ঢাকা ০১:৫৯ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

এক পরিবারের ৯ সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু: মোংলায় শোকের ছায়া

যে বাড়িতে কয়েকদিন আগেও ছিল বিয়ের সানাই আর অতিথিদের কোলাহল, সেই বাড়ির উঠানেই এখন নয়টি নিথর দেহ। একটি পরিবারের এতগুলো প্রাণ একসঙ্গে নিভে যাওয়ার এই মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে উপস্থিত সকলেরই চোখ অশ্রুসিক্ত। মোংলা পৌর শহরের সাত্তার লেনের ওই বাড়িতে শুক্রবার সকাল থেকেই ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়। আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী এবং দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসা মানুষগুলো নির্বাক দাঁড়িয়ে ছিলেন এক অভূতপূর্ব শোকের চাদরে ঢাকা পরিবেশে। পুরো এলাকাজুড়ে নেমে এসেছিল এক গভীর শোকের মাতম।

এক উঠানেই পাশাপাশি রাখা হয়েছিল নয়টি লাশ। জানা যায়, পৌর বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক, তার ছেলে, মেয়ে, পুত্রবধূ এবং নাতি-নাতনিদের এক সঙ্গে জানাজা পড়ানো হয়। শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে দুপুর ২টায় মোংলা উপজেলা পরিষদ মাঠে নিহতদের এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এই হৃদয়বিদারক অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দসহ হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে মোংলা পৌর কবরস্থানে তাদের পাশাপাশি দাফন করা হয়।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক আব্দুল বাতেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাসান, রামপাল-মোংলা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. রেফাতুল ইসলাম, মোংলা থানার ওসি শাহীনুর রহমান শাহীন, পৌর বিএনপির সভাপতি জুলফিকার আলী, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এসময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ড. ফরিদুল ইসলাম এক পরিবারের এতগুলো প্রাণ একসঙ্গে ঝরে যাওয়াকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে অভিহিত করেন। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাগেরহাট জেলা শাখার নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট মাওলানা শেখ আব্দুল ওয়াদুদ, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ মনজুরুল হক রাহাত এবং মোংলা উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক কোহিনুর সরদার।

এই জানাজা যেন এক শোকের মিছিলে পরিণত হয়েছিল। মোংলার ইতিহাসে এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য তারা আগে কখনো দেখেননি বলে জানান। পরিবারের স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, মাত্র একদিন আগেও যে বাড়িতে ছিল আনন্দ আর কোলাহল, সবাই ছিল বরযাত্রার অপেক্ষায়, সেখানে এখন শবযাত্রার শোকের মিছিলে পরিবেশ ভারাক্রান্ত। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে খুলনা ও বাগেরহাটের রামপাল থেকে নিহতদের লাশ এনে রাখা হয় মোংলার সাত্তার লেনের ওই বাড়িতে। এরপর থেকেই বাড়িটির উঠান যেন পরিণত হয়েছিল এক শোক সাগরে। অন্যদিকে, নিহত নববধূ মারজিয়া আক্তার মিতু, তার বোন লামিয়া আক্তার, দাদী রাশিদা বেগম ও নানী আনোয়ারা বেগমের লাশ…

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

আড়াইহাজারে নসিমন-সিএনজি সংঘর্ষে নিহত ১, আহত ২

এক পরিবারের ৯ সদস্যের মর্মান্তিক মৃত্যু: মোংলায় শোকের ছায়া

আপডেট সময় : ০৭:০৫:৩০ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

যে বাড়িতে কয়েকদিন আগেও ছিল বিয়ের সানাই আর অতিথিদের কোলাহল, সেই বাড়ির উঠানেই এখন নয়টি নিথর দেহ। একটি পরিবারের এতগুলো প্রাণ একসঙ্গে নিভে যাওয়ার এই মর্মান্তিক দৃশ্য দেখে উপস্থিত সকলেরই চোখ অশ্রুসিক্ত। মোংলা পৌর শহরের সাত্তার লেনের ওই বাড়িতে শুক্রবার সকাল থেকেই ছিল মানুষের উপচে পড়া ভিড়। আত্মীয়স্বজন, প্রতিবেশী এবং দূরদূরান্ত থেকে ছুটে আসা মানুষগুলো নির্বাক দাঁড়িয়ে ছিলেন এক অভূতপূর্ব শোকের চাদরে ঢাকা পরিবেশে। পুরো এলাকাজুড়ে নেমে এসেছিল এক গভীর শোকের মাতম।

এক উঠানেই পাশাপাশি রাখা হয়েছিল নয়টি লাশ। জানা যায়, পৌর বিএনপি নেতা আব্দুর রাজ্জাক, তার ছেলে, মেয়ে, পুত্রবধূ এবং নাতি-নাতনিদের এক সঙ্গে জানাজা পড়ানো হয়। শুক্রবার জুমার নামাজ শেষে দুপুর ২টায় মোংলা উপজেলা পরিষদ মাঠে নিহতদের এই জানাজা অনুষ্ঠিত হয়। এই হৃদয়বিদারক অনুষ্ঠানে স্থানীয় প্রশাসন, বিভিন্ন রাজনৈতিক দলের নেতৃবৃন্দসহ হাজার হাজার মানুষ অংশ নেন। জানাজা শেষে মোংলা পৌর কবরস্থানে তাদের পাশাপাশি দাফন করা হয়।

জানাজায় উপস্থিত ছিলেন বাগেরহাটের জেলা প্রশাসক আব্দুল বাতেন, পুলিশ সুপার মোহাম্মদ হাসান, রামপাল-মোংলা সার্কেলের সিনিয়র সহকারী পুলিশ সুপার মো. রেফাতুল ইসলাম, মোংলা থানার ওসি শাহীনুর রহমান শাহীন, পৌর বিএনপির সভাপতি জুলফিকার আলী, সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুর রহমান মানিক, উপজেলা বিএনপির সভাপতি আব্দুল মান্নান হাওলাদারসহ স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তিবর্গ। এসময় পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী ড. ফরিদুল ইসলাম এক পরিবারের এতগুলো প্রাণ একসঙ্গে ঝরে যাওয়াকে অত্যন্ত মর্মান্তিক বলে অভিহিত করেন। এছাড়াও বক্তব্য রাখেন বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী বাগেরহাট জেলা শাখার নায়েবে আমির অ্যাডভোকেট মাওলানা শেখ আব্দুল ওয়াদুদ, বাগেরহাট-২ আসনের সংসদ সদস্য মোহাম্মদ মনজুরুল হক রাহাত এবং মোংলা উপজেলা জামায়াতের নায়েবে আমির ও সাবেক ভাইস চেয়ারম্যান অধ্যাপক কোহিনুর সরদার।

এই জানাজা যেন এক শোকের মিছিলে পরিণত হয়েছিল। মোংলার ইতিহাসে এমন হৃদয়বিদারক দৃশ্য তারা আগে কখনো দেখেননি বলে জানান। পরিবারের স্বজনদের সূত্রে জানা যায়, মাত্র একদিন আগেও যে বাড়িতে ছিল আনন্দ আর কোলাহল, সবাই ছিল বরযাত্রার অপেক্ষায়, সেখানে এখন শবযাত্রার শোকের মিছিলে পরিবেশ ভারাক্রান্ত। বৃহস্পতিবার গভীর রাতে খুলনা ও বাগেরহাটের রামপাল থেকে নিহতদের লাশ এনে রাখা হয় মোংলার সাত্তার লেনের ওই বাড়িতে। এরপর থেকেই বাড়িটির উঠান যেন পরিণত হয়েছিল এক শোক সাগরে। অন্যদিকে, নিহত নববধূ মারজিয়া আক্তার মিতু, তার বোন লামিয়া আক্তার, দাদী রাশিদা বেগম ও নানী আনোয়ারা বেগমের লাশ…