ঢাকা ১০:৫৬ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

ইসরাইল ইস্যুতে লেবাননে গভীর বিভেদ: মুখোমুখি সরকার ও হিজবুল্লাহ

ইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা ও দর-কষাকষির পথ প্রশস্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরাইল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূত এবং মার্কিন রাজনীতিকদের মধ্যে দুই দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এই আলোচনা প্রক্রিয়া নিয়ে লেবানন সরকার এবং সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে তীব্র মতভেদ দেখা দিয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে।

লেবাননের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীসহ দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটি বড় অংশ এই আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখতে আগ্রহী। তাদের মতে, ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার নিশ্চিত করা, স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং লেবাননের সার্বভৌমত্ব রক্ষার একমাত্র পথ এটিই। গতকাল লেবাননের প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি চান না তার দেশ আঞ্চলিক কোনো স্বার্থের গুটি হিসেবে ব্যবহৃত হোক। তার এই মন্তব্য মূলত হিজবুল্লাহ ও ইরানের প্রচেষ্টার দিকে ইঙ্গিত করে করা হয়েছে, যারা লেবাননের যুদ্ধবিরতি ও আলোচনাকে ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত করতে চাইছে।

অন্যদিকে, হিজবুল্লাহর দাবি, লেবানন সরকারের হাতে ইসরাইলকে চাপে ফেলার মতো যথেষ্ট সক্ষমতা নেই, কারণ লেবাননের সেনাবাহিনী এই লড়াইয়ে সরাসরি যুক্ত নয়। হিজবুল্লাহর যুক্তি হলো, যেকোনো কিছু আদায়ের জন্য ইরানের সমর্থন এবং ইসরাইলে ইরানি হামলার হুমকি বজায় রাখা জরুরি। তাদের মতে, ইসরাইলি সামরিক তৎপরতা সম্পূর্ণ বন্ধের নিশ্চয়তা দেয় না এমন যুদ্ধবিরতি মূলত আগ্রাসন চালিয়ে যাওয়ার একটি অজুহাত মাত্র।

লেবাননের পার্লামেন্টে হিজবুল্লাহ ব্লকের নেতা মোহাম্মদ রাদ সতর্ক করে বলেছেন যে, ইসরাইলের হামলা অব্যাহত থাকা অবস্থায় আলোচনায় বসার পরিণতি ১৯৮৩ সালের ১৭ মে-র চুক্তির চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে। ওই চুক্তিটি লেবানন থেকে ইসরাইলের সেনা প্রত্যাহার ও শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা বললেও বাস্তবে তা গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছিল, যার বিভাজন আজও বিদ্যমান। এই গভীর মতবিরোধ লেবাননের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়া উভয়কেই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

গণভোটের রায় অমান্য করলে বিএনপি বিশ্বাসঘাতক হবে: নেজামে ইসলাম পার্টি

ইসরাইল ইস্যুতে লেবাননে গভীর বিভেদ: মুখোমুখি সরকার ও হিজবুল্লাহ

আপডেট সময় : ০৯:১৭:৩২ অপরাহ্ন, শনিবার, ২৫ এপ্রিল ২০২৬

ইসরাইলের সঙ্গে সরাসরি আলোচনা ও দর-কষাকষির পথ প্রশস্ত করতে যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত ইসরাইল ও লেবাননের রাষ্ট্রদূত এবং মার্কিন রাজনীতিকদের মধ্যে দুই দফা বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়েছে। তবে এই আলোচনা প্রক্রিয়া নিয়ে লেবানন সরকার এবং সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর মধ্যে তীব্র মতভেদ দেখা দিয়েছে, যা মধ্যপ্রাচ্যের চলমান সংকটকে আরও জটিল করে তুলেছে।

লেবাননের প্রেসিডেন্ট ও প্রধানমন্ত্রীসহ দেশটির রাজনৈতিক নেতৃত্বের একটি বড় অংশ এই আলোচনার ধারা অব্যাহত রাখতে আগ্রহী। তাদের মতে, ইসরাইলি সেনা প্রত্যাহার নিশ্চিত করা, স্থায়ী শান্তি প্রতিষ্ঠা এবং লেবাননের সার্বভৌমত্ব রক্ষার একমাত্র পথ এটিই। গতকাল লেবাননের প্রেসিডেন্ট স্পষ্ট জানিয়েছেন, তিনি চান না তার দেশ আঞ্চলিক কোনো স্বার্থের গুটি হিসেবে ব্যবহৃত হোক। তার এই মন্তব্য মূলত হিজবুল্লাহ ও ইরানের প্রচেষ্টার দিকে ইঙ্গিত করে করা হয়েছে, যারা লেবাননের যুদ্ধবিরতি ও আলোচনাকে ইরান-ইসরাইল যুদ্ধের সঙ্গে যুক্ত করতে চাইছে।

অন্যদিকে, হিজবুল্লাহর দাবি, লেবানন সরকারের হাতে ইসরাইলকে চাপে ফেলার মতো যথেষ্ট সক্ষমতা নেই, কারণ লেবাননের সেনাবাহিনী এই লড়াইয়ে সরাসরি যুক্ত নয়। হিজবুল্লাহর যুক্তি হলো, যেকোনো কিছু আদায়ের জন্য ইরানের সমর্থন এবং ইসরাইলে ইরানি হামলার হুমকি বজায় রাখা জরুরি। তাদের মতে, ইসরাইলি সামরিক তৎপরতা সম্পূর্ণ বন্ধের নিশ্চয়তা দেয় না এমন যুদ্ধবিরতি মূলত আগ্রাসন চালিয়ে যাওয়ার একটি অজুহাত মাত্র।

লেবাননের পার্লামেন্টে হিজবুল্লাহ ব্লকের নেতা মোহাম্মদ রাদ সতর্ক করে বলেছেন যে, ইসরাইলের হামলা অব্যাহত থাকা অবস্থায় আলোচনায় বসার পরিণতি ১৯৮৩ সালের ১৭ মে-র চুক্তির চেয়েও ভয়াবহ হতে পারে। ওই চুক্তিটি লেবানন থেকে ইসরাইলের সেনা প্রত্যাহার ও শান্তি প্রতিষ্ঠার কথা বললেও বাস্তবে তা গৃহযুদ্ধের দিকে ঠেলে দিয়েছিল, যার বিভাজন আজও বিদ্যমান। এই গভীর মতবিরোধ লেবাননের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতা এবং মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়া উভয়কেই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।