জাতীয় সংসদে বিতর্কিত মন্তব্য করে আলোচনার জন্ম দিয়েছেন রংপুর-২ আসনের সংসদ সদস্য ও জামায়াতে ইসলামীর নায়েবে আমির এটিএম আজহারুল ইসলাম। তিনি বলেছেন, ‘চব্বিশের জুলাই বিপ্লব না হলে ফাঁসির সেল থেকে আমি এই জাতীয় সংসদে স্থান পেতাম না।’ বৃহস্পতিবার ত্রয়োদশ জাতীয় সংসদের উদ্বোধনী অধিবেশনে শোকপ্রস্তাবের ওপর আলোচনায় অংশ নিয়ে তিনি এই মন্তব্য করেন।
সংসদ সদস্য এটিএম আজহার ‘জুলাইযোদ্ধাদের’ পাশাপাশি নিজ নির্বাচনি এলাকার ভোটারদেরও ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, ‘তারা ভোট না দিলে আমি এখানে আসতে পারতাম না।’ তিনি জোর দিয়ে বলেন, ‘জুলাইকে অস্বীকার করে জাতীয় সংসদ হতে পারে না।’
প্রয়াত বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়ার প্রশংসা করে এটিএম আজহার বলেন, ‘মরহুম খালেদা জিয়া আপাদমস্তক একজন দেশপ্রেমিক নারী ছিলেন। একসঙ্গে স্বৈরাচারবিরোধী আন্দোলন করেছি। তিনি দেশের স্বার্থের বাইরে অন্য কোনো চিন্তা করেননি। এমনকি তাকে দেশ থেকে বিতাড়িত করার ষড়যন্ত্র করা হলেও তিনি আপসহীন ছিলেন এবং দেশ থেকে বিতাড়িত হননি।’
তিনি তার দল জামায়াতে ইসলামীর প্রয়াত নেতাদের স্মরণ করে বলেন, ‘আমরা যারা একসঙ্গে জেলে ছিলাম, আমাদের নেতা, তারা আজ দুনিয়ায় নেই।’ তিনি সর্বপ্রথম সাবেক আমির ও সফল মন্ত্রী মাওলানা মতিউর রহমান নিজামীর কথা উল্লেখ করেন। এটিএম আজহার দাবি করেন, তাকে যেভাবে ‘মিথ্যা মামলায় ফাঁসির হুকুম দেওয়া হয়েছিল, যেটাকে পরে ‘মিসক্যারেজ অব জাস্টিজ’ বলা হয়েছে’, একই কারণে মিথ্যা মামলায় মাওলানা নিজামীকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে। তিনি একে ‘মিথ্যা প্রপাগান্ডা ও মিথ্যা নাটক সাজিয়ে হত্যা’ বলে অভিহিত করেন।
পৃথিবী পরিচিত কোরআনের পাখিখ্যাত আলেমে দ্বীন মাওলানা দেলোয়ার হোসাইন সাঈদীর কথা স্মরণ করে তিনি বলেন, ‘তাকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে ভুল অথবা বিনা চিকিৎসায় হত্যা করা হয়েছে।’ একইভাবে বিদায় নেওয়া দলের নেতা আলী আহসান মোহাম্মদ মুজাহিদ, আব্দুল কাদের মোল্লা, কামারুজ্জামান, মাওলানা আব্দুস সুবহানসহ অন্যান্য নেতা এবং ‘জুলাইযোদ্ধাদের’ গভীর শ্রদ্ধার সঙ্গে স্মরণ করে তাদের মাগফিরাত কামনা করেন তিনি।
রিপোর্টারের নাম 
























