ঢাকা ০৩:২১ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

সন্দ্বীপে ৩০ ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ ফিরলেও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অন্ধকারে

তীব্র ঝড়ো বাতাসের কারণে বিচ্ছিন্ন হওয়া চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা দীর্ঘ ৩০ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক হয়েছে। বুধবার দুপুর নাগাদ দ্বীপের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপিত হলেও, প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। এতে রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মানস বিশ্বাস জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে হাসপাতালটি সম্পূর্ণ অন্ধকারে রয়েছে এবং জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ সচলের জন্য অপেক্ষা করছেন। তবে, সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) তানভীর হোসাইন জানিয়েছেন যে, হাসপাতালের বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জন্য অভ্যন্তরীণ ত্রুটি দায়ী। তিনি আরও বলেন, ঝড়ের কারণে মূল লাইনের ওপর গাছের ডাল ভেঙে পড়ে তার ছিঁড়ে যাওয়া এবং কয়েকটি ট্রান্সফরমার অকেজো হয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছিল। বিদ্যুৎ কর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে মূল লাইনের সংযোগ সচল করেছে।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে দ্বীপের অর্থনীতিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আকবর হাটের ক্ষুদ্র কোল্ড স্টোরেজ মালিকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে রাখা মাছ ও অন্যান্য পচনশীল পণ্য নষ্ট হতে শুরু করেছে, যা তাদের বড় অঙ্কের লোকসানে ফেলেছে। প্রান্তিক খামারিরাও ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। আমানউল্লাহ ইউনিয়নের পোল্ট্রি ফার্ম ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দিন জানান, টানা ৩০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় এবং তীব্র গরমে খামারের মুরগিগুলো অসুস্থ হয়ে পড়ছে। ফ্যান ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় অনেক মুরগি মারা যাওয়ার উপক্রম হয়েছে, যা তাকে প্রায় লক্ষাধিক টাকার লোকসানের ঝুঁকিতে ফেলেছে।

দ্বীপবাসীর দাবি, সন্দ্বীপের মতো বিচ্ছিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং ঝড়ের পর দ্রুত মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে আরও উন্নত সমন্বয় প্রয়োজন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীর ছয় থানা এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৬০ জন গ্রেপ্তার

সন্দ্বীপে ৩০ ঘণ্টা পর বিদ্যুৎ ফিরলেও স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স অন্ধকারে

আপডেট সময় : ০৯:২৩:৪৫ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

তীব্র ঝড়ো বাতাসের কারণে বিচ্ছিন্ন হওয়া চট্টগ্রামের সন্দ্বীপের বিদ্যুৎ সরবরাহ ব্যবস্থা দীর্ঘ ৩০ ঘণ্টা পর স্বাভাবিক হয়েছে। বুধবার দুপুর নাগাদ দ্বীপের অধিকাংশ এলাকায় বিদ্যুৎ সংযোগ পুনঃস্থাপিত হলেও, প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত সন্দ্বীপ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্স বিদ্যুৎ বিচ্ছিন্ন অবস্থায় রয়েছে। এতে রোগীদের চরম দুর্ভোগ পোহাতে হচ্ছে।

উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা মানস বিশ্বাস জানিয়েছেন, বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে হাসপাতালটি সম্পূর্ণ অন্ধকারে রয়েছে এবং জরুরি চিকিৎসা সরঞ্জাম চালানো অসম্ভব হয়ে পড়েছে। তিনি দ্রুত বিদ্যুৎ সংযোগ সচলের জন্য অপেক্ষা করছেন। তবে, সন্দ্বীপ উপজেলা নির্বাহী প্রকৌশলী (বিদ্যুৎ) তানভীর হোসাইন জানিয়েছেন যে, হাসপাতালের বিদ্যুৎ বিভ্রাটের জন্য অভ্যন্তরীণ ত্রুটি দায়ী। তিনি আরও বলেন, ঝড়ের কারণে মূল লাইনের ওপর গাছের ডাল ভেঙে পড়ে তার ছিঁড়ে যাওয়া এবং কয়েকটি ট্রান্সফরমার অকেজো হয়ে পড়ার ঘটনা ঘটেছিল। বিদ্যুৎ কর্মীরা নিরবচ্ছিন্নভাবে কাজ করে মূল লাইনের সংযোগ সচল করেছে।

বিদ্যুৎ বিভ্রাটের কারণে দ্বীপের অর্থনীতিও মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে। আকবর হাটের ক্ষুদ্র কোল্ড স্টোরেজ মালিকরা জানিয়েছেন, দীর্ঘ সময় বিদ্যুৎ না থাকায় ফ্রিজে রাখা মাছ ও অন্যান্য পচনশীল পণ্য নষ্ট হতে শুরু করেছে, যা তাদের বড় অঙ্কের লোকসানে ফেলেছে। প্রান্তিক খামারিরাও ক্ষতির সম্মুখীন হয়েছেন। আমানউল্লাহ ইউনিয়নের পোল্ট্রি ফার্ম ব্যবসায়ী নিজাম উদ্দিন জানান, টানা ৩০ ঘণ্টা বিদ্যুৎ না থাকায় এবং তীব্র গরমে খামারের মুরগিগুলো অসুস্থ হয়ে পড়ছে। ফ্যান ও পানি সরবরাহ ব্যবস্থা বন্ধ থাকায় অনেক মুরগি মারা যাওয়ার উপক্রম হয়েছে, যা তাকে প্রায় লক্ষাধিক টাকার লোকসানের ঝুঁকিতে ফেলেছে।

দ্বীপবাসীর দাবি, সন্দ্বীপের মতো বিচ্ছিন্ন এলাকায় বিদ্যুৎ ব্যবস্থার আধুনিকায়ন এবং ঝড়ের পর দ্রুত মেরামতের জন্য সংশ্লিষ্ট সরকারি দপ্তরগুলোর মধ্যে আরও উন্নত সমন্বয় প্রয়োজন।