ঢাকা ০৫:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

ঈদের অর্থনীতির আকার ৩ লাখ কোটি টাকা ছাড়ানোর সম্ভাবনা: চাঙ্গা হচ্ছে দেশের বাজার

বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর এখন কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এটি দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির সবচেয়ে বড় ভোগ-উৎসবে পরিণত হয়েছে। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দেওয়া তথ্য ও বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চলতি বছরে ঈদকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের আকার প্রথমবারের মতো ৩ লাখ কোটি টাকার মাইলফলক ছাড়িয়ে যেতে পারে। গত কয়েক বছরে এই লেনদেনের পরিমাণ ২ থেকে ২.৫ লাখ কোটি টাকার মধ্যে থাকলেও এবার ক্রেতাদের আস্থা বৃদ্ধি এবং বাজারে নগদ অর্থের সঞ্চালন বাড়ায় এই বিশাল প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। রমজানের শুরু থেকে ঈদের আগমুহূর্ত পর্যন্ত সারা দেশে কেনাকাটার যে জোয়ার তৈরি হয়, তা মূলত দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে একটি শক্তিশালী মৌসুমি প্রণোদনা হিসেবে কাজ করছে।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিনের মতে, নতুন পোশাক, জাকাত-ফিতরা, উপহার এবং বিবিধ খাতে ব্যয়ের মাধ্যমে বাজারে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার প্রবাহ তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ দখল করে আছে পোশাক খাত, যেখানে প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ হাজার কোটি টাকার ব্যবসার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। পোশাকের পাশাপাশি জুতা, প্রসাধনী, ইলেকট্রনিক্স এবং গৃহস্থালি আসবাবপত্রের চাহিদাও এ সময় কয়েকগুণ বেড়ে যায়। অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের মতে, সরকারি-বেসরকারি খাতের বোনাস এবং রেমিট্যান্সের প্রবাহ এই সময়ে দ্রুত ভোগব্যয়ে রূপান্তরিত হয়, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে বিশেষভাবে চাঙ্গা করে তোলে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, চলতি মার্চের প্রথম পক্ষকালেই প্রবাসীরা প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকা সমমূল্যের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যার বড় অংশই ঈদের কেনাকাটায় ব্যয় হচ্ছে।

অর্থনৈতিক এই বিশাল প্রবাহের ইতিবাচক প্রভাব পরিবহন ও পর্যটন খাতেও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। লাখ লাখ মানুষ শহর থেকে গ্রামে যাতায়াত করায় বাস, ট্রেন ও লঞ্চ মালিকদের আয় যেমন বাড়ছে, তেমনি জাকাত ও ফিতরার মাধ্যমে অর্থ নিম্নআয়ের মানুষের হাতে পৌঁছানোয় স্থানীয় পর্যায়েও লেনদেন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন যে, মূল্যস্ফীতির চাপের কারণে নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কিছুটা সংকুচিত হতে পারে। তবুও সার্বিক বিবেচনায় ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড দেশের উৎপাদন, সরবরাহ এবং খুচরা বাজারকে গতিশীল করার ক্ষেত্রে একটি প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ইরানকে দমানোর সক্ষমতা নিয়ে ভুল ধারণা পোষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র’

ঈদের অর্থনীতির আকার ৩ লাখ কোটি টাকা ছাড়ানোর সম্ভাবনা: চাঙ্গা হচ্ছে দেশের বাজার

আপডেট সময় : ০৯:০৫:৫৮ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশে ঈদুল ফিতর এখন কেবল একটি ধর্মীয় উৎসব নয়, বরং এটি দেশের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির সবচেয়ে বড় ভোগ-উৎসবে পরিণত হয়েছে। ব্যবসায়ী সংগঠনগুলোর দেওয়া তথ্য ও বাজার বিশ্লেষণ অনুযায়ী, চলতি বছরে ঈদকেন্দ্রিক অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের আকার প্রথমবারের মতো ৩ লাখ কোটি টাকার মাইলফলক ছাড়িয়ে যেতে পারে। গত কয়েক বছরে এই লেনদেনের পরিমাণ ২ থেকে ২.৫ লাখ কোটি টাকার মধ্যে থাকলেও এবার ক্রেতাদের আস্থা বৃদ্ধি এবং বাজারে নগদ অর্থের সঞ্চালন বাড়ায় এই বিশাল প্রবৃদ্ধির সম্ভাবনা দেখা দিয়েছে। রমজানের শুরু থেকে ঈদের আগমুহূর্ত পর্যন্ত সারা দেশে কেনাকাটার যে জোয়ার তৈরি হয়, তা মূলত দেশের সামষ্টিক অর্থনীতিতে একটি শক্তিশালী মৌসুমি প্রণোদনা হিসেবে কাজ করছে।

বাংলাদেশ দোকান মালিক সমিতির সভাপতি হেলাল উদ্দিনের মতে, নতুন পোশাক, জাকাত-ফিতরা, উপহার এবং বিবিধ খাতে ব্যয়ের মাধ্যমে বাজারে প্রায় ৩ লাখ কোটি টাকার প্রবাহ তৈরি হচ্ছে। এর মধ্যে সবচেয়ে বড় অংশ দখল করে আছে পোশাক খাত, যেখানে প্রায় ৮০ থেকে ৮৫ হাজার কোটি টাকার ব্যবসার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে। পোশাকের পাশাপাশি জুতা, প্রসাধনী, ইলেকট্রনিক্স এবং গৃহস্থালি আসবাবপত্রের চাহিদাও এ সময় কয়েকগুণ বেড়ে যায়। অর্থনীতিবিদ ড. জাহিদ হোসেনের মতে, সরকারি-বেসরকারি খাতের বোনাস এবং রেমিট্যান্সের প্রবাহ এই সময়ে দ্রুত ভোগব্যয়ে রূপান্তরিত হয়, যা গ্রামীণ অর্থনীতিকে বিশেষভাবে চাঙ্গা করে তোলে। কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্যমতে, চলতি মার্চের প্রথম পক্ষকালেই প্রবাসীরা প্রায় ২৭ হাজার কোটি টাকা সমমূল্যের রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন, যার বড় অংশই ঈদের কেনাকাটায় ব্যয় হচ্ছে।

অর্থনৈতিক এই বিশাল প্রবাহের ইতিবাচক প্রভাব পরিবহন ও পর্যটন খাতেও স্পষ্টভাবে দৃশ্যমান। লাখ লাখ মানুষ শহর থেকে গ্রামে যাতায়াত করায় বাস, ট্রেন ও লঞ্চ মালিকদের আয় যেমন বাড়ছে, তেমনি জাকাত ও ফিতরার মাধ্যমে অর্থ নিম্নআয়ের মানুষের হাতে পৌঁছানোয় স্থানীয় পর্যায়েও লেনদেন বৃদ্ধি পাচ্ছে। তবে বিশ্লেষকরা সতর্ক করে বলেছেন যে, মূল্যস্ফীতির চাপের কারণে নিম্ন ও সীমিত আয়ের মানুষের ক্রয়ক্ষমতা কিছুটা সংকুচিত হতে পারে। তবুও সার্বিক বিবেচনায় ঈদুল ফিতরকে কেন্দ্র করে গড়ে ওঠা এই বিশাল অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ড দেশের উৎপাদন, সরবরাহ এবং খুচরা বাজারকে গতিশীল করার ক্ষেত্রে একটি প্রধান চালিকাশক্তি হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হয়েছে।