ঢাকা ০৫:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যেও চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানিবাহী জাহাজের আগমন অব্যাহত

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার আশঙ্কা সত্ত্বেও চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানিবাহী জাহাজের আগমন অব্যাহত রয়েছে। গত মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বুধবার সকাল ১০টা পর্যন্ত মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আরও পাঁচটি জ্বালানিবাহী জাহাজ বন্দরে নোঙর করেছে। এর মধ্যে তিনটি জাহাজ ডলফিন জেটিতে ভিড়ে তেল খালাস শুরু করেছে, এবং বাকি দুটি জাহাজ বহির্নোঙরে অবস্থান করছে। গত ৩ মার্চ হরমুজ প্রণালি বন্ধের পর থেকে এই ১৪ দিনে মোট ২৩টি জাহাজ জ্বালানি তেল ও গ্যাস নিয়ে চট্টগ্রামে এসেছে, যার মধ্যে ১৮টি জাহাজ ইতোমধ্যে তেল ও গ্যাস খালাস করে ফিরে গেছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, চলতি মাসের মধ্যে আরও কয়েকটি জাহাজ আসার নির্ধারিত সময়সূচি রয়েছে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে, নৌবাহিনী এবং কোস্ট গার্ড জ্বালানিবাহী জাহাজ ও ডিপোগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। বহির্নোঙর এবং কর্ণফুলী নদীর গুপ্তখাল ডিপো সংলগ্ন ডলফিন জেটিতে নোঙর করা ট্যাংকারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নদী ও সাগরে টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়াও, ডিপোগুলোর সামনে নৌবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

বিপিসি সূত্রমতে, বুধবার ভোরবেলার জোয়ারের সময় বহির্নোঙর থেকে তিনটি ট্যাংকার ডলফিন জেটিতে ভিড়েছে। এই তিনটি জাহাজের মধ্যে একটিতে এলএনজি এবং অন্য দুটিতে হাই সালফার ফুয়েল অয়েল রয়েছে। অস্ট্রেলিয়া থেকে আসা ‘প্রাচী’ নামের এলএনজিবাহী জাহাজটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অন্যান্য শিল্পে ব্যবহারের জন্য আনা হয়েছে। অন্যদিকে, সিঙ্গাপুর থেকে আসা ‘লেডি অব ডোরিয়া’ এবং ‘এসসি গোল্ড ওশান’ নামের জাহাজ দুটি হাই সালফার ফুয়েল অয়েল নিয়ে এসেছে, যা মূলত সমুদ্রগামী জাহাজে বিক্রির পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের মুখপাত্র ও সচিব রেফায়েত হামিম জানিয়েছেন, আগামী ২০ থেকে ২৩ মার্চের মধ্যে আরও চারটি এলএনজিবাহী জ্বালানিবাহী জাহাজ বন্দরে আসার নির্ধারিত সময়সূচি রয়েছে। এই জাহাজগুলোর মধ্যে অ্যাঙ্গোলা থেকে ‘সোনাগোল বেঙ্গুলীয়া’, ওমান থেকে ‘বিউক বোরনহোলম’ এবং মালয়েশিয়া থেকে ‘মর্নিং জান’ উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও, থাইল্যান্ড থেকে বেস অয়েল নিয়ে ‘এবি অলিভিয়া’ জাহাজটিও আসার কথা রয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ বিপিসি ও কাস্টমসের সঙ্গে সমন্বয় করে জাহাজগুলো বন্দরে আসার সাথে সাথেই দ্রুত বার্থিং দিয়ে জ্বালানি খালাস করার ব্যবস্থা করছে।

বিপিসির অপারেশন ও বাণিজ্য বিভাগের জিএম মোরশেদ হোসাইন আজাদ বলেছেন, গত ১৪ দিনে জ্বালানিবাহী ২৩টি জাহাজ আসার ঘটনা প্রমাণ করে যে সরকার জ্বালানি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সচেষ্ট রয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীর ছয় থানা এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৬০ জন গ্রেপ্তার

মধ্যপ্রাচ্যের উত্তেজনার মধ্যেও চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানিবাহী জাহাজের আগমন অব্যাহত

আপডেট সময় : ০৮:৫৭:৩৭ অপরাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

মধ্যপ্রাচ্যের বর্তমান যুদ্ধ পরিস্থিতি এবং হরমুজ প্রণালি বন্ধ থাকার আশঙ্কা সত্ত্বেও চট্টগ্রাম বন্দরে জ্বালানিবাহী জাহাজের আগমন অব্যাহত রয়েছে। গত মঙ্গলবার সকাল ১০টা থেকে বুধবার সকাল ১০টা পর্যন্ত মাত্র ২৪ ঘণ্টার ব্যবধানে আরও পাঁচটি জ্বালানিবাহী জাহাজ বন্দরে নোঙর করেছে। এর মধ্যে তিনটি জাহাজ ডলফিন জেটিতে ভিড়ে তেল খালাস শুরু করেছে, এবং বাকি দুটি জাহাজ বহির্নোঙরে অবস্থান করছে। গত ৩ মার্চ হরমুজ প্রণালি বন্ধের পর থেকে এই ১৪ দিনে মোট ২৩টি জাহাজ জ্বালানি তেল ও গ্যাস নিয়ে চট্টগ্রামে এসেছে, যার মধ্যে ১৮টি জাহাজ ইতোমধ্যে তেল ও গ্যাস খালাস করে ফিরে গেছে। বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (বিপিসি) জানিয়েছে, চলতি মাসের মধ্যে আরও কয়েকটি জাহাজ আসার নির্ধারিত সময়সূচি রয়েছে।

পরিস্থিতির গুরুত্ব বিবেচনা করে, নৌবাহিনী এবং কোস্ট গার্ড জ্বালানিবাহী জাহাজ ও ডিপোগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থা জোরদার করেছে। বহির্নোঙর এবং কর্ণফুলী নদীর গুপ্তখাল ডিপো সংলগ্ন ডলফিন জেটিতে নোঙর করা ট্যাংকারগুলোর নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে নদী ও সাগরে টহল বৃদ্ধি করা হয়েছে। এছাড়াও, ডিপোগুলোর সামনে নৌবাহিনীসহ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের মোতায়েন করা হয়েছে।

বিপিসি সূত্রমতে, বুধবার ভোরবেলার জোয়ারের সময় বহির্নোঙর থেকে তিনটি ট্যাংকার ডলফিন জেটিতে ভিড়েছে। এই তিনটি জাহাজের মধ্যে একটিতে এলএনজি এবং অন্য দুটিতে হাই সালফার ফুয়েল অয়েল রয়েছে। অস্ট্রেলিয়া থেকে আসা ‘প্রাচী’ নামের এলএনজিবাহী জাহাজটি বিদ্যুৎকেন্দ্র ও অন্যান্য শিল্পে ব্যবহারের জন্য আনা হয়েছে। অন্যদিকে, সিঙ্গাপুর থেকে আসা ‘লেডি অব ডোরিয়া’ এবং ‘এসসি গোল্ড ওশান’ নামের জাহাজ দুটি হাই সালফার ফুয়েল অয়েল নিয়ে এসেছে, যা মূলত সমুদ্রগামী জাহাজে বিক্রির পাশাপাশি বিদ্যুৎকেন্দ্রের জ্বালানি হিসেবে ব্যবহৃত হবে।

চট্টগ্রাম বন্দরের মুখপাত্র ও সচিব রেফায়েত হামিম জানিয়েছেন, আগামী ২০ থেকে ২৩ মার্চের মধ্যে আরও চারটি এলএনজিবাহী জ্বালানিবাহী জাহাজ বন্দরে আসার নির্ধারিত সময়সূচি রয়েছে। এই জাহাজগুলোর মধ্যে অ্যাঙ্গোলা থেকে ‘সোনাগোল বেঙ্গুলীয়া’, ওমান থেকে ‘বিউক বোরনহোলম’ এবং মালয়েশিয়া থেকে ‘মর্নিং জান’ উল্লেখযোগ্য। এছাড়াও, থাইল্যান্ড থেকে বেস অয়েল নিয়ে ‘এবি অলিভিয়া’ জাহাজটিও আসার কথা রয়েছে। বন্দর কর্তৃপক্ষ বিপিসি ও কাস্টমসের সঙ্গে সমন্বয় করে জাহাজগুলো বন্দরে আসার সাথে সাথেই দ্রুত বার্থিং দিয়ে জ্বালানি খালাস করার ব্যবস্থা করছে।

বিপিসির অপারেশন ও বাণিজ্য বিভাগের জিএম মোরশেদ হোসাইন আজাদ বলেছেন, গত ১৪ দিনে জ্বালানিবাহী ২৩টি জাহাজ আসার ঘটনা প্রমাণ করে যে সরকার জ্বালানি সরবরাহ নিরবচ্ছিন্ন রাখতে সচেষ্ট রয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক কার্যক্রম সচল রাখতে অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।