আজকের ২৩তম তারাবিহ নামাজে পবিত্র কোরআনের ২৬তম পারা তেলাওয়াত করা হবে। এই অংশে সূরা আহকাফ, সূরা মুহাম্মদ, সূরা ফাতহ, সূরা হুজুরাত, সূরা ক্বাফ এবং সূরা জারিয়াতের (১-৩০ আয়াত) তেলাওয়াত অন্তর্ভুক্ত রয়েছে। প্রতিটি সূরার নিজস্ব তাৎপর্য ও শিক্ষা রয়েছে যা মুমিনদের জীবনকে আলোকিত করতে সাহায্য করে।
সূরা আহকাফ (মক্কায় অবতীর্ণ, আয়াত ৩৫) আল্লাহর একত্ববাদ, হযরত মুহাম্মদ (সা.)-এর নবুয়ত এবং পরকাল সম্পর্কে আলোচনা করে। এতে অবিশ্বাসীদের মূর্তি-পূজার অসারতা তুলে ধরা হয়েছে এবং কোরআন ও নবীর (সা.) প্রতি তাদের আপত্তির জবাব দেওয়া হয়েছে। সূরাটিতে মুমিন ও তাদের পিতামাতার প্রতি অনুগত সন্তানের এবং অবিশ্বাসীদের পিতামাতার প্রতি অবাধ্যতার চিত্র ফুটিয়ে তোলা হয়েছে। আদ জাতির ধ্বংসের বর্ণনা এবং জিন জাতির কোরআন শ্রবণের ঘটনাও এই সূরায় স্থান পেয়েছে।
সূরা মুহাম্মদ (মদিনায় অবতীর্ণ, আয়াত ৩৮) তার বিষয়বস্তুর কারণে ‘সূরা কিতাল’ নামেও পরিচিত। এতে ঈমানদার ও কাফিরদের মধ্যকার চিরন্তন সংঘাতের কথা বলা হয়েছে। সত্যের পথে জিহাদ এবং যুদ্ধে শত্রুদের প্রতি কঠোর হওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। যুদ্ধ শেষে বন্দীদের সাথে আচরণের নির্দেশনাও এখানে রয়েছে। সূরাটিতে ঈমানদারদের জন্য আল্লাহর সাহায্য ও জান্নাতের সুসংবাদ এবং কাফিরদের জন্য শাস্তির সতর্কবার্তা দেওয়া হয়েছে। জিহাদ সংক্রান্ত আয়াত শুনে ঈমানদারদের ঈমান বৃদ্ধি পায়, অন্যদিকে মুনাফিকরা ভীত হয়ে পড়ে – এই পার্থক্যও তুলে ধরা হয়েছে।
সূরা ফাতহ (মদিনায় অবতীর্ণ, আয়াত ২৯) হুদায়বিয়ার সন্ধির প্রেক্ষাপটে নাজিল হয়েছিল। এই সূরায় মক্কা বিজয়ের সুসংবাদ, ঈমানদার নারী-পুরুষদের জন্য জান্নাতের প্রতিশ্রুতি এবং কাফির ও মুনাফিকদের জন্য শাস্তির ঘোষণা রয়েছে। হুদায়বিয়ার সন্ধিতে অংশগ্রহণকারী সাহাবীদের প্রতি আল্লাহর সন্তুষ্টি প্রকাশ এবং খায়বার বিজয়ের ভবিষ্যদ্বাণীও এই সূরায় পাওয়া যায়। সূরাটি এই বার্তা দেয় যে, আল্লাহর দীন সকল ধর্মের উপর বিজয়ী হবে।
রিপোর্টারের নাম 

























