ফেনী মডেল থানা পুলিশ প্রায় ৫ লক্ষ ৬ হাজার জাল টাকাসহ এক উচ্চশিক্ষিত যুবককে আটক করেছে। এছাড়া তার ভাড়া বাসা থেকে জাল টাকা তৈরির সরঞ্জামও উদ্ধার করা হয়েছে। স্থানীয়রা তাকে আটক করে পুলিশে সোপর্দ করে। বৃহস্পতিবার (১২ মার্চ) রাতে জেলার শহরতলীর রানীরহাট বাজার থেকে তাকে আটক করা হয়। আটক ফারুক আহম্মেদ ভূঁইয়া ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার আশুগঞ্জ এলাকার মৃত মো. আলী আহাম্মদ ভূঁইয়ার ছেলে। সে দীর্ঘদিন ধরে ফেনীর দাগনভূঞার রাজাপুর ইউনিয়নের কোরাইশ মুন্সিতে একটি ভাড়া বাসায় বসবাস করত।
পুলিশ সূত্রে জানা যায়, বৃহস্পতিবার রাতে ফেনী মডেল থানাধীন রানীরহাট বাজারে জাল টাকাসহ ফারুককে স্থানীয়রা ধরে ফেলে। খবর পেয়ে পুলিশ ঘটনাস্থলে উপস্থিত হয়ে তাকে হেফাজতে নেয়। প্রাথমিক তল্লাশিতে তার কাছ থেকে ১০০০, ১০০ ও ২০ টাকার নোটসহ মোট ৫,৬২০ টাকার জাল নোট উদ্ধার করা হয়। পুলিশি জিজ্ঞাসাবাদে আটক ফারুক জানায়, সে দাগনভূঞা উপজেলার কোরাইশমুন্সী বাজারের একটি কম্পিউটার দোকানে ব্যবসার আড়ালে জাল টাকা তৈরি করে আসছিল।
সে ঢাকার সিদ্ধেশ্বরী বিশ্ববিদ্যালয় কলেজ থেকে মার্কেটিংয়ে অনার্স সম্পন্ন করার পর গ্রাফিক্স ডিজাইনের উপর কোর্স করেছিল। ইউটিউব এবং বিভিন্ন ওয়েবসাইট থেকে জাল টাকা তৈরির কৌশল রপ্ত করে সে এই অপরাধে জড়িয়ে পড়ে। আসন্ন ঈদুল ফিতরকে সামনে রেখে বাজারে বিপুল পরিমাণ জাল নোট ছাড়ার তার পরিকল্পনা ছিল। উচ্চশিক্ষিত হয়েও অল্প সময়ে অধিক লাভের আশায় সে এই অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডে লিপ্ত হয়।
পরবর্তীতে দাগনভূঞা উপজেলার রাজাপুর ইউনিয়নস্থ তার ভাড়া বাসায় অভিযান চালায় পুলিশ। সেখানে অভিযান চালিয়ে ১ লক্ষ ২৫ হাজার ৩৬০ টাকা সমপরিমাণ ছাপানো ও আংশিক ছাপানো জাল নোট জব্দ করেন তারা। একই সঙ্গে জাল টাকা তৈরির একটি ইপসন মাল্টি কালার প্রিন্টার, একটি ডেল মনিটর, গিগাসোনিক প্রসেসর, পেনড্রাইভ, এ-ফোর সাইজের কাগজ, ফটো পেপার, কাটার, স্কেলসহ জাল নোট তৈরিতে ব্যবহৃত ডালডা ঘি উদ্ধার করে পুলিশ। ফেনী মডেল থানার ওসি (তদন্ত) সজল কান্তি দাস বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন, আটক আসামির বিরুদ্ধে বিশেষ ক্ষমতা আইনে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
রিপোর্টারের নাম 
























