পবিত্র রমজান মাসের শুরু থেকেই রাজধানীর বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের তীব্র সংকট দেখা দিয়েছে। দেশের বৃহত্তম পাইকারি বাজার মৌলভীবাজার থেকে শুরু করে পাড়া-মহল্লার খুচরা দোকান—কোথাও চাহিদামত তেল মিলছে না। সরকারের পক্ষ থেকে চাহিদার তুলনায় ৪২ শতাংশ বেশি ভোজ্যতেল আমদানির দাবি করা হলেও বাস্তব চিত্র সম্পূর্ণ ভিন্ন। ক্রেতারা টাকা নিয়ে দোকানে দোকানে ঘুরলেও মিলছে না কাঙ্ক্ষিত সয়াবিন তেল।
পুরান ঢাকার মৌলভীবাজারের চিত্র এখন হাহাকারের মতো। পাইকারি ব্যবসায়ীরা জানিয়েছেন, বাজারে প্রতিদিন যেখানে এক হাজার টন তেলের চাহিদা রয়েছে, সেখানে মিলগুলো থেকে সরবরাহ আসছে মাত্র ৪০০ টনের মতো। বড় পাইকাররা রমজান ও ঈদ উপলক্ষে গত জানুয়ারি মাসেই মিলগুলোতে অগ্রিম টাকা দিয়ে রেখেছেন, কিন্তু সেই তেল এখনো দোকানে পৌঁছায়নি। খুচরা ব্যবসায়ীরাও পাইকারদের কাছে অগ্রিম টাকা জমা দিয়ে রেখেছেন। অনেক দোকানদার ক্রেতাদের টাকা ফেরত দিতে চাইলেও তেলের অনিশ্চয়তার কারণে কেউ টাকা নিতে রাজি হচ্ছেন না; সবাই তেলের জন্যই অপেক্ষা করছেন।
ব্যবসায়ীদের একটি বড় অংশ এই সংকটের জন্য মিল মালিকদের ‘মানসিকতা ও অতি মুনাফার লোভ’কে দায়ী করছেন। পাইকারদের মতে, বিশ্ব পরিস্থিতির কারণে আমদানিতে প্রভাব পড়ার যে অজুহাত দেওয়া হচ্ছে তা অযৌক্তিক, কারণ রমজানের তেল অনেক আগেই দেশে পৌঁছেছে। বর্তমানে যে সংকট দেখা যাচ্ছে, তা মূলত কৃত্রিম। বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির নেতারা মনে করছেন, মিলগুলোতে সরকারের পক্ষ থেকে জরুরি ভিত্তিতে অভিযান চালানো প্রয়োজন। সরকারের আমলারা আমদানির যে পরিসংখ্যান দিয়েছিলেন, তা সঠিক হলে সেই তেল কোথায় গেল, তা খুঁজে বের করা এখন সময়ের দাবি।
এদিকে ভোজ্যতেল পরিশোধনকারী কোম্পানিগুলোর সংগঠন ‘বাংলাদেশ ভেজিটেবল অয়েল রিফাইনার্স অ্যান্ড বনস্পতি ম্যানুফ্যাকচারার্স অ্যাসোসিয়েশন’ ফেব্রুয়ারি মাসে আশ্বস্ত করেছিল যে, রমজানে তেলের কোনো ঘাটতি হবে না। সিটি গ্রুপ, মেঘনা গ্রুপ ও টি কে গ্রুপের মতো বড় প্রতিষ্ঠানগুলো পর্যাপ্ত তেল আমদানি করেছে বলে তারা দাবি করেছিল। কিন্তু মাঠপর্যায়ে সরবরাহ ব্যবস্থার এই বিশৃঙ্খলা সেই দাবির সঙ্গে সাংঘর্ষিক। অনেক খুচরা বিক্রেতা অভিযোগ করেছেন, পাঁচ কার্টন তেলের চাহিদা দিলে ডিলাররা মাত্র এক কার্টন সরবরাহ করছেন।
বর্তমানে সরকার নির্ধারিত বোতলজাত সয়াবিন তেলের দাম লিটারপ্রতি ১৭৫ টাকা এবং পাঁচ লিটারের বোতল ৮৫২ টাকা। বাজারে তেলের দাম স্থিতিশীল থাকলেও সরবরাহ না থাকাটা সাধারণ ভোক্তাদের জন্য বড় ভোগান্তির কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ করে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবার যারা ঈদের আগে খাদ্য সহায়তা দেওয়ার পরিকল্পনা করছেন, তারা বোতলজাত তেল না পেয়ে বিপাকে পড়েছেন। এই পরিস্থিতি অব্যাহত থাকলে ঈদুল ফিতরের আগে তেলের বাজার আরও অস্থির হয়ে উঠতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে। সাধারণ মানুষ এখন তাকিয়ে আছে প্রশাসনের কঠোর নজরদারি ও মিলগুলোর সরবরাহ স্বাভাবিক হওয়ার দিকে।
রিপোর্টারের নাম 

























