বর্তমান বিশ্বে বিজ্ঞান ও প্রযুক্তির অভাবনীয় উন্নতি হলেও মানবিক মূল্যবোধের চরম সংকট দেখা দিয়েছে। গাজা থেকে শুরু করে বিভিন্ন প্রান্তে চলমান যুদ্ধ ও ধ্বংসযজ্ঞ প্রমাণ করে যে, বিশ্বসমাজ আজ আত্মহননের পথে ধাবিত হচ্ছে। দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ভয়াবহতা কাটিয়ে শান্তি প্রতিষ্ঠার যে অঙ্গীকার জাতিসংঘ করেছিল, তা আজ ভেঙে পড়ার উপক্রম। এমন এক অস্থিতিশীল পরিস্থিতিতে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাব্যগ্রন্থ ‘পত্রপুট’ আমাদের নতুন করে মানবিক হওয়ার আহ্বান জানায়।
১৯৩৫ সালে প্রকাশিত এই কাব্যগ্রন্থের কবিতাগুলো রবীন্দ্রনাথ লিখেছিলেন দ্বিতীয় বিশ্বযুদ্ধের ঘনায়মান অন্ধকারের পটভূমিতে। সে সময় আধুনিক মারণাস্ত্রের প্রয়োগ ও আকাশ থেকে নিক্ষিপ্ত বোমার ভয়াবহতা দেখে কবি বিচলিত হয়েছিলেন। আজকের দিনের আন্তমহাদেশীয় ব্যালেস্টিক মিসাইল বা দূরপাল্লার ক্ষেপণাস্ত্রের যুগে দাঁড়িয়ে কবির সেই আশঙ্কা আরও বেশি প্রাসঙ্গিক হয়ে উঠেছে।
রবীন্দ্রনাথ তাঁর এই কাব্যে মানবিকতা ও শান্তির সপক্ষে যে ধিক্কার জানিয়েছেন, তা বর্তমানের সংঘাতদীর্ণ বিশ্বের জন্য এক বড় শিক্ষা। যুদ্ধের উন্মাদনা যখন সভ্যতাকে গ্রাস করতে চায়, তখন ‘পত্রপুট’-এর কবিতাগুলো আমাদের হৃদয়ে শুভবুদ্ধি ও সহাবস্থানের চেতনা জাগিয়ে তুলতে সহায়তা করে।
রিপোর্টারের নাম 
























