ঢাকা ০৫:১৮ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ২১ এপ্রিল ২০২৬

ময়মনসিংহে আগাম ডেঙ্গুর হানা: ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কায় স্বাস্থ্য বিভাগ

বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই ময়মনসিংহে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা করছে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ। গত বছরের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার আলোকে এবার আগাম প্রস্তুতি নিতে দফায় দফায় বৈঠক করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, বছরের শুরুতেই যেভাবে রোগী শনাক্ত হচ্ছে, তা আসন্ন দিনগুলোতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ময়মনসিংহে তিন হাজার ২১৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন, যার মধ্যে একটি বড় অংশই ছিল বয়স্ক নাগরিক। চলতি বছরের ১৩ মার্চ পর্যন্ত জেলায় ২৮ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে, যাদের মধ্যে ২১ জন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং বাকিরা উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিশেষ করে নান্দাইল উপজেলা গত বছর থেকেই ডেঙ্গুর হটস্পটে পরিণত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অসচেতনতার কারণে এডিস মশার বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মহির উদ্দীন জানান, পরিত্যক্ত চিপসের প্যাকেট, আইসক্রিমের কাপ, ফুলের টব এবং নির্মাণাধীন ভবনের জমা পানি এডিস মশার প্রধান প্রজনন ক্ষেত্র। এমনকি সামান্য স্যাঁতসেঁতে স্থানেও এই মশা ডিম পাড়তে পারে, যা প্রতিকূল পরিবেশেও প্রায় ৮-৯ মাস পর্যন্ত টিকে থাকে।

মশা নিধন কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই বিশেষজ্ঞ আরও জানান, সঠিক সময়ে এবং সঠিক মাত্রায় ওষুধ প্রয়োগ না করায় ফগিং কার্যক্রম প্রত্যাশিত ফল দিচ্ছে না। সাধারণত সকাল ৭টার আগে এবং বিকেল ৫টার পরে ফগিং করা সবচেয়ে কার্যকর, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে নিয়ম না মেনেই এই কার্যক্রম চালানো হয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মশা নিধনে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণের ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

রাজধানীর ছয় থানা এলাকায় পুলিশের বিশেষ অভিযানে ৬০ জন গ্রেপ্তার

ময়মনসিংহে আগাম ডেঙ্গুর হানা: ভয়াবহ পরিস্থিতির আশঙ্কায় স্বাস্থ্য বিভাগ

আপডেট সময় : ০৪:০৮:৪২ পূর্বাহ্ন, বুধবার, ১৮ মার্চ ২০২৬

বর্ষা মৌসুম শুরু হওয়ার আগেই ময়মনসিংহে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা বাড়তে থাকায় বড় ধরনের স্বাস্থ্যঝুঁকির আশঙ্কা করছে স্থানীয় প্রশাসন ও স্বাস্থ্য বিভাগ। গত বছরের ভয়াবহ অভিজ্ঞতার আলোকে এবার আগাম প্রস্তুতি নিতে দফায় দফায় বৈঠক করছে সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ। স্বাস্থ্য কর্মকর্তাদের মতে, বছরের শুরুতেই যেভাবে রোগী শনাক্ত হচ্ছে, তা আসন্ন দিনগুলোতে পরিস্থিতি নিয়ন্ত্রণের বাইরে যাওয়ার ইঙ্গিত দিচ্ছে।

জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয়ের তথ্য অনুযায়ী, ২০২৫ সালে ময়মনসিংহে তিন হাজার ২১৯ জন ডেঙ্গু আক্রান্ত হয়েছিলেন, যার মধ্যে একটি বড় অংশই ছিল বয়স্ক নাগরিক। চলতি বছরের ১৩ মার্চ পর্যন্ত জেলায় ২৮ জন ডেঙ্গু রোগী শনাক্ত হয়েছে, যাদের মধ্যে ২১ জন ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এবং বাকিরা উপজেলা পর্যায়ের হাসপাতালে চিকিৎসাধীন রয়েছেন। বিশেষ করে নান্দাইল উপজেলা গত বছর থেকেই ডেঙ্গুর হটস্পটে পরিণত হয়েছে।

বিশেষজ্ঞদের মতে, অসচেতনতার কারণে এডিস মশার বংশবিস্তার নিয়ন্ত্রণ করা কঠিন হয়ে পড়ছে। বাংলাদেশ কৃষি বিশ্ববিদ্যালয়ের কীটতত্ত্ব বিভাগের সহযোগী অধ্যাপক ড. মুহাম্মদ মহির উদ্দীন জানান, পরিত্যক্ত চিপসের প্যাকেট, আইসক্রিমের কাপ, ফুলের টব এবং নির্মাণাধীন ভবনের জমা পানি এডিস মশার প্রধান প্রজনন ক্ষেত্র। এমনকি সামান্য স্যাঁতসেঁতে স্থানেও এই মশা ডিম পাড়তে পারে, যা প্রতিকূল পরিবেশেও প্রায় ৮-৯ মাস পর্যন্ত টিকে থাকে।

মশা নিধন কার্যক্রমের কার্যকারিতা নিয়ে প্রশ্ন তুলে এই বিশেষজ্ঞ আরও জানান, সঠিক সময়ে এবং সঠিক মাত্রায় ওষুধ প্রয়োগ না করায় ফগিং কার্যক্রম প্রত্যাশিত ফল দিচ্ছে না। সাধারণত সকাল ৭টার আগে এবং বিকেল ৫টার পরে ফগিং করা সবচেয়ে কার্যকর, কিন্তু অনেক ক্ষেত্রে নিয়ম না মেনেই এই কার্যক্রম চালানো হয়। ডেঙ্গু প্রতিরোধে জনসচেতনতা বৃদ্ধির পাশাপাশি মশা নিধনে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতি অনুসরণের ওপর জোর দিচ্ছেন বিশেষজ্ঞরা।