ভারতে সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের ওপর নানামুখী নির্যাতন দিন দিন বেড়েই চলেছে। তথাকথিত গোরক্ষা গোষ্ঠীসহ উগ্রবাদী হিন্দু সংগঠনের পাশাপাশি আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর হাতে হত্যাসহ বহুমাত্রিক নির্যাতনের শিকার হচ্ছেন মুসলিমরা। হতাশা আর আতঙ্ক এখন তাদের নিত্যদিনের সঙ্গী, এমনটাই উঠে এসেছে বিভিন্ন গণমাধ্যমের খবরে।
সাম্প্রতিক বছরগুলোয় ভারতের বিভিন্ন স্থানে মুসলিমদের ওপর হামলার ঘটনা নিয়মিত বিষয় হয়ে দাঁড়িয়েছে। পশ্চিমবঙ্গের পুরুলিয়ার সুপুরডিহি গ্রামের ঠেলাগাড়িতে বাসনপত্র বিক্রেতা আকবর ‘জয় শ্রীরাম’ স্লোগানধারী উগ্র হিন্দুদের হাতে প্রাণ হারান। পুরুলিয়ায় আরেক মুসলিম মাইমুর উগ্রবাদীদের হামলায় গুরুতর আহত হয়ে এখনো জীবন নিয়ে লড়ছেন। তার ভাষ্যমতে, হামলার মুহূর্তে তিনি শুধু বাঁচতে চেয়েছিলেন, কিন্তু পুলিশি সাহায্য না পেয়ে উল্টো গরু পাচার মামলার আসামি হতে হয়েছে তাকে।
প্রতিদিনই প্রকাশ্য দিবালোকে পিটিয়ে হত্যা করা হচ্ছে মুসলিমদের। চলতি বছরের প্রথম চার মাসে অন্তত ২৭ জন মুসলিমকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়। এমনকি অনেক রাজ্যে তাদের ঘরবাড়ি ও দোকানপাট বুলডোজার দিয়ে গুঁড়িয়ে দেওয়া হচ্ছে। সাম্প্রতিক সময়ে টার্গেটে পরিণত হয়েছে মুসলিমদের ধর্মীয় প্রতিষ্ঠান মসজিদ, মাদরাসা, দরগা থেকে শুরু করে কবরস্থান পর্যন্ত। গত দেড় মাসে মসজিদসহ অন্তত ২৩টি ধর্মীয় স্থাপনা মাটির সঙ্গে মিশিয়ে দেওয়া হয়েছে।
শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে হিজাব পরা, পাবলিক প্লেসে নামাজ বা মসজিদের মাইক ব্যবহারের মতো ধর্মীয় ও সাংস্কৃতিক বিষয়ে কড়াকড়ি তৈরি হয়েছে। নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন এবং জাতীয় নাগরিকপঞ্জি নিয়ে মুসলিম সম্প্রদায়ের মধ্যে বড় ধরনের ভীতি তৈরি হয়েছে। একই সঙ্গে দেশের রাজনীতিতে মুসলিমদের প্রতিনিধিত্ব কমে যাওয়ায় তাদের উদ্বেগ আরও বেড়েছে।
রিপোর্টারের নাম 























