ঈদ শব্দটি আরবি, যার অর্থ ফিরে আসা। যে উৎসব প্রতি বছর বারবার ফিরে আসে, তাকেই ঈদ বলা হয়। এটি আনন্দ ও খুশির এক বিশেষ উপলক্ষ। প্রত্যেক জাতিগোষ্ঠীর নিজস্ব বার্ষিক উৎসব থাকে, যেমনটি রাসুলুল্লাহ (সা.) এক ঈদের দিনে বলেছিলেন, ‘প্রত্যেক সম্প্রদায়ের ঈদ রয়েছে, আর আজ আমাদের ঈদ।’ ইসলামের দুটি প্রধান ঈদ হলো ঈদুল ফিতর ও ঈদুল আজহা।
ইমাম ইবনে রজব হাম্বলি (রহ.) বলেন, ঈদুল ফিতর মুসলিম উম্মাহর জন্য আনন্দ ও খুশির দিন, কারণ এ দিনে আল্লাহ রোজাদারদের জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেন। ফলে পাপীরাও নেককারদের অন্তর্ভুক্ত হয়ে যায়। আর ঈদুল আজহা বৃহত্তর ঈদ, কারণ এর আগের দিন আরাফার দিনে বিপুল সংখ্যক মানুষকে জাহান্নাম থেকে মুক্তি দেওয়া হয়, যা বছরের অন্য কোনো দিনে হয় না।
ঈদুল ফিতরের আনন্দ মূলত সিয়াম পালনকারীদের জন্য। নবীজি (সা.) বলেছেন, ‘রোজাদারের জন্য দুটি আনন্দ রয়েছে: একটি ইফতারের সময়, অন্যটি তার রবের সঙ্গে সাক্ষাতের সময়।’ ঈমান ও আল্লাহর সন্তুষ্টি অর্জনের প্রত্যাশায় রোজা পালনকারীর জন্য ঈদুল ফিতর এক বিশেষ আনন্দের উপলক্ষ। তার পূর্বাপর গুনাহ মাফ হয়ে যায় এবং তিনি আল্লাহর কাছ থেকে প্রতিদান লাভের অধিকারী হন। হাদিসে বর্ণিত হয়েছে, রমজান পেয়েও যে ব্যক্তি গুনাহ থেকে মুক্তি পায়নি, সে ধ্বংসপ্রাপ্ত।
রোজাদার এক মাস ধরে ঈমান ও আন্তরিকতার সাথে সিয়াম সাধনার তৌফিক লাভ করেছেন। এখন তিনি আল্লাহর কাছ থেকে প্রতিশ্রুত প্রতিদান পাওয়ার প্রত্যাশা করছেন। তবে, আখিরাতে রবের কাছ থেকে চূড়ান্ত প্রতিদান পাওয়ার আগ পর্যন্ত তার মনে এক ধরনের আশঙ্কা থেকেই যায় – তার সাধনা কি প্রতিদানের উপযুক্ত হয়েছে? আল্লাহ কি তার ইবাদত কবুল করেছেন? এই ভাবনা রোজাদারকে ঈদ আনন্দে সম্পূর্ণরূপে আত্মহারা হতে দেয় না।
বর্তমানে সমাজে ঈদ উদযাপনের সংস্কৃতিতে নানা পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। তবে ঈদের মূল চেতনা হলো আল্লাহর প্রতি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ এবং তাঁর সন্তুষ্টি অর্জন। এই দিনে আনন্দ উদযাপনের পাশাপাশি আমাদের উচিত ইসলামের জীবনবোধকে ধারণ করা এবং একে অপরের প্রতি সহমর্মিতা ও ভালোবাসা প্রদর্শন করা।
রিপোর্টারের নাম 

























