প্রতিবারের মতো এবারও ঈদুল ফিতর উপলক্ষে ঘরমুখো মানুষের জন্য দুশ্চিন্তার কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে ঢাকা-সিলেট ও চট্টগ্রাম-সিলেট মহাসড়কের ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশ। সড়কের উন্নয়ন প্রকল্পের ধীরগতি, যত্রতত্র অবৈধ স্ট্যান্ড এবং খানাখন্দের কারণে ঈদযাত্রায় এখানে ভয়াবহ যানজট ও জনভোগান্তির আশঙ্কা করা হচ্ছে।
ভোগান্তির মূল কেন্দ্রবিন্দু ও কারণসমূহ
মহাসড়ক দুটির ব্রাহ্মণবাড়িয়া অংশে ভোগান্তির পেছনে বেশ কিছু সুনির্দিষ্ট কারণ চিহ্নিত করেছেন যাত্রী ও চালকরা:
- নির্মাণাধীন ১২ কিলোমিটার: ঢাকা-সিলেট মহাসড়কের আশুগঞ্জ গোলচত্বর থেকে বিশ্বরোড মোড় পর্যন্ত ১২ কিলোমিটার অংশ এখন যাত্রী ও চালকদের জন্য মূর্তমান আতঙ্ক। এই অংশে ছয় লেন মহাসড়কের কাজ চলমান থাকায় প্রতিদিন কয়েক ঘণ্টা যানজট লেগে থাকছে।
- অবৈধ স্ট্যান্ড ও তিন চাকার যান: বিশ্বরোড, আশুগঞ্জ গোলচত্বর, সোহাগপুর, কুট্টাপাড়া এবং তন্তর বাজার এলাকায় মহাসড়কের ওপরই গড়ে উঠেছে অবৈধ সিএনজি অটোরিকশা ও ব্যাটারিচালিত রিকশার স্ট্যান্ড। যত্রতত্র যাত্রী ওঠানামা করায় যানবাহনের গতি থমকে যাচ্ছে।
- চট্টগ্রাম-সিলেট মহাসড়কের বেহাল দশা: সদর উপজেলার সুলতানপুর ও আখাউড়ার ধরখার ইউনিয়নের তন্তর বাজার এলাকায় সড়কের অবস্থা অত্যন্ত নাজুক। ভাঙাচোরা রাস্তার কারণে যানবাহনগুলোকে ধীরগতিতে চলতে হয়, যা দীর্ঘ যানজটের সৃষ্টি করে।
প্রকল্পের ধীরগতি: নেপথ্যে ভারতের কর্মী প্রত্যাহার
আশুগঞ্জ নৌবন্দর থেকে আখাউড়া স্থলবন্দর পর্যন্ত ৫১ কিলোমিটার সড়ক চার লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হয়েছিল ২০১৮ সালে। কিন্তু প্রকল্পের কাজ বর্তমানে মারাত্মক ধীরগতির মুখে পড়েছে:
১. কর্মী সংকট: ২০২৪ সালের ৫ আগস্ট রাজনৈতিক পটপরিবর্তনের পর নিরাপত্তার কারণ দেখিয়ে ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান এফকনস ইনফ্রাস্ট্রাকচার লিমিটেড তাদের প্রায় ৩০০ ভারতীয় কর্মীকে প্রত্যাহার করে নেয়। তারা ভারতে ফিরে যাওয়ায় কাজ অনেকটা থমকে যায়।
২. সময় ও ব্যয় বৃদ্ধি: ২০১৭ সালে অনুমোদিত এই প্রকল্পের মেয়াদ ২০২৫ সালের জুন থেকে বাড়িয়ে এখন ২০২৭ সাল পর্যন্ত করা হয়েছে। বর্তমানে কাজের অগ্রগতি মাত্র ৬০ শতাংশ।
ঈদযাত্রা নির্বিঘ্ন করতে নেওয়া পদক্ষেপ
জনভোগান্তি কমাতে প্রশাসন ও প্রকল্প সংশ্লিষ্টরা কিছু বিশেষ উদ্যোগের কথা জানিয়েছেন:
- অস্থায়ী ডাইভারশন: প্রকল্পের ব্যবস্থাপক মো. শামীম আহমেদ জানান, ১৬ মার্চের মধ্যে আশুগঞ্জ ও বিশ্বরোড মোড়ে উভয় পাশে দুটি লেনে অস্থায়ী ডাইভারশন সড়ক চালু করা হবে। এতে ঈদযাত্রায় যান চলাচল কিছুটা স্বাভাবিক হবে বলে আশা করা হচ্ছে।
- হাইওয়ে পুলিশের বাড়তি প্রস্তুতি: খাঁটিহাতা হাইওয়ে থানার ওসি মো. জাহাঙ্গীর আলম জানিয়েছেন, ঈদযাত্রা নিরাপদ করতে ৩৮ জন নিয়মিত সদস্যের পাশাপাশি আরও ১৮ জন অতিরিক্ত পুলিশ মোতায়েন থাকবে। দুর্ঘটনাকবলিত গাড়ি দ্রুত সরাতে প্রস্তুত রাখা হয়েছে রেকার।
প্রশাসনের আশ্বাস থাকলেও মাঠপর্যায়ের চিত্র বলছে, ডাইভারশন সড়ক এবং পুলিশের বাড়তি তৎপরতা কতটা কাজে আসবে তা নিয়ে সন্দেহ রয়েই গেছে। বিশেষ করে আশুগঞ্জ ও বিশ্বরোডের ১২ কিলোমিটার অংশে উন্নয়ন কাজ শেষ না হওয়া পর্যন্ত এই পথের যাত্রীদের দুর্ভোগ থেকেই যাচ্ছে।
রিপোর্টারের নাম 

























