ঢাকা ১০:২৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

২০২৬ বিশ্বকাপ: মানবাধিকার রক্ষায় ফিফাকে চিঠি বিভিন্ন সংগঠনের

আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে নতুন করে মানবাধিকার ইস্যু সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন নীতি এবং বর্তমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ফুটবলপ্রেমী, সাংবাদিক এবং অভিবাসী সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও চলাচল নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ফিফাকে চিঠি পাঠিয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন।

মানবাধিকার ও ক্রীড়া সংগঠনগুলোর জোট স্পোর্ট অ্যান্ড রাইটস অ্যালায়েন্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিশ্বকাপের মতো একটি বৈশ্বিক আসরে অংশ নিতে আসা বিদেশি নাগরিক, শ্রমিক, সাংবাদিক এবং সমর্থকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তাদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর ভিসা ও অভিবাসন নীতিমালা বিশ্বকাপের সময় বিভিন্ন দেশের মানুষের অবাধ চলাচল ও কাজের স্বাধীনতাকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

এই গভীর উদ্বেগগুলো তুলে ধরে তারা ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কাছে একটি বিস্তারিত চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ফুটবল বিশ্বকে একত্রিত করার শক্তি রাখে, তবে কোনো দেশের ভিসা নিষেধাজ্ঞা বা অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হলে বিদেশি নাগরিক, শ্রমিক, সাংবাদিক ও সমর্থকরা গুরুতর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

আগামী জুন-জুলাইয়ে প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের অংশগ্রহণে বিশ্বকাপ আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। তিন দেশের ১৬টি শহরে এই মেগা টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। তবে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ও ভ্রমণসংক্রান্ত কড়াকড়ি নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে, যা আয়োজকদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রশাসন একটি সফল বিশ্বকাপ আয়োজনের দিকেই মনোযোগ দিচ্ছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গল বলেন, প্রেসিডেন্ট এমন একটি বিশ্বকাপ আয়োজন করতে চান যেখানে ইতিহাসের অন্যতম সেরা নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, বিশ্বকাপ শুরুর আর খুব বেশি সময় বাকি না থাকলেও অধিকাংশ আয়োজক শহর এখনো তাদের মানবাধিকার পরিকল্পনা প্রকাশ করেনি। তাদের সতর্কবার্তা, সম্ভাব্য মানবাধিকার ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত করে আগে থেকেই সমাধানের উদ্যোগ না নিলে এমন একটি বৈশ্বিক আসর আয়োজন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে এবং এর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ফর্মহীনতায় শচীনকে বাদ দিতে চেয়েছিলেন নির্বাচকরা: সাবেক প্রধান নির্বাচক

২০২৬ বিশ্বকাপ: মানবাধিকার রক্ষায় ফিফাকে চিঠি বিভিন্ন সংগঠনের

আপডেট সময় : ০৮:৪৬:০৫ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

আসন্ন ২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপকে কেন্দ্র করে নতুন করে মানবাধিকার ইস্যু সামনে এসেছে। যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর অভিবাসন নীতি এবং বর্তমান বৈশ্বিক রাজনৈতিক পরিস্থিতির কারণে ফুটবলপ্রেমী, সাংবাদিক এবং অভিবাসী সম্প্রদায়ের নিরাপত্তা ও চলাচল নিয়ে গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করে ফিফাকে চিঠি পাঠিয়েছে বিভিন্ন মানবাধিকার সংগঠন।

মানবাধিকার ও ক্রীড়া সংগঠনগুলোর জোট স্পোর্ট অ্যান্ড রাইটস অ্যালায়েন্স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, বিশ্বকাপের মতো একটি বৈশ্বিক আসরে অংশ নিতে আসা বিদেশি নাগরিক, শ্রমিক, সাংবাদিক এবং সমর্থকদের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা অত্যন্ত জরুরি। তাদের আশঙ্কা, যুক্তরাষ্ট্রের কঠোর ভিসা ও অভিবাসন নীতিমালা বিশ্বকাপের সময় বিভিন্ন দেশের মানুষের অবাধ চলাচল ও কাজের স্বাধীনতাকে মারাত্মকভাবে বাধাগ্রস্ত করতে পারে।

এই গভীর উদ্বেগগুলো তুলে ধরে তারা ফিফা সভাপতি জিয়ান্নি ইনফান্তিনোর কাছে একটি বিস্তারিত চিঠি পাঠিয়েছে। চিঠিতে বলা হয়েছে, ফুটবল বিশ্বকে একত্রিত করার শক্তি রাখে, তবে কোনো দেশের ভিসা নিষেধাজ্ঞা বা অভিবাসীদের বিরুদ্ধে অভিযান চালানো হলে বিদেশি নাগরিক, শ্রমিক, সাংবাদিক ও সমর্থকরা গুরুতর ঝুঁকিতে পড়তে পারেন।

আগামী জুন-জুলাইয়ে প্রথমবারের মতো ৪৮ দলের অংশগ্রহণে বিশ্বকাপ আয়োজন করবে যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডা। তিন দেশের ১৬টি শহরে এই মেগা টুর্নামেন্টের ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হবে। তবে ইতোমধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা ও ভ্রমণসংক্রান্ত কড়াকড়ি নিয়ে বিশ্বজুড়ে ব্যাপক আলোচনা শুরু হয়েছে, যা আয়োজকদের জন্য একটি চ্যালেঞ্জ হয়ে দাঁড়িয়েছে।

এ বিষয়ে হোয়াইট হাউস জানিয়েছে, প্রশাসন একটি সফল বিশ্বকাপ আয়োজনের দিকেই মনোযোগ দিচ্ছে। হোয়াইট হাউসের মুখপাত্র ডেভিস ইঙ্গল বলেন, প্রেসিডেন্ট এমন একটি বিশ্বকাপ আয়োজন করতে চান যেখানে ইতিহাসের অন্যতম সেরা নিরাপত্তাব্যবস্থা নিশ্চিত করা হবে।

তবে মানবাধিকার সংগঠনগুলোর মতে, বিশ্বকাপ শুরুর আর খুব বেশি সময় বাকি না থাকলেও অধিকাংশ আয়োজক শহর এখনো তাদের মানবাধিকার পরিকল্পনা প্রকাশ করেনি। তাদের সতর্কবার্তা, সম্ভাব্য মানবাধিকার ঝুঁকিগুলো চিহ্নিত করে আগে থেকেই সমাধানের উদ্যোগ না নিলে এমন একটি বৈশ্বিক আসর আয়োজন চ্যালেঞ্জের মুখে পড়তে পারে এবং এর ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন হতে পারে।