ঢাকা ০৫:০৯ অপরাহ্ন, সোমবার, ১৩ এপ্রিল ২০২৬

পুলিশ সংস্কার ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যুক্তরাজ্যের জোরালো সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ

বাংলাদেশ পুলিশের আমূল সংস্কার, আধুনিকায়ন এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল ফ্রড সামিট’-এর দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী লর্ড হ্যানসনের মধ্যে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই আহ্বান জানানো হয়। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে। ভিয়েনা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক নিরাপত্তা, কৌশলগত স্বার্থ এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক গুরুত্বের সাথে স্থান পায়।

বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রশংসা করেন এবং প্রতিরক্ষা, সন্ত্রাসবাদ দমন ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা খাতে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংস্কার প্রক্রিয়া ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় যুক্তরাজ্যের অব্যাহত সমর্থনের জন্য মন্ত্রী লর্ড হ্যানসনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান সরকার দেশে সুশাসন ও গণতান্ত্রিক চর্চা সমুন্নত রাখতে সম্পূর্ণ বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে নিরাপত্তা খাতের সংস্কার, অভিবাসন ব্যবস্থাপনা এবং অপরাধ বিচার ব্যবস্থায় পারস্পরিক সহযোগিতা ত্বরান্বিত করার ওপর তিনি জোর দেন।

এই আলোচনার একটি প্রধান অংশ ছিল বাংলাদেশ পুলিশের সংস্কার ও আধুনিকায়ন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিটিশ পুলিশের সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা ও পেশাদারিত্বের উদাহরণ টেনে বাংলাদেশ পুলিশের কৌশলগত পরিবর্তন, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্যের কারিগরি ও প্রশিক্ষণ সহায়তা কামনা করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, একটি জনবান্ধব ও আধুনিক পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে যুক্তরাজ্যের বিশেষজ্ঞ জ্ঞান বাংলাদেশের জন্য সহায়ক হবে। এর পাশাপাশি, মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যুক্তরাজ্যের সক্রিয় ভূমিকা ও চাপ বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি। লর্ড হ্যানসন বাংলাদেশের নিরাপত্তা খাতের সংস্কার পরিকল্পনা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং উল্লিখিত ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। বৈঠকে উভয় দেশের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

ট্যাগস :

Write Your Comment

Your email address will not be published. Required fields are marked *

Save Your Email and Others Information

আপলোডকারীর তথ্য

Mahbub

জনপ্রিয় সংবাদ

‘ইরানকে দমানোর সক্ষমতা নিয়ে ভুল ধারণা পোষণ করছে যুক্তরাষ্ট্র’

পুলিশ সংস্কার ও রোহিঙ্গা প্রত্যাবাসনে যুক্তরাজ্যের জোরালো সহযোগিতা চাইল বাংলাদেশ

আপডেট সময় : ০৮:৫০:৫৭ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

বাংলাদেশ পুলিশের আমূল সংস্কার, আধুনিকায়ন এবং রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক চাপ অব্যাহত রাখার লক্ষ্যে যুক্তরাজ্যের সহযোগিতা চেয়েছে বাংলাদেশ। অস্ট্রিয়ার ভিয়েনায় অনুষ্ঠিত ‘গ্লোবাল ফ্রড সামিট’-এর দ্বিতীয় দিনে বাংলাদেশের স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী সালাহউদ্দিন আহমদ এবং যুক্তরাজ্যের স্বরাষ্ট্র দপ্তরের প্রতিমন্ত্রী লর্ড হ্যানসনের মধ্যে এক দ্বিপাক্ষিক বৈঠকে এই আহ্বান জানানো হয়। মঙ্গলবার (১৭ মার্চ) স্বরাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের জনসংযোগ বিভাগ থেকে পাঠানো এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই গুরুত্বপূর্ণ বৈঠকের বিস্তারিত তথ্য জানানো হয়েছে। ভিয়েনা ইন্টারন্যাশনাল সেন্টারে অনুষ্ঠিত এই বৈঠকে দুই দেশের পারস্পরিক নিরাপত্তা, কৌশলগত স্বার্থ এবং দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের বিভিন্ন দিক গুরুত্বের সাথে স্থান পায়।

বৈঠকের শুরুতে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বাংলাদেশ ও যুক্তরাজ্যের মধ্যকার ঐতিহাসিক ও বন্ধুত্বপূর্ণ সম্পর্কের প্রশংসা করেন এবং প্রতিরক্ষা, সন্ত্রাসবাদ দমন ও সামুদ্রিক নিরাপত্তা খাতে বিদ্যমান সহযোগিতা আরও সুদৃঢ় করার প্রতিশ্রুতি ব্যক্ত করেন। ২০২৬ সালের জাতীয় নির্বাচন-পরবর্তী সময়ে বাংলাদেশের গণতান্ত্রিক সংস্কার প্রক্রিয়া ও স্থিতিশীলতা রক্ষায় যুক্তরাজ্যের অব্যাহত সমর্থনের জন্য মন্ত্রী লর্ড হ্যানসনকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানান। তিনি স্পষ্ট করেন যে, বর্তমান সরকার দেশে সুশাসন ও গণতান্ত্রিক চর্চা সমুন্নত রাখতে সম্পূর্ণ বদ্ধপরিকর। বিশেষ করে নিরাপত্তা খাতের সংস্কার, অভিবাসন ব্যবস্থাপনা এবং অপরাধ বিচার ব্যবস্থায় পারস্পরিক সহযোগিতা ত্বরান্বিত করার ওপর তিনি জোর দেন।

এই আলোচনার একটি প্রধান অংশ ছিল বাংলাদেশ পুলিশের সংস্কার ও আধুনিকায়ন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী ব্রিটিশ পুলিশের সমৃদ্ধ অভিজ্ঞতা ও পেশাদারিত্বের উদাহরণ টেনে বাংলাদেশ পুলিশের কৌশলগত পরিবর্তন, মানবাধিকার সুরক্ষা এবং প্রাতিষ্ঠানিক জবাবদিহি নিশ্চিত করতে যুক্তরাজ্যের কারিগরি ও প্রশিক্ষণ সহায়তা কামনা করেন। তিনি বিশ্বাস করেন, একটি জনবান্ধব ও আধুনিক পুলিশ বাহিনী গড়ে তুলতে যুক্তরাজ্যের বিশেষজ্ঞ জ্ঞান বাংলাদেশের জন্য সহায়ক হবে। এর পাশাপাশি, মিয়ানমারের বাস্তুচ্যুত রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠীর নিরাপদ ও টেকসই প্রত্যাবাসন নিশ্চিত করতে আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে যুক্তরাজ্যের সক্রিয় ভূমিকা ও চাপ বজায় রাখার আহ্বান জানান তিনি। লর্ড হ্যানসন বাংলাদেশের নিরাপত্তা খাতের সংস্কার পরিকল্পনা এবং আঞ্চলিক স্থিতিশীলতা রক্ষায় বাংলাদেশের ভূমিকার প্রশংসা করেন এবং উল্লিখিত ক্ষেত্রগুলোতে সহযোগিতার আশ্বাস দেন। বৈঠকে উভয় দেশের উচ্চপর্যায়ের কূটনৈতিক প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।