ঢাকা ০৫:৫৫ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় আবেদন প্রত্যাহার: ইরানে ফিরছেন আরও তিন নারী ফুটবলার

অস্ট্রেলিয়ায় মানবিক ভিসার আওতায় আশ্রয় আবেদন করা ইরানি নারী ফুটবল দলের আরও তিনজন সদস্য স্বদেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে, প্রাথমিকভাবে আশ্রয় চাওয়া সাতজনের মধ্যে বর্তমানে মাত্র তিনজন অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন।

রোববার অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গভীর রাতে ইরানি নারী ফুটবল দলের ওই তিনজন সদস্য বাকি দলের সঙ্গে ইরানে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। অস্ট্রেলিয়ান কর্মকর্তারা তাদের বারবার বিকল্প নিয়ে কথা বলার সুযোগ দিয়েছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ইরানি দলটি গত ফেব্রুয়ারিতে নারী এশিয়ান কাপের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিল। ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর আগেই তারা সেখানে পৌঁছেছিলেন। প্রথমে ২৬ সদস্যের দল থেকে ছয়জন খেলোয়াড় এবং একজন সাপোর্ট স্টাফ সদস্য মানবিক ভিসার জন্য আবেদন করে অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যান।

গত ৯ মার্চ বাকি দল সিডনি থেকে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে চলে যায়। এরপর একজন তার মত বদলে দেশে ফেরেন। শনিবার রাতে আরও তিনজন সিডনি থেকে কুয়ালালামপুরের পথে রওনা দেন, যেখানে বাকি দলটি তাদের জন্য অপেক্ষা করছিল। ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, সর্বশেষ ফেরা তিনজনের মধ্যে দুজন খেলোয়াড় ও একজন সাপোর্ট স্টাফ সদস্য রয়েছেন।

তাসনিম সংবাদ সংস্থা তাদের এই ফেরা নিয়ে বিবৃতিতে বলেছে, এই তিন সদস্য ‘পরিবার ও মাতৃভূমির উষ্ণ আলিঙ্গনে ফিরছেন।’ উল্লেখ্য, প্রথম ম্যাচের আগে জাতীয় সংগীত না গাওয়ায় খেলোয়াড়দের ইরানে ফিরলে বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ায় ইরানি প্রবাসী গোষ্ঠী এবং তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তাদের সাহায্য করার জন্য অস্ট্রেলিয়া সরকারকে আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম খেলোয়াড়দের দলে ফেরাকে ‘আমেরিকান-অস্ট্রেলিয়ান প্রকল্পের লজ্জাজনক ব্যর্থতা এবং ট্রাম্পের আরেকটি পরাজয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইসরায়েলের পুলিশ সদর দপ্তর ও স্যাটেলাইট যোগাযোগ কেন্দ্রে হামলার দাবি ইরানের

অস্ট্রেলিয়ায় আশ্রয় আবেদন প্রত্যাহার: ইরানে ফিরছেন আরও তিন নারী ফুটবলার

আপডেট সময় : ০৩:১৯:৫৪ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

অস্ট্রেলিয়ায় মানবিক ভিসার আওতায় আশ্রয় আবেদন করা ইরানি নারী ফুটবল দলের আরও তিনজন সদস্য স্বদেশে ফিরে যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন। এই সিদ্ধান্তের ফলে, প্রাথমিকভাবে আশ্রয় চাওয়া সাতজনের মধ্যে বর্তমানে মাত্র তিনজন অস্ট্রেলিয়ায় অবস্থান করছেন।

রোববার অস্ট্রেলিয়ার স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী টনি বার্ক এক বিবৃতিতে এই তথ্য নিশ্চিত করেছেন। তিনি জানান, গভীর রাতে ইরানি নারী ফুটবল দলের ওই তিনজন সদস্য বাকি দলের সঙ্গে ইরানে ফেরার সিদ্ধান্ত নেন। অস্ট্রেলিয়ান কর্মকর্তারা তাদের বারবার বিকল্প নিয়ে কথা বলার সুযোগ দিয়েছিলেন বলেও তিনি উল্লেখ করেন।

ইরানি দলটি গত ফেব্রুয়ারিতে নারী এশিয়ান কাপের জন্য অস্ট্রেলিয়ায় গিয়েছিল। ২৮ ফেব্রুয়ারি মধ্যপ্রাচ্যে যুদ্ধ শুরুর আগেই তারা সেখানে পৌঁছেছিলেন। প্রথমে ২৬ সদস্যের দল থেকে ছয়জন খেলোয়াড় এবং একজন সাপোর্ট স্টাফ সদস্য মানবিক ভিসার জন্য আবেদন করে অস্ট্রেলিয়ায় থেকে যান।

গত ৯ মার্চ বাকি দল সিডনি থেকে মালয়েশিয়ার কুয়ালালামপুরে চলে যায়। এরপর একজন তার মত বদলে দেশে ফেরেন। শনিবার রাতে আরও তিনজন সিডনি থেকে কুয়ালালামপুরের পথে রওনা দেন, যেখানে বাকি দলটি তাদের জন্য অপেক্ষা করছিল। ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম জানিয়েছে, সর্বশেষ ফেরা তিনজনের মধ্যে দুজন খেলোয়াড় ও একজন সাপোর্ট স্টাফ সদস্য রয়েছেন।

তাসনিম সংবাদ সংস্থা তাদের এই ফেরা নিয়ে বিবৃতিতে বলেছে, এই তিন সদস্য ‘পরিবার ও মাতৃভূমির উষ্ণ আলিঙ্গনে ফিরছেন।’ উল্লেখ্য, প্রথম ম্যাচের আগে জাতীয় সংগীত না গাওয়ায় খেলোয়াড়দের ইরানে ফিরলে বিপদের আশঙ্কা তৈরি হয়েছিল। অস্ট্রেলিয়ায় ইরানি প্রবাসী গোষ্ঠী এবং তৎকালীন মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও তাদের সাহায্য করার জন্য অস্ট্রেলিয়া সরকারকে আহ্বান জানিয়েছিলেন। তবে ইরানের সংবাদ সংস্থা তাসনিম খেলোয়াড়দের দলে ফেরাকে ‘আমেরিকান-অস্ট্রেলিয়ান প্রকল্পের লজ্জাজনক ব্যর্থতা এবং ট্রাম্পের আরেকটি পরাজয়’ হিসেবে বর্ণনা করেছে।