ঢাকা ১২:০৬ পূর্বাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

ফর্মহীনতায় শচীনকে বাদ দিতে চেয়েছিলেন নির্বাচকরা: সাবেক প্রধান নির্বাচক

ভারতীয় ক্রিকেটের কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে দল থেকে বাদ পড়ার ঘটনা বিরল। অথচ ২০১২ সালে খারাপ ফর্মের কারণে তাকে দল থেকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তৎকালীন ভারতীয় নির্বাচকরা। এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সম্প্রতি প্রকাশ করেছেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক প্রধান নির্বাচক সন্দীপ পাতিল। একটি পডকাস্টে তিনি জানান, সেই সময় নির্বাচক কমিটি শচীনের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুতর আলোচনা করেছিল।

২০১১ বিশ্বকাপ জয়ের পর শচীনের পারফরম্যান্সে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা দেয়। ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া সফরে আটটি টেস্টে তিনি মাত্র ৫৬০ রান করেন, যার মধ্যে চারটি অর্ধশতক ছিল। এই দুই সিরিজেই ভারত ৪-০ ব্যবধানে পরাজিত হয়। এরপর দেশের মাটিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চার টেস্টে শচীনের সংগ্রহ ছিল মাত্র ১১২ রান, গড় ১৮.৬। এই সময়ে সৌরভ গাঙ্গুলি, রাহুল দ্রাবিড় এবং ভিভিএস লক্ষ্মণের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা অবসর নেওয়ায় ৩৯ বছর বয়সী শচীনের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

২০১২ সালের নাগপুর টেস্টের শেষ দিনে সন্দীপ পাতিল এবং সহ-নির্বাচক রাজেন্দ্র সিং হান্স শচীনের সঙ্গে একটি বিশেষ বৈঠক করেন। পাতিল পডকাস্টে জানান, তিনি সরাসরি শচীনকে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চেয়েছিলেন। নির্বাচক কমিটির ধারণা ছিল, শচীনের হয়তো আর দলকে দেওয়ার মতো কিছু নেই এবং তার বিকল্প খোঁজার সময় এসেছে। এই মন্তব্যে শচীন বিস্মিত হন এবং পাতিলকে ফোন করে জানতে চান, তিনি বিষয়টি সত্যিই গুরুত্ব দিয়ে বলছেন কি না। পাতিল তখন তার অবস্থান স্পষ্ট করেন। তবে টেন্ডুলকার সেই সময় জানিয়েছিলেন, তিনি খেলা চালিয়ে যেতে চান।

এই ঘটনার কিছুদিন পরেই অবশ্য শচীন ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণা করেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ শুরুর আগে তিনি এই সিদ্ধান্ত জানান। এরপর তিনি আরও প্রায় এক বছর টেস্ট ক্রিকেট খেলে যান। ২০১৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারতের ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ে শচীনের ব্যাট থেকে আসে ১৯২ রান, যার মধ্যে সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল ৮১। একই বছর তিনি আইপিএল থেকেও অবসর নেন। অবশেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দেশের মাটিতে বিদায়ী টেস্ট সিরিজ খেলে ২৪ বছরের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানেন এই ভারতীয় কিংবদন্তি। ইতিহাসে তিনিই প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ২০০টি টেস্ট এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৩৪ হাজারেরও বেশি (৩৪৩৫৭) রান করে তার অসাধারণ ক্যারিয়ার শেষ করেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

নোয়াবের নতুন সভাপতি মতিউর রহমান চৌধুরী: বিনা প্রতিদ্বন্দ্বিতায় নির্বাচিত কমিটি

ফর্মহীনতায় শচীনকে বাদ দিতে চেয়েছিলেন নির্বাচকরা: সাবেক প্রধান নির্বাচক

আপডেট সময় : ১০:০৭:৪৮ অপরাহ্ন, শনিবার, ১৪ মার্চ ২০২৬

ভারতীয় ক্রিকেটের কিংবদন্তি শচীন টেন্ডুলকারের বর্ণাঢ্য ক্যারিয়ারে দল থেকে বাদ পড়ার ঘটনা বিরল। অথচ ২০১২ সালে খারাপ ফর্মের কারণে তাকে দল থেকে বাদ দেওয়ার পরিকল্পনা করেছিলেন তৎকালীন ভারতীয় নির্বাচকরা। এই চাঞ্চল্যকর তথ্য সম্প্রতি প্রকাশ করেছেন ভারতীয় ক্রিকেট বোর্ডের সাবেক প্রধান নির্বাচক সন্দীপ পাতিল। একটি পডকাস্টে তিনি জানান, সেই সময় নির্বাচক কমিটি শচীনের ভবিষ্যৎ নিয়ে গুরুতর আলোচনা করেছিল।

২০১১ বিশ্বকাপ জয়ের পর শচীনের পারফরম্যান্সে উল্লেখযোগ্য পতন দেখা দেয়। ইংল্যান্ড ও অস্ট্রেলিয়া সফরে আটটি টেস্টে তিনি মাত্র ৫৬০ রান করেন, যার মধ্যে চারটি অর্ধশতক ছিল। এই দুই সিরিজেই ভারত ৪-০ ব্যবধানে পরাজিত হয়। এরপর দেশের মাটিতে ইংল্যান্ডের বিপক্ষে চার টেস্টে শচীনের সংগ্রহ ছিল মাত্র ১১২ রান, গড় ১৮.৬। এই সময়ে সৌরভ গাঙ্গুলি, রাহুল দ্রাবিড় এবং ভিভিএস লক্ষ্মণের মতো অভিজ্ঞ ক্রিকেটাররা অবসর নেওয়ায় ৩৯ বছর বয়সী শচীনের ভবিষ্যৎ নিয়ে প্রশ্ন উঠতে শুরু করে।

২০১২ সালের নাগপুর টেস্টের শেষ দিনে সন্দীপ পাতিল এবং সহ-নির্বাচক রাজেন্দ্র সিং হান্স শচীনের সঙ্গে একটি বিশেষ বৈঠক করেন। পাতিল পডকাস্টে জানান, তিনি সরাসরি শচীনকে তার ভবিষ্যৎ পরিকল্পনা জানতে চেয়েছিলেন। নির্বাচক কমিটির ধারণা ছিল, শচীনের হয়তো আর দলকে দেওয়ার মতো কিছু নেই এবং তার বিকল্প খোঁজার সময় এসেছে। এই মন্তব্যে শচীন বিস্মিত হন এবং পাতিলকে ফোন করে জানতে চান, তিনি বিষয়টি সত্যিই গুরুত্ব দিয়ে বলছেন কি না। পাতিল তখন তার অবস্থান স্পষ্ট করেন। তবে টেন্ডুলকার সেই সময় জানিয়েছিলেন, তিনি খেলা চালিয়ে যেতে চান।

এই ঘটনার কিছুদিন পরেই অবশ্য শচীন ওয়ানডে ক্রিকেট থেকে অবসর ঘোষণা করেন। পাকিস্তানের বিপক্ষে সিরিজ শুরুর আগে তিনি এই সিদ্ধান্ত জানান। এরপর তিনি আরও প্রায় এক বছর টেস্ট ক্রিকেট খেলে যান। ২০১৩ সালে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ভারতের ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ জয়ে শচীনের ব্যাট থেকে আসে ১৯২ রান, যার মধ্যে সর্বোচ্চ ইনিংস ছিল ৮১। একই বছর তিনি আইপিএল থেকেও অবসর নেন। অবশেষে ওয়েস্ট ইন্ডিজের বিপক্ষে দেশের মাটিতে বিদায়ী টেস্ট সিরিজ খেলে ২৪ বছরের দীর্ঘ আন্তর্জাতিক ক্যারিয়ারের ইতি টানেন এই ভারতীয় কিংবদন্তি। ইতিহাসে তিনিই প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে ২০০টি টেস্ট এবং আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ৩৪ হাজারেরও বেশি (৩৪৩৫৭) রান করে তার অসাধারণ ক্যারিয়ার শেষ করেন।