মোবাইল অ্যাপ ডাউনলোড করুন
ঢাকা ১২:১৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ০২ অগাস্ট ২০২৬

মেঘনায় মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা: তজুমদ্দিনের ২০ হাজার জেলের ঈদ কাটছে চরম অভাব-অনটনে

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১০:১৩:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬
  • ৮ বার পড়া হয়েছে

ইলিশের অভয়াশ্রম রক্ষায় মেঘনা নদীতে দুই মাসের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা চলায় ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার প্রায় ২০ হাজার জেলের জীবনে চরম সংকট নেমে এসেছে। ১ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই নিষেধাজ্ঞার কারণে আয়ের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ এখন তাদের কাছে ম্লান। মেঘনাপাড়ের জেলেপল্লিতে উৎসবের আমেজ নেই, বরং চারদিকে বিরাজ করছে নীরব হাহাকার।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত মেঘনার হাকিম উদ্দিন থেকে মঙ্গল শিকদার এলাকা পর্যন্ত সব ধরনের মাছ শিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন তজুমদ্দিনের ১৯ হাজার ৯২৭ জন নিবন্ধিত জেলে। সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার স্লুইসগেট ও চৌমুহনী ঘাটে সারি সারি নৌকা নোঙর করে রাখা হয়েছে। জেলেরা এখন অলস সময় পার করছেন অথবা ছিঁড়ে যাওয়া জাল মেরামত করছেন, কিন্তু তাদের চোখে-মুখে অনিশ্চয়তার ছাপ স্পষ্ট।

স্থানীয় জেলেরা আক্ষেপ করে জানান, এ বছর নদীতে মাছের পরিমাণ এমনিতেই কম ছিল, তার ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা দিশেহারা। মহাজনের দাদন আর এনজিওর কিস্তির চাপে তাদের নাভিশ্বাস উঠছে। সরকারিভাবে যে চাল সহায়তা দেওয়া হয়, তা দিয়ে শুধু খাবারের চাহিদা মিটলেও পরিবারের অন্যান্য মৌলিক খরচ মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ঈদের আগে কর্মহীন এই জেলেরা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

প্রাইভেট সেক্টরে যাচ্ছে কক্সবাজারের আইকনিক রেলস্টেশন, পর্যটন হাব করার পরিকল্পনা সরকারের

মেঘনায় মাছ ধরায় নিষেধাজ্ঞা: তজুমদ্দিনের ২০ হাজার জেলের ঈদ কাটছে চরম অভাব-অনটনে

আপডেট সময় : ১০:১৩:০৫ পূর্বাহ্ন, মঙ্গলবার, ১৭ মার্চ ২০২৬

ইলিশের অভয়াশ্রম রক্ষায় মেঘনা নদীতে দুই মাসের মাছ ধরার নিষেধাজ্ঞা চলায় ভোলার তজুমদ্দিন উপজেলার প্রায় ২০ হাজার জেলের জীবনে চরম সংকট নেমে এসেছে। ১ মার্চ থেকে শুরু হওয়া এই নিষেধাজ্ঞার কারণে আয়ের পথ পুরোপুরি বন্ধ হয়ে যাওয়ায় আসন্ন পবিত্র ঈদুল ফিতরের আনন্দ এখন তাদের কাছে ম্লান। মেঘনাপাড়ের জেলেপল্লিতে উৎসবের আমেজ নেই, বরং চারদিকে বিরাজ করছে নীরব হাহাকার।

উপজেলা মৎস্য অফিস সূত্রে জানা গেছে, জাটকা সংরক্ষণ ও ইলিশের উৎপাদন বাড়াতে ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত মেঘনার হাকিম উদ্দিন থেকে মঙ্গল শিকদার এলাকা পর্যন্ত সব ধরনের মাছ শিকার নিষিদ্ধ করা হয়েছে। ফলে কর্মহীন হয়ে পড়েছেন তজুমদ্দিনের ১৯ হাজার ৯২৭ জন নিবন্ধিত জেলে। সরেজমিনে দেখা গেছে, উপজেলার স্লুইসগেট ও চৌমুহনী ঘাটে সারি সারি নৌকা নোঙর করে রাখা হয়েছে। জেলেরা এখন অলস সময় পার করছেন অথবা ছিঁড়ে যাওয়া জাল মেরামত করছেন, কিন্তু তাদের চোখে-মুখে অনিশ্চয়তার ছাপ স্পষ্ট।

স্থানীয় জেলেরা আক্ষেপ করে জানান, এ বছর নদীতে মাছের পরিমাণ এমনিতেই কম ছিল, তার ওপর নিষেধাজ্ঞার কারণে তারা দিশেহারা। মহাজনের দাদন আর এনজিওর কিস্তির চাপে তাদের নাভিশ্বাস উঠছে। সরকারিভাবে যে চাল সহায়তা দেওয়া হয়, তা দিয়ে শুধু খাবারের চাহিদা মিটলেও পরিবারের অন্যান্য মৌলিক খরচ মেটানো সম্ভব হচ্ছে না। ফলে ঈদের আগে কর্মহীন এই জেলেরা পরিবার-পরিজন নিয়ে চরম মানবেতর জীবনযাপন করছেন।