ঢাকা ০৯:৩৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

ইরানের পতনে মধ্যপ্রাচ্যে শরণার্থী সংকট ও ইউরোপের নিরাপত্তা ঝুঁকি: জার্মানির উদ্বেগ

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ০২:৩৮:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬
  • ৪ বার পড়া হয়েছে

জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের দ্রুত অবসানের ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, যদি ইরান রাষ্ট্রকাঠামো ভেঙে পড়ে, তবে তা কেবল পুরো ইউরোপের নিরাপত্তাই বিঘ্নিত করবে না, বরং জ্বালানি সরবরাহেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই পরিস্থিতির ফলে একটি বিশাল শরণার্থী সংকট সৃষ্টি হতে পারে, যা ইউরোপের জন্য একটি গুরুতর হুমকি। তাই জার্মানির স্বার্থেই এই সংঘাতের অবিলম্বে অবসান প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

বুধবার দেশটির পার্লামেন্টে দেওয়া এক ভাষণে চ্যান্সেলর মের্ৎস স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, আমেরিকা যদি এই যুদ্ধের বিষয়ে জার্মানির সাথে পূর্বেই পরামর্শ করত, তবে বার্লিন এই পথে না হাঁটার পরামর্শ দিত। তিনি আরও জানান, যুদ্ধের পরিকল্পনা বা কার্যক্রম নিয়ে ওয়াশিংটন জার্মানির সাথে কোনো আলোচনা করেনি। মের্ৎস বলেন, ইসরায়েল এবং আমেরিকার মতো জার্মানিও চায় ইরান যেন ভবিষ্যতে আর কোনো হুমকি হয়ে না দাঁড়ায়। তিনি বলেন, বিগত কয়েক দশক ধরে ইরান আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন লঙ্ঘন করে সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়েছে এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করেছে। বর্তমান সংকটের জন্য মূলত ইরানই দায়ী।

তবে চলমান যুদ্ধের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলে মের্ৎস বলেন, ‘এই সামরিক অভিযান কীভাবে সফল হবে, সে বিষয়ে আমেরিকা বা ইসরায়েল কোনো বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনা দেখাতে পারেনি। এ কারণেই আমরা শুরু থেকেই জানিয়ে দিয়েছি যে, যতক্ষণ এই যুদ্ধ চলবে, জার্মানি এতে অংশ নেবে না।’ এদিকে, জার্মান সরকারের পক্ষ থেকে আবারও নিশ্চিত করা হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের সাথে ন্যাটো (NATO)-র কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য নেতারাও এ সংঘাত থেকে দূরত্ব বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরাইল ইস্যুতে লেবাননে গভীর বিভেদ: মুখোমুখি সরকার ও হিজবুল্লাহ

ইরানের পতনে মধ্যপ্রাচ্যে শরণার্থী সংকট ও ইউরোপের নিরাপত্তা ঝুঁকি: জার্মানির উদ্বেগ

আপডেট সময় : ০২:৩৮:২৮ পূর্বাহ্ন, বৃহস্পতিবার, ১৯ মার্চ ২০২৬

জার্মানির চ্যান্সেলর ফ্রিডরিখ মের্ৎস মধ্যপ্রাচ্যে চলমান সংঘাতের দ্রুত অবসানের ওপর জোর দিয়ে বলেছেন, যদি ইরান রাষ্ট্রকাঠামো ভেঙে পড়ে, তবে তা কেবল পুরো ইউরোপের নিরাপত্তাই বিঘ্নিত করবে না, বরং জ্বালানি সরবরাহেও বড় ধরনের নেতিবাচক প্রভাব ফেলবে। তিনি সতর্ক করে বলেন, এই পরিস্থিতির ফলে একটি বিশাল শরণার্থী সংকট সৃষ্টি হতে পারে, যা ইউরোপের জন্য একটি গুরুতর হুমকি। তাই জার্মানির স্বার্থেই এই সংঘাতের অবিলম্বে অবসান প্রয়োজন বলে তিনি মনে করেন।

বুধবার দেশটির পার্লামেন্টে দেওয়া এক ভাষণে চ্যান্সেলর মের্ৎস স্পষ্ট ভাষায় উল্লেখ করেন যে, আমেরিকা যদি এই যুদ্ধের বিষয়ে জার্মানির সাথে পূর্বেই পরামর্শ করত, তবে বার্লিন এই পথে না হাঁটার পরামর্শ দিত। তিনি আরও জানান, যুদ্ধের পরিকল্পনা বা কার্যক্রম নিয়ে ওয়াশিংটন জার্মানির সাথে কোনো আলোচনা করেনি। মের্ৎস বলেন, ইসরায়েল এবং আমেরিকার মতো জার্মানিও চায় ইরান যেন ভবিষ্যতে আর কোনো হুমকি হয়ে না দাঁড়ায়। তিনি বলেন, বিগত কয়েক দশক ধরে ইরান আন্তর্জাতিক নিয়মকানুন লঙ্ঘন করে সন্ত্রাসবাদ ছড়িয়েছে এবং পার্শ্ববর্তী অঞ্চলে অস্থিতিশীলতা সৃষ্টি করেছে। বর্তমান সংকটের জন্য মূলত ইরানই দায়ী।

তবে চলমান যুদ্ধের কৌশল নিয়ে প্রশ্ন তুলে মের্ৎস বলেন, ‘এই সামরিক অভিযান কীভাবে সফল হবে, সে বিষয়ে আমেরিকা বা ইসরায়েল কোনো বিশ্বাসযোগ্য পরিকল্পনা দেখাতে পারেনি। এ কারণেই আমরা শুরু থেকেই জানিয়ে দিয়েছি যে, যতক্ষণ এই যুদ্ধ চলবে, জার্মানি এতে অংশ নেবে না।’ এদিকে, জার্মান সরকারের পক্ষ থেকে আবারও নিশ্চিত করা হয়েছে যে, মধ্যপ্রাচ্যে শুরু হওয়া এই যুদ্ধের সাথে ন্যাটো (NATO)-র কোনো সংশ্লিষ্টতা নেই। ইউরোপীয় ইউনিয়নের অন্যান্য নেতারাও এ সংঘাত থেকে দূরত্ব বজায় রাখার ইঙ্গিত দিয়েছেন।