ঢাকা ০১:৩৭ অপরাহ্ন, রবিবার, ১৫ মার্চ ২০২৬

সম্পদের শুদ্ধিকরণ ও শ্রীবৃদ্ধির চাবিকাঠি: জাকাত

  • রিপোর্টারের নাম
  • আপডেট সময় : ১১:২৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬
  • ৫ বার পড়া হয়েছে

ইসলামী পরিভাষায় ‘জাকাত’ শব্দটি দুটি গভীর অর্থ বহন করে। আরবি ভাষায় এর একটি অর্থ হলো ‘ক্রমবর্ধমান’ বা ‘বৃদ্ধিপ্রাপ্ত’, এবং অন্যটি হলো ‘শুদ্ধ’ বা ‘পবিত্র’। ভাষাবিজ্ঞানীদের মতে, যে বস্তু ক্রমাগত বৃদ্ধি লাভ করে, তা অবশ্যই শুদ্ধ ও পবিত্র হয়। যেমন, আরবিতে ‘জাকাজ জারউ ইয়াজকুজ জাকাহ’ বাক্যটি বোঝায় যে ফসল যেমন বাড়ে, তেমনি জাকাতও বরকত বাড়ায়। এই বৃদ্ধি তখনই সম্ভব যখন ফসল আবর্জনা মুক্ত ও পরিচ্ছন্ন থাকে। তাই, জাকাত শব্দটি কেবল সম্পদ বৃদ্ধিই বোঝায় না, বরং তা পবিত্র ও খাঁটি হওয়ারও ইঙ্গিত দেয়।

শরিয়তের দৃষ্টিতে, জাকাত হলো ব্যক্তির সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ যা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত হকদারদের মাঝে বিতরণ করা হয়। ইমাম নববী (রহ.) বলেছেন, ধন-সম্পদ থেকে আল্লাহর নির্ধারিত অংশ বের করে দেওয়াই জাকাত, কারণ এর মাধ্যমে সম্পদ ক্রমশ বৃদ্ধি পায় এবং জাকাতদাতা অনেক বিপদাপদ থেকে পবিত্র থাকেন। সুফিরা মনে করেন, জাকাত মানুষকে দুই ধরনের বিপদ থেকে সুরক্ষা দেয়: প্রথমত, পরকালীন জবাবদিহিতা থেকে মুক্তি এবং দ্বিতীয়ত, দুনিয়ার বালা-মুসিবত থেকে পরিত্রাণ। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, জাকাতের অর্থ ‘পবিত্রতা’ যথার্থই অর্থবহ।

অন্যান্য ইসলামিক স্কলারদের মতে, জাকাতের মাধ্যমে ব্যক্তি দুই ধরনের পবিত্রতা অর্জন করে। প্রথমত, সে তার সম্পদকে পবিত্র করে তোলে। দ্বিতীয়ত, তার মন কৃপণতা, স্বার্থপরতা, হিংসা-বিদ্বেষ থেকে মুক্ত হয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে ইমাম ইবনে তাইমিয়া আরও সুন্দরভাবে বলেছেন যে, জাকাত দেওয়ার ফলে দাতার আত্মা নির্মল ও পবিত্র হয়, যার ফলে আল্লাহ তাঁর ধন-সম্পদে বরকত দান করেন এবং তা দিন দিন বাড়তে থাকে। কারজাভি বলেন, এই বৃদ্ধি কেবল ধন-সম্পদে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং ব্যক্তির মন-মানসিকতা ও ধ্যান-ধারণাকেও প্রভাবিত করে, ফলে জাকাতদাতা উন্নত রুচি ও মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন মানুষে পরিণত হন।

ইমাম নববী ‘আল-হাভি’ গ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, আরবি ‘জাকাত’ শব্দটি ইসলামি শরিয়ত প্রবর্তনের আগেও পরিচিত ছিল এবং জাহেলি যুগের কবিতা ও সাহিত্যে এর ব্যবহার পাওয়া যায়। তবে, ইমাম দাউদ জাহেরি এই মতকে নাকচ করে বলেছেন যে, ইসলামের পূর্বে ‘জাকাত’ শব্দের প্রচলন ছিল না।

ট্যাগস :
আপলোডকারীর তথ্য

জনপ্রিয় সংবাদ

ইরানের বিরুদ্ধে সামরিক পদক্ষেপে মার্কিন নাগরিকদের প্রবল অনীহা: নতুন জরিপ

সম্পদের শুদ্ধিকরণ ও শ্রীবৃদ্ধির চাবিকাঠি: জাকাত

আপডেট সময় : ১১:২৫:৫৯ পূর্বাহ্ন, শুক্রবার, ১৩ মার্চ ২০২৬

ইসলামী পরিভাষায় ‘জাকাত’ শব্দটি দুটি গভীর অর্থ বহন করে। আরবি ভাষায় এর একটি অর্থ হলো ‘ক্রমবর্ধমান’ বা ‘বৃদ্ধিপ্রাপ্ত’, এবং অন্যটি হলো ‘শুদ্ধ’ বা ‘পবিত্র’। ভাষাবিজ্ঞানীদের মতে, যে বস্তু ক্রমাগত বৃদ্ধি লাভ করে, তা অবশ্যই শুদ্ধ ও পবিত্র হয়। যেমন, আরবিতে ‘জাকাজ জারউ ইয়াজকুজ জাকাহ’ বাক্যটি বোঝায় যে ফসল যেমন বাড়ে, তেমনি জাকাতও বরকত বাড়ায়। এই বৃদ্ধি তখনই সম্ভব যখন ফসল আবর্জনা মুক্ত ও পরিচ্ছন্ন থাকে। তাই, জাকাত শব্দটি কেবল সম্পদ বৃদ্ধিই বোঝায় না, বরং তা পবিত্র ও খাঁটি হওয়ারও ইঙ্গিত দেয়।

শরিয়তের দৃষ্টিতে, জাকাত হলো ব্যক্তির সম্পদের একটি নির্দিষ্ট অংশ যা আল্লাহ কর্তৃক নির্ধারিত হকদারদের মাঝে বিতরণ করা হয়। ইমাম নববী (রহ.) বলেছেন, ধন-সম্পদ থেকে আল্লাহর নির্ধারিত অংশ বের করে দেওয়াই জাকাত, কারণ এর মাধ্যমে সম্পদ ক্রমশ বৃদ্ধি পায় এবং জাকাতদাতা অনেক বিপদাপদ থেকে পবিত্র থাকেন। সুফিরা মনে করেন, জাকাত মানুষকে দুই ধরনের বিপদ থেকে সুরক্ষা দেয়: প্রথমত, পরকালীন জবাবদিহিতা থেকে মুক্তি এবং দ্বিতীয়ত, দুনিয়ার বালা-মুসিবত থেকে পরিত্রাণ। এই দৃষ্টিকোণ থেকে, জাকাতের অর্থ ‘পবিত্রতা’ যথার্থই অর্থবহ।

অন্যান্য ইসলামিক স্কলারদের মতে, জাকাতের মাধ্যমে ব্যক্তি দুই ধরনের পবিত্রতা অর্জন করে। প্রথমত, সে তার সম্পদকে পবিত্র করে তোলে। দ্বিতীয়ত, তার মন কৃপণতা, স্বার্থপরতা, হিংসা-বিদ্বেষ থেকে মুক্ত হয়ে যায়। এ প্রসঙ্গে ইমাম ইবনে তাইমিয়া আরও সুন্দরভাবে বলেছেন যে, জাকাত দেওয়ার ফলে দাতার আত্মা নির্মল ও পবিত্র হয়, যার ফলে আল্লাহ তাঁর ধন-সম্পদে বরকত দান করেন এবং তা দিন দিন বাড়তে থাকে। কারজাভি বলেন, এই বৃদ্ধি কেবল ধন-সম্পদে সীমাবদ্ধ থাকে না, বরং ব্যক্তির মন-মানসিকতা ও ধ্যান-ধারণাকেও প্রভাবিত করে, ফলে জাকাতদাতা উন্নত রুচি ও মানবিক গুণাবলী সম্পন্ন মানুষে পরিণত হন।

ইমাম নববী ‘আল-হাভি’ গ্রন্থের উদ্ধৃতি দিয়ে উল্লেখ করেছেন যে, আরবি ‘জাকাত’ শব্দটি ইসলামি শরিয়ত প্রবর্তনের আগেও পরিচিত ছিল এবং জাহেলি যুগের কবিতা ও সাহিত্যে এর ব্যবহার পাওয়া যায়। তবে, ইমাম দাউদ জাহেরি এই মতকে নাকচ করে বলেছেন যে, ইসলামের পূর্বে ‘জাকাত’ শব্দের প্রচলন ছিল না।