যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত একদিনে ৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকারও বেশি টোল আদায় হয়েছে, যা এই রুটে গাড়ির প্রচণ্ড চাপের প্রমাণ দেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাইওয়ে পুলিশ মাঝেমধ্যে সেতুর পূর্ব প্রান্তের লেন একমুখী বা ‘ওয়ানওয়ে’ করে দিচ্ছে, যাতে উত্তরবঙ্গগামী গাড়িগুলো সেতুর দুটি লেনই ব্যবহার করে দ্রুত পার হতে পারে। যমুনা নদীর ওপর নবনির্মিত রেলসেতুটি চালু হওয়ায় বর্তমান সড়ক সেতু থেকে পরিত্যক্ত রেললাইন অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। এটি সম্পন্ন হলে মূল সড়কে আরও প্রায় সাড়ে তিন মিটার জায়গা বাড়বে এবং উভয় লেনের প্রশস্ততা বৃদ্ধি পাবে, যা ভবিষ্যতে ঈদযাত্রার এই দীর্ঘস্থায়ী ভোগান্তি অনেকাংশে কমিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে মহাসড়কে শৃঙ্খলা রক্ষায় এক হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্য এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ইরানকে দমানোর সক্ষমতা নিয়ে ভুল ধারণা পোষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র’

উত্তরের ঈদযাত্রায় যমুনা সেতু কেন যানজটের ‘মরনফাঁদ’?

আপডেট সময় : ১১:০৮:৩৬ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ২০ মার্চ ২০২৬

ঢাকা-টাঙ্গাইল-যমুনা সেতু মহাসড়কে প্রতি বছর ঈদুল ফিতর উপলক্ষে উত্তরবঙ্গগামী লাখ লাখ মানুষের যে চরম ভোগান্তি পোহাতে হয়, তার পেছনে প্রধান কারণ হিসেবে যমুনা সেতুর অবকাঠামোগত সীমাবদ্ধতা ও ক্রমবর্ধমান যানবাহনের চাপকে দায়ী করেছেন সংশ্লিষ্ট বিশেষজ্ঞ ও কর্মকর্তারা। মহাসড়কটি এলেঙ্গা পর্যন্ত চার লেনের প্রশস্ততা নিয়ে এগোলেও যমুনা সেতুটি মূলত দুই লেনের এবং এর কারিগরি মান সাধারণ লেনের চেয়ে প্রায় এক মিটার কম হওয়ায় এটি বিশাল সংখ্যক যানবাহনের ভার সইতে পারছে না।

ঈদযাত্রায় যখন ঢাকা থেকে হাজার হাজার যানবাহন একসাথে যমুনা সেতুর টোল প্লাজায় পৌঁছায়, তখন সেতুর মাত্র একটি সরু লেন দিয়ে এই বিপুল পরিমাণ গাড়ি পার হতে পারে না। ফলে টোল প্লাজা অতিক্রম করার পরপরই যানবাহনের গতি অত্যন্ত মন্থর হয়ে যায় এবং এর নেতিবাচক প্রভাব পেছনে চন্দ্রা ত্রিমোড় পর্যন্ত প্রায় ৭০ কিলোমিটার দীর্ঘ যানজটে রূপ নেয়। যমুনা সেতুর সাইট অফিসের তথ্য অনুযায়ী, একটি আদর্শ লেনের মানদণ্ড ৭.৩ মিটার হলেও এই সেতুর লেনের প্রস্থ মাত্র ৬.৩ মিটার, যার ফলে দুটি গাড়ি পাশাপাশি চলার কোনো সুযোগ নেই এবং সেতুর ওপর একটি গাড়ি বিকল হলে পুরো লেনের চলাচল স্থবির হয়ে পড়ে।

অতিরিক্ত যানবাহনের অস্বাভাবিক চাপ এবং ফিটনেসবিহীন গাড়ি বিকল হওয়া এই সংকটকে আরও ভয়াবহ করে তুলছে। গত ২৪ ঘণ্টায় যমুনা সেতু দিয়ে রেকর্ড ৫১ হাজার ৫৮৪টি যানবাহন পারাপার হয়েছে এবং এই সময়ের মধ্যে সেতুর ওপর অন্তত ১৫টি গাড়ি বিকল হয়ে পড়েছিল। সরু সেতু থেকে এসব বিকল যানবাহন সরিয়ে নিতে দীর্ঘ সময় লাগায় মুহূর্তের মধ্যেই যানজট মাইলের পর মাইল ছড়িয়ে পড়ে। যমুনা সেতু কর্তৃপক্ষ জানিয়েছে, গত একদিনে ৩ কোটি ৪৩ লাখ টাকারও বেশি টোল আদায় হয়েছে, যা এই রুটে গাড়ির প্রচণ্ড চাপের প্রমাণ দেয়।

পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণে আনতে হাইওয়ে পুলিশ মাঝেমধ্যে সেতুর পূর্ব প্রান্তের লেন একমুখী বা ‘ওয়ানওয়ে’ করে দিচ্ছে, যাতে উত্তরবঙ্গগামী গাড়িগুলো সেতুর দুটি লেনই ব্যবহার করে দ্রুত পার হতে পারে। যমুনা নদীর ওপর নবনির্মিত রেলসেতুটি চালু হওয়ায় বর্তমান সড়ক সেতু থেকে পরিত্যক্ত রেললাইন অপসারণের কাজ শুরু হয়েছে। এটি সম্পন্ন হলে মূল সড়কে আরও প্রায় সাড়ে তিন মিটার জায়গা বাড়বে এবং উভয় লেনের প্রশস্ততা বৃদ্ধি পাবে, যা ভবিষ্যতে ঈদযাত্রার এই দীর্ঘস্থায়ী ভোগান্তি অনেকাংশে কমিয়ে আনবে বলে আশা করা হচ্ছে। বর্তমানে মহাসড়কে শৃঙ্খলা রক্ষায় এক হাজারেরও বেশি পুলিশ সদস্য এবং স্থানীয় স্বেচ্ছাসেবীরা নিরলসভাবে দায়িত্ব পালন করছেন।