ইসলামের তৃতীয় পবিত্রতম স্থান আল-আকসা মসজিদে প্রবেশে ইসরায়েলি নিষেধাজ্ঞার কারণে হাজার হাজার ফিলিস্তিনি রাস্তায় নামাজ আদায় করছেন। রমজানের শেষ দশ দিনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে তারা মসজিদের বাইরে সড়কেই মাগরিব, এশা ও তারাবির নামাজ আদায় করতে বাধ্য হচ্ছেন।
বিগত বছরগুলোতে রমজানের এই সময়ে, বিশেষ করে জুমার নামাজে আল-আকসা মসজিদ প্রাঙ্গণে লাখ লাখ মুসল্লির সমাগম হতো। কিন্তু সম্প্রতি ইসরায়েলি-মার্কিন যৌথ সামরিক অভিযানের পর থেকে পরিস্থিতি সম্পূর্ণ পাল্টে গেছে। নিরাপত্তার অজুহাত দেখিয়ে জেরুজালেমের পুরোনো শহর এবং পবিত্র স্থানগুলোতে ফিলিস্তিনিদের প্রবেশে কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করেছে ইসরায়েলি বাহিনী।
সকল বাধা উপেক্ষা করে ফিলিস্তিনিরা তাদের ধর্মীয় দৃঢ়তার পরিচয় দিচ্ছেন। আল-আকসার সীমানায় ঢুকতে না পেরে তারা নিকটবর্তী বাব আল-সাহিরা গেটের আশেপাশে মাদুর বিছিয়ে নামাজ আদায় করছেন। ৬৫ বছর বয়সী জেরুজালেম নিবাসী ইকরিমা আল-হুসাইনি জানান, গত ৫০ বছর ধরে তিনি কখনও আল-আকসায় তারাবি নামাজ ছাড়েননি। ভারাক্রান্ত কণ্ঠে তিনি বলেন, “অর্ধ শতাব্দী ধরে আমি প্রতি রমজানে এখানে আসছি। কিন্তু এ বছরের পরিস্থিতি একদমই আলাদা। শেষ দশ দিনের এই গুরুত্বপূর্ণ সময়ে আমরা হাজার হাজার মানুষের সঙ্গে ভেতরে থাকতাম। এখন বাইরে নামাজ পড়তে হওয়ায় মনে হচ্ছে খুব মূল্যবান কিছু আমাদের কাছ থেকে কেড়ে নেওয়া হয়েছে।”
উল্লেখ্য, ১৯৬৭ সালের পর এবারই প্রথম আল-আকসা এভাবে সম্পূর্ণরূপে বন্ধ করে দেওয়া হয়েছে। তবে যুদ্ধের আগেও ইসরায়েল বিধিনিষেধ আরোপের প্রক্রিয়া শুরু করেছিল। রমজানের প্রথম জুমায় অধিকৃত পশ্চিম তীর থেকে মাত্র ১০ হাজার মানুষকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হয়েছিল, যেখানে স্বাভাবিক সময়ে পাঁচ লাখ পর্যন্ত মানুষের সমাগম হতো।
রিপোর্টারের নাম 

























