ইসলামের পঞ্চস্তম্ভের অন্যতম জাকাত, যা কেবল একটি ধর্মীয় বিধানই নয়, বরং একটি শক্তিশালী সামাজিক ও অর্থনৈতিক ব্যবস্থা। পৃথিবীর অন্যান্য অর্থব্যবস্থায় যেখানে দরিদ্র ও অক্ষমদের সহায়তা বিত্তশালীদের ইচ্ছাধীন, সেখানে ইসলামে জাকাত বাধ্যতামূলক। এটি ধনী-দরিদ্রের মধ্যে একটি সেতু বন্ধন তৈরি করে এবং সমাজের দুর্বল অংশের প্রতি ধনীদের দায়িত্ব পালনের নিশ্চয়তা দেয়। জাকাত আদায়কারী ধনীরা সমাজের দরিদ্রদের কাছে এক প্রকার ঋণী থাকেন এবং এই ঋণ পরিশোধের মাধ্যমে তারা দায়মুক্ত হন।
বাংলাদেশে প্রচুর বিত্তশালী মুসলিম রয়েছেন যারা জাকাত আদায় করেন। তবে, এর প্রাতিষ্ঠানিক ও সরকারি ব্যবস্থাপনার অভাবে জাকাত কার্যক্রম দারিদ্র্য বিমোচনে প্রত্যাশিত ভূমিকা রাখতে পারছে না। দুঃখজনকভাবে, জাকাত সংগ্রহ করতে গিয়ে সৃষ্ট বিশৃঙ্খলার কারণে স্বাধীনতার পর থেকে প্রায় তিন শতাধিক মানুষ প্রাণ হারিয়েছেন। যদি একটি সুষ্ঠু সরকারি বা প্রাতিষ্ঠানিক ব্যবস্থাপনার অধীনে জাকাত আদায় করা যায়, তবে এটি দ্রুততম সময়ে দারিদ্র্য বিমোচনের একটি অত্যন্ত কার্যকর মাধ্যম হতে পারে।
২০২৬ সালের ২৯ জানুয়ারি ঢাকা রিপোর্টার্স ইউনিটিতে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে চতুর্দশ জাকাত ফেয়ার উপলক্ষ্যে জানানো হয় যে, বাংলাদেশে সুষ্ঠুভাবে জাকাত আদায় করা সম্ভব হলে এক লাখ কোটি টাকা পর্যন্ত আদায় হতে পারে। এই বিশাল অঙ্কের জাকাত আদায়ের সম্ভাবনা নিয়ে প্রশ্ন থাকলেও, দেশের বিত্তশালীদের সম্পদের পরিমাণ বিবেচনা করলে এর একটি বড় অংশ যে জাকাত হিসেবে আদায় হওয়া উচিত, তা স্পষ্ট।
বাংলাদেশ ব্যাংকের সর্বশেষ তথ্য অনুযায়ী, দেশে ১ লাখ ২৮ হাজারেরও বেশি কোটিপতি রয়েছেন, যাদের ব্যাংকে বিপুল পরিমাণ অর্থ জমা আছে। গণমাধ্যমে প্রকাশিত প্রতিবেদনগুলো থেকেও এই কোটিপতিদের সম্পদ এবং তাদের সম্ভাব্য জাকাতের একটি ধারণা পাওয়া যায়। উদাহরণস্বরূপ, ২০২৩ সালে প্রকাশিত একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছিল যে, শীর্ষ ২১ কোটিপতির সম্পদ পাঁচ হাজার কোটি টাকার বেশি এবং আরও ২৮ হাজার ৯৩১ জনের সম্পদ ১০ কোটি থেকে ৫৩ কোটি টাকা। এই বিপুল পরিমাণ সম্পদ থেকে ২৫ হাজার ৪০৮ কোটি টাকা সম্ভাব্য জাকাত হিসেবে আদায় হতে পারে বলে অনুমান করা হয়। এছাড়াও, শীর্ষ ধনীদের সম্পদের পরিসংখ্যান থেকে জাকাতের বিশাল সম্ভাবনার বিষয়টি আরও স্পষ্ট হয়।
রিপোর্টারের নাম 

























