ঢাকা ১২:১৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ০৮ মে ২০২৬

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ: বিজয়ের দল ও দুই মহারথীর জোটের সম্ভাবনা, বিজেপির গোপন সমর্থন?

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যা বহু বছর ধরে প্রায় অসম্ভব বলে বিবেচিত হচ্ছিল। তামিল অভিনেতা-রাজনীতিক থালাপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্টি কাজাগম (টিভিকে)-এর উত্থান এই সম্ভাবনার জন্ম দিয়েছে। বিগত পাঁচ দশকের দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তি, দ্রাবিড় মুনেত্র কাজগম (ডিএমকে) এবং সর্বভারতীয় আন্না দ্রাবিড় মুনেত্র কাজগম (এআইএডিএমকে)-এর মধ্যে জোট গঠনের আলোচনা শুরু হয়েছে। এমনকি ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-ও পর্দার আড়াল থেকে এই পরিকল্পনাকে সমর্থন দিচ্ছে বলে জানা গেছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো টিভিকে-র সঙ্গে জোটবদ্ধ কংগ্রেসকে ক্ষমতা থেকে দূরে রাখা।

সূত্র বলছে, ডিএমকে-র উদয়নিধি স্ট্যালিনপন্থীরা আশঙ্কা করছেন যে থালাপতি বিজয় প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী এমজি রামচন্দ্রনের (এমজিআর) মতো রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারেন, যিনি তাঁর জীবদ্দশায় ডিএমকে-কে ক্ষমতায় আসতে দেননি। অন্যদিকে, জয়ললিতার মৃত্যুর পর টানা চারবার নির্বাচনী পরাজয়ের সম্মুখীন হওয়া এআইএডিএমকেও তাদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য এই জোটে আগ্রহী। জানা গেছে, এই পরিকল্পনার মাধ্যমে কংগ্রেসকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করতে ডিএমকে ও এআইএডিএমকে-কে সমর্থন দিচ্ছে বিজেপি।

তবে, এই জোট গঠনের পথে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য বাম দল এবং বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চি (ভিসিকে)-র সমর্থন অপরিহার্য। থালাপতি বিজয় ইতিমধ্যেই এই দলগুলোর সমর্থন চেয়েছেন, তবে তারা এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।

ডিএমকে-র শীর্ষ সূত্রগুলো জানিয়েছে যে, এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এআইএডিএমকে নেতা এডাপ্পাদি কারুপা পালানিস্বামী মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন এবং ডিএমকে তাঁকে বাইরে থেকে সমর্থন দেবে। যদিও দলটির প্রবীণ অংশ এবং এমনকি প্রধান এমকে স্ট্যালিনেরও এই পরিকল্পনা নিয়ে আপত্তি থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, তবুও এটি এগিয়ে যাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএমকে-র জ্যেষ্ঠ নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই ধরনের অস্বাভাবিক রাজনৈতিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা জনগণের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে আবেগপ্রবণ তামিল ভোটারদের মধ্যে।

এই আবেগপ্রবণ ভোটারদের দিকেই নজর রাখছে টিভিকে। দলটি জানিয়েছে, যদি ডিএমকে-এআইএডিএমকে জোট সরকার গঠনের দাবি জানায়, তবে তাদের ১০৮ জন বিধায়ক পদত্যাগ করবেন। দলটির বিশ্বাস, এমন পদক্ষেপ বিজয়ের সমর্থকদের রাস্তায় নামিয়ে আনবে।

২৩৪ সদস্যের তামিলনাড়ু বিধানসভায় ১০৮টি আসন জিতে টিভিকে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হলেও, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি দলটি। টিভিকে-র দাবি, একক বৃহত্তম দল হিসেবে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ তাদেরই পাওয়া উচিত।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানি হামলাকে ‘লাভ ট্যাপ’ আখ্যা দিয়ে ট্রাম্পের নতুন হুঁশিয়ারি

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে নতুন সমীকরণ: বিজয়ের দল ও দুই মহারথীর জোটের সম্ভাবনা, বিজেপির গোপন সমর্থন?

আপডেট সময় : ১১:১৮:৩৮ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ৮ মে ২০২৬

তামিলনাড়ুর রাজনীতিতে এক নতুন সমীকরণের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে, যা বহু বছর ধরে প্রায় অসম্ভব বলে বিবেচিত হচ্ছিল। তামিল অভিনেতা-রাজনীতিক থালাপতি বিজয়ের দল তামিলাগা ভেট্টি কাজাগম (টিভিকে)-এর উত্থান এই সম্ভাবনার জন্ম দিয়েছে। বিগত পাঁচ দশকের দুই প্রধান রাজনৈতিক শক্তি, দ্রাবিড় মুনেত্র কাজগম (ডিএমকে) এবং সর্বভারতীয় আন্না দ্রাবিড় মুনেত্র কাজগম (এআইএডিএমকে)-এর মধ্যে জোট গঠনের আলোচনা শুরু হয়েছে। এমনকি ভারতীয় জনতা পার্টি (বিজেপি)-ও পর্দার আড়াল থেকে এই পরিকল্পনাকে সমর্থন দিচ্ছে বলে জানা গেছে, যার মূল উদ্দেশ্য হলো টিভিকে-র সঙ্গে জোটবদ্ধ কংগ্রেসকে ক্ষমতা থেকে দূরে রাখা।

সূত্র বলছে, ডিএমকে-র উদয়নিধি স্ট্যালিনপন্থীরা আশঙ্কা করছেন যে থালাপতি বিজয় প্রয়াত মুখ্যমন্ত্রী এমজি রামচন্দ্রনের (এমজিআর) মতো রাজনৈতিক প্রভাব ফেলতে পারেন, যিনি তাঁর জীবদ্দশায় ডিএমকে-কে ক্ষমতায় আসতে দেননি। অন্যদিকে, জয়ললিতার মৃত্যুর পর টানা চারবার নির্বাচনী পরাজয়ের সম্মুখীন হওয়া এআইএডিএমকেও তাদের অস্তিত্ব রক্ষার জন্য এই জোটে আগ্রহী। জানা গেছে, এই পরিকল্পনার মাধ্যমে কংগ্রেসকে রাজনৈতিকভাবে দুর্বল করতে ডিএমকে ও এআইএডিএমকে-কে সমর্থন দিচ্ছে বিজেপি।

তবে, এই জোট গঠনের পথে কিছু চ্যালেঞ্জও রয়েছে। এই পরিকল্পনা বাস্তবায়নের জন্য বাম দল এবং বিদুথালাই চিরুথাইগাল কাচ্চি (ভিসিকে)-র সমর্থন অপরিহার্য। থালাপতি বিজয় ইতিমধ্যেই এই দলগুলোর সমর্থন চেয়েছেন, তবে তারা এখনও কোনো চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত জানায়নি।

ডিএমকে-র শীর্ষ সূত্রগুলো জানিয়েছে যে, এই পরিকল্পনার অংশ হিসেবে এআইএডিএমকে নেতা এডাপ্পাদি কারুপা পালানিস্বামী মুখ্যমন্ত্রী হতে পারেন এবং ডিএমকে তাঁকে বাইরে থেকে সমর্থন দেবে। যদিও দলটির প্রবীণ অংশ এবং এমনকি প্রধান এমকে স্ট্যালিনেরও এই পরিকল্পনা নিয়ে আপত্তি থাকতে পারে বলে ইঙ্গিত পাওয়া গেছে, তবুও এটি এগিয়ে যাচ্ছে।

নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক ডিএমকে-র জ্যেষ্ঠ নেতারা আশঙ্কা প্রকাশ করেছেন যে, এই ধরনের অস্বাভাবিক রাজনৈতিক পরীক্ষা-নিরীক্ষা জনগণের মধ্যে বিরূপ প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি করতে পারে, বিশেষ করে আবেগপ্রবণ তামিল ভোটারদের মধ্যে।

এই আবেগপ্রবণ ভোটারদের দিকেই নজর রাখছে টিভিকে। দলটি জানিয়েছে, যদি ডিএমকে-এআইএডিএমকে জোট সরকার গঠনের দাবি জানায়, তবে তাদের ১০৮ জন বিধায়ক পদত্যাগ করবেন। দলটির বিশ্বাস, এমন পদক্ষেপ বিজয়ের সমর্থকদের রাস্তায় নামিয়ে আনবে।

২৩৪ সদস্যের তামিলনাড়ু বিধানসভায় ১০৮টি আসন জিতে টিভিকে একক বৃহত্তম দল হিসেবে আবির্ভূত হলেও, সরকার গঠনের জন্য প্রয়োজনীয় ১১৮ আসনের সংখ্যাগরিষ্ঠতা অর্জন করতে পারেনি দলটি। টিভিকে-র দাবি, একক বৃহত্তম দল হিসেবে সরকার গঠনের আমন্ত্রণ তাদেরই পাওয়া উচিত।