ঈদের ছুটিতে ঘরমুখো মানুষের ভিড়ে মুখর হয়ে উঠেছে খুলনা। পদ্মা সেতুর কল্যাণে দক্ষিণ-পশ্চিমাঞ্চলের মানুষের বাড়ি ফেরা সহজ হলেও টিকিট সংকট যেন পিছু ছাড়ছে না। এই পরিস্থিতিতে অনেককেই অতিরিক্ত ভাড়া দিয়ে গন্তব্যে পৌঁছাতে হচ্ছে। তবে, ফিরতি যাত্রার টিকিট নিয়ে যাত্রীরা এখন চরম দুশ্চিন্তায় রয়েছেন।
ঢাকা থেকে পরিবারের সদস্যদের বরিশাল পৌঁছে দিয়ে জরুরি ব্যবসায়িক কাজে খুলনায় এসেছেন মোহাম্মদ সজল। মঙ্গলবার রাতে সোনাডাঙ্গা টার্মিনালে বাস থেকে নামার পর তিনি জানান, ঢাকা থেকে বরিশাল নন-এসি বাসের টিকিট যেখানে পাঁচশ’ পঞ্চাশ টাকা, সেখানে তাকে সাতশ’ টাকায় টিকিট কিনতে হয়েছে। তবে বরিশাল থেকে খুলনার ভাড়া বাড়েনি বলে তিনি জানান।
ঢাকার একটি বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয়ের ছাত্র পার্থ নীল। আগামী ২৯ মার্চ থেকে তার বিশ্ববিদ্যালয়ে ক্লাস শুরু হবে। ইফতারের পর সোনাডাঙ্গায় টিকিট কাটতে এসে তিনি হতাশ হন। সব পরিবহনের ২৮ তারিখের টিকিট শেষ, এমনকি তার আগের দিনের টিকিটও তিনি পাননি। অফিস-আদালত, ব্যাংক-বীমা, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান সব কিছু রোববার থেকে খোলার কারণে আগের শুক্র ও শনিবারের টিকিটের সংকট দেখা দিয়েছে।
পার্থ নীলের অভিযোগ, এই টিকিট সংকট কৃত্রিমভাবে তৈরি করা হচ্ছে। তার মতে, পরিবহন কাউন্টার ম্যানেজার বা সেলসম্যানরা বিভিন্ন ভুয়া নামে বুকিংয়ের অজুহাতে প্রতি বাসের অনেক সিট ব্লক করে রাখেন। পরে সুবিধাজনক সময়ে পরিচিত বা প্রভাবশালী যাত্রীদের কাছে সেগুলো বিক্রি করেন।
একই অভিযোগ করেন ফারজানা ইয়াসমীন নামের আরেক যাত্রী। তিনি বলেন, খুলনা-ঢাকা রুটে মাত্র একটি ট্রেন চলাচল করে। ট্রেনটি অনেক ভোরে খুলনা ছাড়ে বলে ছোট বাচ্চা নিয়ে ট্রেনে যাওয়া সম্ভব হয় না। অনলাইনে টিকিট কাটতে গেলেও কাঙ্ক্ষিত তারিখে সিট পাওয়া যায় না। তাদের একমাত্র ভরসা বাস, কিন্তু ঈদের ছুটির সময় বাসের টিকিট পাওয়া এবং নির্বিঘ্নে যাতায়াত করা যেন ভাগ্যে নেই। টিকিট পাওয়া যাবে না, সময়মতো বাস আসবে না, ঘন্টার পর ঘন্টা যানজটে বসে থাকতে হবে—এমন আশঙ্কা করছেন যাত্রীরা।
টুঙ্গিপাড়া এক্সপ্রেসের খুলনা শাখার ম্যানেজার আব্দুল কাদের জানিয়েছেন, ঈদে তাদের পরিবহনে ভাড়া বাড়ানো হয়নি। এখন মানুষ বাড়ি ফিরছে। ঈদের পরের শুক্র ও শনিবার ঢাকায় ফেরার চাপ সবচেয়ে বেশি থাকবে। যাত্রীদের অনলাইনে কম্পিউটার প্রিন্টেড টিকিট দেওয়া হয়, তাই বাড়তি ভাড়া নেওয়ার কোনো সুযোগ নেই বলে তিনি দাবি করেন।
খুলনা জেলা বাস-মিনিবাস, কোচ ও মাইক্রোবাস মালিক সমিতির সেক্রেটারি মো. রবিউল করিম দাবি করেন, তাদের নিয়ন্ত্রণে থাকা খুলনা-সাতক্ষীরা, খুলনা-পাইকগাছা রুটে ভাড়ার কোনো পরিবর্তন হয়নি।
রিপোর্টারের নাম 
























