ঢাকা ১১:১২ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬

সিলেটে হামে শিশুমৃত্যু উদ্বেগজনক, নতুন ইউনিট চালু হচ্ছে

সিলেট বিভাগে হামে আক্রান্ত হয়ে শিশুমৃত্যুর হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে মাত্র পাঁচ ঘণ্টার ব্যবধানে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা নিয়ে সিলেট বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গে এ পর্যন্ত মোট ২৩ শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হামের জন্য একটি বিশেষায়িত শিশু ইউনিট চালু করা হচ্ছে।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর মুনীর রাশেদ জানিয়েছেন, শনিবার থেকে ওসমানী হাসপাতালের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডটি হাম রোগীদের জন্য সম্পূর্ণরূপে নিবেদিত করা হয়েছে। বর্তমানে শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালও হামের জন্য ডেডিকেটেড করা হয়েছে, যার শয্যা সংখ্যা ১০০। তবে রোগীর চাপ বেশি থাকায় সেখানেও রোগীদের গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে। ক্রমবর্ধমান রোগীর সংখ্যা এবং একটি অতিরিক্ত ডেডিকেটেড হাসপাতাল চালুর জোরালো দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই নতুন এই ইউনিটটি চালু করা হচ্ছে। ওসমানী ও শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে গুরুতর অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

বৃহস্পতিবার রাতে যে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তারা হলেন– সিলেট নগরীর আখালিয়া সুরমা আবাসিক এলাকার আব্দুল মুমিন ও সুমি বেগম দম্পতির আট মাসের শিশুসন্তান মাহদি হাসান, দক্ষিণ সুনামগঞ্জের আসামপুর গ্রামের সুনু মিয়ার ছয় মাসের শিশুসন্তান মুস্তাকিন এবং রাত ১১টায় সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সাত মাস বয়সী শিশু জারা। এর আগে বৃহস্পতিবার সকালেই শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার জাহিদুল ইসলামের এক বছরের ছেলে সজিবুল ইসলামের মৃত্যু হয়।

সিলেট বিভাগের সহকারী স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. নুরে আলম শামীম জানিয়েছেন, বর্তমানে সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ২৩৩ জন সন্দেহজনক হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালেই ভর্তি আছেন ৯২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬৬ জন নতুন সন্দেহজনক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

২৬ দিন পর আবার চালু ইস্টার্ন রিফাইনারি, শুরু হচ্ছে জ্বালানি উৎপাদন

সিলেটে হামে শিশুমৃত্যু উদ্বেগজনক, নতুন ইউনিট চালু হচ্ছে

আপডেট সময় : ১০:১৬:৪৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

সিলেট বিভাগে হামে আক্রান্ত হয়ে শিশুমৃত্যুর হার উদ্বেগজনকভাবে বৃদ্ধি পাচ্ছে। গত বৃহস্পতিবার রাতে মাত্র পাঁচ ঘণ্টার ব্যবধানে আরও তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, যা নিয়ে সিলেট বিভাগে হাম ও হামের উপসর্গে এ পর্যন্ত মোট ২৩ শিশুর প্রাণহানি ঘটেছে। এই পরিস্থিতি মোকাবিলায় সিলেট এমএজি ওসমানী মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে হামের জন্য একটি বিশেষায়িত শিশু ইউনিট চালু করা হচ্ছে।

হাসপাতালের পরিচালক ব্রিগেডিয়ার জেনারেল উমর মুনীর রাশেদ জানিয়েছেন, শনিবার থেকে ওসমানী হাসপাতালের ৩২ নম্বর ওয়ার্ডটি হাম রোগীদের জন্য সম্পূর্ণরূপে নিবেদিত করা হয়েছে। বর্তমানে শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালও হামের জন্য ডেডিকেটেড করা হয়েছে, যার শয্যা সংখ্যা ১০০। তবে রোগীর চাপ বেশি থাকায় সেখানেও রোগীদের গাদাগাদি করে থাকতে হচ্ছে। ক্রমবর্ধমান রোগীর সংখ্যা এবং একটি অতিরিক্ত ডেডিকেটেড হাসপাতাল চালুর জোরালো দাবির পরিপ্রেক্ষিতেই নতুন এই ইউনিটটি চালু করা হচ্ছে। ওসমানী ও শহীদ শামসুদ্দিন হাসপাতালে গুরুতর অসুস্থ শিশুদের চিকিৎসা প্রদান করা হচ্ছে বলেও তিনি জানান।

বৃহস্পতিবার রাতে যে তিন শিশুর মৃত্যু হয়েছে, তারা হলেন– সিলেট নগরীর আখালিয়া সুরমা আবাসিক এলাকার আব্দুল মুমিন ও সুমি বেগম দম্পতির আট মাসের শিশুসন্তান মাহদি হাসান, দক্ষিণ সুনামগঞ্জের আসামপুর গ্রামের সুনু মিয়ার ছয় মাসের শিশুসন্তান মুস্তাকিন এবং রাত ১১টায় সুনামগঞ্জের বিশ্বম্ভরপুর উপজেলার সাত মাস বয়সী শিশু জারা। এর আগে বৃহস্পতিবার সকালেই শহীদ ডা. শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ফেঞ্চুগঞ্জ উপজেলার জাহিদুল ইসলামের এক বছরের ছেলে সজিবুল ইসলামের মৃত্যু হয়।

সিলেট বিভাগের সহকারী স্বাস্থ্য পরিচালক ডা. নুরে আলম শামীম জানিয়েছেন, বর্তমানে সিলেটের বিভিন্ন হাসপাতালে মোট ২৩৩ জন সন্দেহজনক হাম রোগী চিকিৎসাধীন রয়েছেন। এর মধ্যে শহীদ শামসুদ্দিন আহমদ হাসপাতালেই ভর্তি আছেন ৯২ জন। গত ২৪ ঘণ্টায় আরও ৬৬ জন নতুন সন্দেহজনক রোগী হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন।