ঢাকা ০৩:৩৭ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ২৪ এপ্রিল ২০২৬

রামপালে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৪ জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর

বাগেরহাটের রামপালে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বর-কনেসহ ১৪ জনের মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। নিহত ১৪ জনের মধ্যে বর, তার বাবা, ভাই-বোন, ভাবি, ভাগনে-ভাগ্নিসহ একই পরিবারের নয়জন রয়েছেন। শুক্রবার ভোরে তাদের মরদেহ বাগেরহাটের মোংলার শেহালাবুনিয়ায় পৌঁছায়। অন্যদিকে, কনে, তার বোন, দাদি ও নানির মরদেহ খুলনা জেলার কয়রা উপজেলায় তাদের নিজ বাড়িতে নেওয়া হয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১১ মার্চ বুধবার খুলনার কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নের নাকসা গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সালাম মোড়লের মেয়ে মার্জিয়া আক্তার (মিতু) এবং মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুর রাজ্জাকের ছোট ছেলে আহাদুর রহমানের বিয়ে হয়। কনের বাড়িতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে বরপক্ষ একটি মাইক্রোবাসে মোংলার উদ্দেশে রওনা হয়। বর-কনেসহ উভয় পরিবারের মোট ১৪ জন এই মাইক্রোবাসে ভ্রমণ করছিলেন। মোংলার কাছাকাছি বেলাইবিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি নৌবাহিনীর বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মাইক্রোবাসের চালকসহ ১৪ জনই নিহত হন। দুর্ঘটনায় আহত একজন বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিরা হলেন বর আহাদুর রহমান, তার বাবা আবদুর রাজ্জাক, বরের ভাই আবদুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া (ঐশী) এবং তার ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম। এছাড়াও নিহত হয়েছেন বড় ভাই আশরাফুল আলমের (জনি) স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা (পুতুল) এবং তাদের ছেলে আলিফ, আরফা ও ইরাম। নিহতদের মধ্যে আরও রয়েছেন কনে মার্জিয়া আক্তার (মিতু), তার ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম ও নানি আনোয়ারা বেগম। মাইক্রোবাসের চালক নাঈমের বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার পেড়িখালী ইউনিয়নের সিংগেরবুনিয়া গ্রামে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বর আহাদুর রহমানের মোংলা শহরে একটি মুঠোফোন মেরামতের দোকান ছিল। অন্যদিকে, কনে মার্জিয়া কয়রার নাকসা আলিম মাদ্রাসার আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। নিহত আত্মীয় আবদুল আলীম বলেন, ‘রাজ্জাক ভাইয়ের (বরের বাবা) আদি বাড়ি কয়রায়। বিয়ের অনুষ্ঠানে আমিও ছিলাম। তাঁরা বৃহস্পতিবার দুপুরের পর রওনা দেন। আমার পুত্রবধূ, একমাত্র নাতিও এই দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।’

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

বাংলাদেশে ৩.৭ মিলিয়ন ডলারের ক্রিপ্টোকারেন্সি উদ্ধার: সাইবার অপরাধ দমনে বড় সাফল্য

রামপালে মর্মান্তিক সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত ১৪ জনের মরদেহ পরিবারের কাছে হস্তান্তর

আপডেট সময় : ০১:৩২:২৬ অপরাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

বাগেরহাটের রামপালে এক ভয়াবহ সড়ক দুর্ঘটনায় নিহত বর-কনেসহ ১৪ জনের মরদেহ তাদের পরিবারের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে। পরিবারের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে এবং হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ ও প্রশাসনের হস্তক্ষেপে ময়নাতদন্ত ছাড়াই মরদেহগুলো স্বজনদের কাছে হস্তান্তর করা হয়। নিহত ১৪ জনের মধ্যে বর, তার বাবা, ভাই-বোন, ভাবি, ভাগনে-ভাগ্নিসহ একই পরিবারের নয়জন রয়েছেন। শুক্রবার ভোরে তাদের মরদেহ বাগেরহাটের মোংলার শেহালাবুনিয়ায় পৌঁছায়। অন্যদিকে, কনে, তার বোন, দাদি ও নানির মরদেহ খুলনা জেলার কয়রা উপজেলায় তাদের নিজ বাড়িতে নেওয়া হয়েছে।

পরিবার সূত্রে জানা যায়, গত ১১ মার্চ বুধবার খুলনার কয়রা উপজেলার আমাদী ইউনিয়নের নাকসা গ্রামের বাসিন্দা আবদুস সালাম মোড়লের মেয়ে মার্জিয়া আক্তার (মিতু) এবং মোংলা পৌরসভার ৮ নম্বর ওয়ার্ড বিএনপির সভাপতি আবদুর রাজ্জাকের ছোট ছেলে আহাদুর রহমানের বিয়ে হয়। কনের বাড়িতে বিয়ের আনুষ্ঠানিকতা শেষে বৃহস্পতিবার দুপুর সোয়া ১টার দিকে বরপক্ষ একটি মাইক্রোবাসে মোংলার উদ্দেশে রওনা হয়। বর-কনেসহ উভয় পরিবারের মোট ১৪ জন এই মাইক্রোবাসে ভ্রমণ করছিলেন। মোংলার কাছাকাছি বেলাইবিজ এলাকায় পৌঁছালে বিপরীত দিক থেকে আসা একটি নৌবাহিনীর বাসের সঙ্গে মাইক্রোবাসটির মুখোমুখি সংঘর্ষ হয়। এই মর্মান্তিক দুর্ঘটনায় মাইক্রোবাসের চালকসহ ১৪ জনই নিহত হন। দুর্ঘটনায় আহত একজন বর্তমানে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে জীবন-মৃত্যুর সঙ্গে পাঞ্জা লড়ছেন।

দুর্ঘটনায় নিহত ব্যক্তিরা হলেন বর আহাদুর রহমান, তার বাবা আবদুর রাজ্জাক, বরের ভাই আবদুল্লাহ সানি, বোন উম্মে সুমাইয়া (ঐশী) এবং তার ছেলে সামিউল ইসলাম ফাহিম। এছাড়াও নিহত হয়েছেন বড় ভাই আশরাফুল আলমের (জনি) স্ত্রী ফারহানা সিদ্দিকা (পুতুল) এবং তাদের ছেলে আলিফ, আরফা ও ইরাম। নিহতদের মধ্যে আরও রয়েছেন কনে মার্জিয়া আক্তার (মিতু), তার ছোট বোন লামিয়া আক্তার, দাদি রাশিদা বেগম ও নানি আনোয়ারা বেগম। মাইক্রোবাসের চালক নাঈমের বাড়ি বাগেরহাটের রামপাল উপজেলার পেড়িখালী ইউনিয়নের সিংগেরবুনিয়া গ্রামে।

পরিবারের সদস্যরা জানান, বর আহাদুর রহমানের মোংলা শহরে একটি মুঠোফোন মেরামতের দোকান ছিল। অন্যদিকে, কনে মার্জিয়া কয়রার নাকসা আলিম মাদ্রাসার আলিম প্রথম বর্ষের শিক্ষার্থী ছিলেন। নিহত আত্মীয় আবদুল আলীম বলেন, ‘রাজ্জাক ভাইয়ের (বরের বাবা) আদি বাড়ি কয়রায়। বিয়ের অনুষ্ঠানে আমিও ছিলাম। তাঁরা বৃহস্পতিবার দুপুরের পর রওনা দেন। আমার পুত্রবধূ, একমাত্র নাতিও এই দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।’