ঢাকা ০৭:৩৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

ইরানে ফের হামলার হুমকি ট্রাম্পের, হরমুজ প্রণালীতে মিত্রদের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের আহ্বান

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপে পুনরায় হামলার হুমকি দিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মিত্র দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে তারা যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আরও জোরালো পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাবে।

শনিবার এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় খারগ দ্বীপের একটি বড় অংশ ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ হয়ে গেছে। তিনি আরও হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘মজা করার জন্যই হয়তো আমরা এটিকে আরও কয়েকবার আঘাত করতে পারি।’ তার এই মন্তব্য পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়, যেখানে তিনি কেবল সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করার কথা বলেছিলেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পাল্টা জবাব দিয়ে বলেন, ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় কোনো হামলা হলে তেহরান তার সমুচিত জবাব দেবে। তিনি এমএস নাও নিউজ চ্যানেলকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি স্থান—রাস আল খাইমাহ এবং দুবাইয়ের খুব কাছের একটি এলাকা—থেকে খারগ দ্বীপে হামলা চালিয়েছে। এটিকে ‘বিপজ্জনক’ উল্লেখ করে আরাগচি বলেন, ইরান জনবসতিপূর্ণ এলাকায় হামলা না করার বিষয়ে সতর্ক থাকার চেষ্টা করবে।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের দায়িত্বে থাকা ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড আরাগচির এই দাবির বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ সামাজিক মাধ্যমে বলেছেন, তাদের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে, তবে তারা ‘যুক্তি ও বিবেচনাকে অগ্রাধিকার দেয় এবং সংযম বজায় রাখছে’।

এর আগে রবিবার ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছিল, তারা ইসরায়েল এবং অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইসফাহান শহরের একটি শিল্প এলাকায় শনিবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৫ জন শ্রমিক নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে এটিকে প্রথম ধাপের পাল্টা আঘাত বলে উল্লেখ করা হয়। উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বে পরিবাহিত মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ চলাচল করে, যা বন্ধ করে দেওয়ার তেহরানের সক্ষমতা বিশ্ব তেল সরবরাহে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটাতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আগামীকাল দিনাজপুর সফরে প্রধানমন্ত্রী: খাল খনন কর্মসূচির উদ্বোধন ও নানা-নানির কবর জিয়ারত

ইরানে ফের হামলার হুমকি ট্রাম্পের, হরমুজ প্রণালীতে মিত্রদের যুদ্ধজাহাজ মোতায়েনের আহ্বান

আপডেট সময় : ০৫:৩৩:২৬ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ইরানের প্রধান তেল রপ্তানি কেন্দ্র খারগ দ্বীপে পুনরায় হামলার হুমকি দিয়েছেন। একইসঙ্গে তিনি বিশ্ব জ্বালানি সরবরাহের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ হরমুজ প্রণালীর সুরক্ষা নিশ্চিত করতে মিত্র দেশগুলোকে যুদ্ধজাহাজ মোতায়েন করার আহ্বান জানিয়েছেন। অন্যদিকে, তেহরান হুঁশিয়ারি দিয়েছে যে তারা যেকোনো আগ্রাসনের বিরুদ্ধে আরও জোরালো পাল্টা প্রতিক্রিয়া জানাবে।

শনিবার এনবিসি নিউজকে দেওয়া এক সাক্ষাৎকারে ট্রাম্প দাবি করেন, যুক্তরাষ্ট্রের হামলায় খারগ দ্বীপের একটি বড় অংশ ‘সম্পূর্ণ ধ্বংস’ হয়ে গেছে। তিনি আরও হামলার হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, ‘মজা করার জন্যই হয়তো আমরা এটিকে আরও কয়েকবার আঘাত করতে পারি।’ তার এই মন্তব্য পূর্ববর্তী অবস্থান থেকে উত্তেজনা বৃদ্ধির ইঙ্গিত দেয়, যেখানে তিনি কেবল সামরিক স্থাপনা লক্ষ্যবস্তু করার কথা বলেছিলেন।

ইরানের পররাষ্ট্রমন্ত্রী আব্বাস আরাগচি পাল্টা জবাব দিয়ে বলেন, ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় কোনো হামলা হলে তেহরান তার সমুচিত জবাব দেবে। তিনি এমএস নাও নিউজ চ্যানেলকে জানান, যুক্তরাষ্ট্র সংযুক্ত আরব আমিরাতের দুটি স্থান—রাস আল খাইমাহ এবং দুবাইয়ের খুব কাছের একটি এলাকা—থেকে খারগ দ্বীপে হামলা চালিয়েছে। এটিকে ‘বিপজ্জনক’ উল্লেখ করে আরাগচি বলেন, ইরান জনবসতিপূর্ণ এলাকায় হামলা না করার বিষয়ে সতর্ক থাকার চেষ্টা করবে।

এদিকে, মধ্যপ্রাচ্যে যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক অভিযানের দায়িত্বে থাকা ইউএস সেন্ট্রাল কমান্ড আরাগচির এই দাবির বিষয়ে মন্তব্য করতে অস্বীকৃতি জানিয়েছে। সংযুক্ত আরব আমিরাতের প্রেসিডেন্টের কূটনৈতিক উপদেষ্টা আনোয়ার গারগাশ সামাজিক মাধ্যমে বলেছেন, তাদের আত্মরক্ষার অধিকার রয়েছে, তবে তারা ‘যুক্তি ও বিবেচনাকে অগ্রাধিকার দেয় এবং সংযম বজায় রাখছে’।

এর আগে রবিবার ইরানের ইসলামি বিপ্লবী গার্ড বাহিনী জানিয়েছিল, তারা ইসরায়েল এবং অঞ্চলে যুক্তরাষ্ট্রের তিনটি ঘাঁটিতে ক্ষেপণাস্ত্র ও ড্রোন হামলা চালিয়েছে। ইসফাহান শহরের একটি শিল্প এলাকায় শনিবার ক্ষেপণাস্ত্র হামলায় অন্তত ১৫ জন শ্রমিক নিহত হওয়ার প্রতিশোধ হিসেবে এটিকে প্রথম ধাপের পাল্টা আঘাত বলে উল্লেখ করা হয়। উল্লেখ্য, হরমুজ প্রণালী দিয়ে বিশ্বে পরিবাহিত মোট তেলের প্রায় এক-পঞ্চমাংশ চলাচল করে, যা বন্ধ করে দেওয়ার তেহরানের সক্ষমতা বিশ্ব তেল সরবরাহে ব্যাপক বিঘ্ন ঘটাতে পারে।