বিখ্যাত সুফি সাধক জালালউদ্দীন রুমি প্রেমের এক অনন্য ব্যাখ্যা দিয়েছিলেন এক প্রেমিকের গল্পের মাধ্যমে। যেখানে ‘আমি’র অস্তিত্ব বিলীন হয়ে কেবল ‘তুমি’র উপস্থিতিতেই হৃদয়ের দ্বার উন্মোচিত হয়। সুফিবাদী এই দর্শনে প্রেম মানেই হলো নিজের আমিত্বকে বিসর্জন দিয়ে প্রিয়তমের সত্তায় বিলীন হওয়া। এই একাত্ম হওয়ার আকাঙ্ক্ষাই মূলত ভালোবাসার আদি রসায়ন, যা মানুষের জীবনকে আমূল বদলে দেওয়ার ক্ষমতা রাখে।
ভাষাতাত্ত্বিক দৃষ্টিকোণ থেকে ‘ভালোবাসা’ শব্দটির অর্থ বিশ্লেষণ করলে দেখা যায়, এর মূলে রয়েছে অন্যের ভালো লাগার মাঝে নিজের নিরাপদ আশ্রয় খুঁজে পাওয়া। সৃষ্টির শুরু থেকে আজ পর্যন্ত এই একটি আবেগই মানব সভ্যতার সবচেয়ে রহস্যময় ব্যাকরণ হিসেবে টিকে আছে। ইসলামি দর্শনে আদি পিতা আদমের একাকিত্ব ঘোচাতে তাঁর পাঁজরের হাড় থেকে বিবি হাওয়াকে সৃষ্টির মাধ্যমে ভালোবাসার বীজ বপন করার কথা বলা হয়েছে। একইভাবে সনাতন ধর্মে রাধা-কৃষ্ণের প্রেমকে জীবাত্মা ও পরমাত্মার মিলনের প্রতীক হিসেবে দেখা হয়।
প্রেমের এই ত্যাগের মহিমা ফুটে ওঠে ইউসুফ-জুলেখার অমর উপাখ্যানেও। জাগতিক রূপের মোহ থেকে শুরু হলেও শেষ পর্যন্ত জুলেখার সেই প্রেম ‘ইশকে হাকিকি’ বা পরম সত্যের সন্ধানে রূপান্তরিত হয়েছিল। সুফি কবিদের মতে, এই আধ্যাত্মিক উত্তরণই হলো প্রেমের সার্থকতা, যেখানে পার্থিব সীমাবদ্ধতা পেরিয়ে আত্মা অসীমের দিকে ধাবিত হয়।
রিপোর্টারের নাম 
























